ঈদের ছুটিতে সিলেটে ৫ লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ মার্চ ২০২৬, ৮:৩২:৩৫ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো ছিল পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত। বিগত আন্দোলন, নির্বাচন ও রমজান সহ নানা প্রেক্ষাপটে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উপস্থিতি ততটা ছিল না। ঈদ বা বিভিন্ন উপলক্ষ এলে পর্যটকেরা ঘুরতে আসেন সিলেটে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে ব্যবসা আশানুরূপ হয়নি বলে জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সিলেট দেখতে প্রতিবছরই ভীড় জমান পর্যটকেরা। তবে বিভিন্ন উপলক্ষ এলে তা বেড়ে যায়। মানুষ ছুটি পেলেই প্রকৃতি দেখতে সিলেটে চলে আসেন। সেখানে এসে ঘুরে যান। মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরনার শীতল জল আর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পাথরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে চলেন সিলেটের সাদাপাথর, জাফলং, বিছানাকান্দি, উৎমা, পান্তুমাই। সেখানে গিয়ে সকল ক্লান্তি দূর করতে তারা পানিতে গা ভেজান। সেখানে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে আসা পর্যটকরা মেতে উঠেন জলকেলিতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা স্বচ্ছ নীল জলে সাঁতার কাটছেন। এই ঠান্ডা জলে সাঁতার কেটে নিজেদের ক্লান্তি দূর করছেন তারা। এছাড়া রাতারগুল ও চা-বাগানেও ছিল পর্যটকদের ভীড়।
পর্যটকদের বাড়তি চাপের কথা মাথায় রেখে এবার সিলেটের প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রে স্থানীয় প্রশাসন ও টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নৌকার ভাড়া নির্ধারণ এবং পর্যটকদের চলাচলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করেন স্বেচ্ছাসেবকরা।
সিলেটের সাদাপাথরের হোটেল আল বেলার মালিক লিটন মিয়া জানান, ঈদের দিন থেকে পর্যটকেরা সাদাপাথরে আসা শুরু করেছেন। অনেকটা গ্যাপ শেষে মানুষজন আসছেন। মোটামুটি ব্যবসা হয়েছে। তবে আশানুরূপ হয়নি। এবছর তেমন মানুষজন আসেন নি। এখন দেশের পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত হয়েছে। আশা করছি এখন থেকে পর্যটকেরা ঘুরতে আসবেন।
জাফলং গ্রিন রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জাফলং পর্যটন হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি বাবলু বখত জানান, এবার মোটামুটি ভালো ব্যবসা হয়েছে। হোটেলে বুকিং ভালো ছিল। আগেরবারের থেকে এবার ব্যবসা ভালো হয়েছে।
সিলেট নগরীর হোটেল গ্রান্ড ভিউর জিএম রায়হান আহমদ জানান, এবার গতবারের তুলনায় ৩০ ভাগও ব্যবসা হয়নি। অন্যান্য সময় ঈদ, পূজা বা বিভিন্ন উপলক্ষ থাকলে আমাদের একটি রুমের জন্য অন্তত ১০ জন লোক যোগাযোগ করতো। তখন অনেক চাপ সহ্য করা লাগতো। কিন্তু, এবছর সেরকমটা হয়নি। শুধু আমাদের না, অন্যান্য হোটেলেও যোগাযোগ করেছি। তারাও একই কথা বলেছেন। হোটেল-মোটেল অনেকটাই খালি। যার কারণে আশানুরূপ ব্যবসা হয়নি এবার ঈদে।
একই কথা সিলেটের বেশ কয়েকটি হোটেল মালিকেরও।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসন সিংহ বলেন, মোটামুটি ৫ লক্ষাধিকের মতো পর্যটক সিলেটে আসছিলেন। সিলেটে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নি। অনেক হোটেল-মোটেলের মালিক জন বলছেন তাদের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ ভাগের মতো বুকিং হয়েছে। তবে পর্যটকের উপস্থিতি খারাপ হয়েছে বলে মনে হয় নি। কোথাও বেশি গেছেন আবার কোথাও হয়তো কম ছিল। তাদের সেবা দেওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছিল।



