সিলেট-১ আসনে আরিফুল হক চৌধুরীর প্রার্থিতা ঘোষণা নিয়ে কৌতূহল
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১২ জুলাই ২০২৫, ৩:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন
মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম :
সিলেট-১ আসনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর প্রার্থিতা ঘোষণা নিয়ে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে তিনি আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণার ঘোষণা দেন।
এ সময় সাংবাদিকদের আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। এ নির্বাচনের জন্য আমি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছি। বিশেষ করে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সিলেট ডিভিশনের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক হিসেবে চাই। তিনি যদি এ আসনে আসেন, তাহলে আমরা নগরবাসী তথা পুরো বিভাগের মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত হবো। আর তিনি (তারেক রহমান) যদি কোনো কারণে আসতে না পারেন, তাহলে আমি এ আসনের ব্যাপারে সবার দোয়া চাই। আমি মসজিদের মুসল্লিদের ইজাজত(অনুমতি) নিয়েছি যে, আমি কার্যক্রম শুরু করবো কি না। আমাকে আমার এলাকার মুসল্লিয়ান, এই শহরের মুরুব্বিয়ানরা আমাকে ইজাজত দিয়েছেন। আমার দাবি হচ্ছে, সিলেট-১ আসনে আমার নেতা জনাব তারেক রহমান সাহেবকে আমার বিভাগের উন্নয়নের জন্য, আমার এই সিলেটের উন্নয়নের জন্য আমরা সবাই সেক্রিফাইস করবো তিনি আমাদের মধ্যে আসুন। আর আমি এই শহরের আপনাদের দীর্ঘদিনের সেবক হিসেবে ইজাজত নিয়েছি, আমি আজকে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমার কার্যক্রম শুরু করলাম।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, এই মসজিদে (ব্ন্দরবাজার কেন্দ্রীয় মসজিদ) আসার ও নামাজ পড়ার কারণ হচ্ছে, সিলেটের বেশিরভাগ মুরুব্বি এখানে এসে নামাজ আদায় করেন। এছাড়া আমাদের মহান নেতা মরহুম এম সাইফুর রহমান মৃত্যুর আগের দিনও এই মসজিদে নামাজ আদায় করেছেন।
এদিকে, আরিফুলের এ ঘোষণার পর এ নিয়ে সোস্যাল মিডিয়া নানামুখী আলোচনা হচ্ছে। ইউসুফ সেলু নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সিলেট মহানগরের উন্নয়নের রূপকার নগরবন্ধু জননেতা আরিফুল হক চৌধুরীর সাথে আমরা আছি।’ মো: তুহিন নামের আরেক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘চাচার সিলেট-৪ শেষ, এখন-১ নিয়ে পরে আবার কোন দিকে।’ কিছুদিন পূর্বে আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-৪(কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনে প্রার্থী হতে পারেন মর্মে গুঞ্জন উঠেছিল। ২০১৩ ও ২০১৮ সালে দুদফায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী।
এ প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েছ লোদী জানান, প্রার্থিতা ঘোষণা দেয়ার অধিকার প্রত্যেক রাজনৈতিক কর্মীর রয়েছে।
রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে কেউ প্রার্থী হবার ইচ্ছা পোষণ করতেই পারেন। তবে, আরিফুল হকের প্রার্থিতার বিষয়ে দলীয়ভাবে তারা অবগত নন বলে জানান তিনি।
বিএনপি নেতা-কর্মীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এরপর থেকে তিনি মাঠে সরব রয়েছেন। গতকাল শুক্রবারও তাকে নির্বাচনী মাঠে দেখা গেছে। কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে এ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রার্থী হতে পারেন বলে খবর বেরিয়েছে। এ অবস্থায় আরিফুল চৌধুরী এ আসনে প্রার্থিতা ঘোষণা করলেন।
১৯৯১ সালে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বাবা খন্দকার আব্দুল মালিক। ওই বছর সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে কেবল সিলেট-১ আসনে বিজয়ী হয়েছিল বিএনপি। ১৯৯৬ সালে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন সাবেক স্পিকার প্রয়াত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। ২০০১ সালে সিলেট সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে বিএনপির এম সাইফুর রহমানের কাছে হেরে যান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে সাইফুর রহমানকে বিপুল ভোটে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী না থাকায় বিনা ভোটেই দ্বিতীয় মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এ এম এ মুহিত। এছাড়া, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
এর আগে ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়ান ফরিদ গাজী এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন।
প্রসঙ্গত, সিলেট-১ আসনে যে দলের প্রার্থী জয়ী হয় সেই দলই সরকার গঠন করে-এ রকম ‘মিথ’ সারাদেশে প্রচলিত। সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও সিলেট সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে স্বাধীনতার পর থেকেই এমন রীতি চলে আসছে। এ আসনেই ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরান (র.) এর মাজার অবস্থিত। কাজেই, এ আসনটি ‘বাগে’ নিতে মনোযোগ থাকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর। অনেক যাচাই-বাছাই করে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয় এ আসনে। এ কারণে এ আসনটি প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে খুবই মর্যাদাপূর্ণ।




