৪২ বছরে পাঠকপ্রিয় দৈনিক সিলেটের ডাক
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ জুলাই ২০২৫, ১১:৫১:১১ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার: বহমান সময়ের পথপরিক্রমায় সিলেটের বহুল প্রচারিত দৈনিক সিলেটের ডাক ৪১ বছর পেরিয়ে আজ ৪২ বছরে পদার্পণ করলো। এই দীর্ঘসময় মানে ৪১ বছর ধরে বৃহত্তর সিলেটের মানুষের কথা বলা, তাদের অধিকার সংরক্ষণে পাশে থাকা, গণতান্ত্রিক এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করা। সর্বোপরি সকল শ্রেণিপেশার মানুষের অনুপম ভালোবাসা, অনুপ্রেরণায় সম্ভব হয়েছে এতোদূর আসা। একইসাথে সিলেটের ডাক বাংলা ভাষা, বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্যকে ধারণ করেছে সবসময়। বুকে সাহস জাগায় ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই অভ্যুত্থানের মতো মহাজাগরণ। আপোসহীন এই যাত্রাপথে অনেক বাধা-বিপত্তি, চড়াই-উৎরাইও আমাদের সাথে ছিলো। আমরা সব বাধা পেরুতে সক্ষম হয়েছি। আমরা এগিয়ে গেছি আলোর পথে, সত্যের পথে। এখনো সেই পথেই আছি আমরা। আমাদের নিরবচ্ছিন্ন এগিয়ে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি ও অনুপ্রেরণায় ছিলেন আমাদের সম্মানিত পাঠক। আমরা বলবো, এটা ৪১ বছরের সবচেয়ে সফলতা, অনেক বড় পাওয়া।
পত্রিকার সবগুলো বিভাগ নানামুখী সমস্যা-সম্ভাবনার দরজা সব সময় খুলে রেখেছে পাঠকের জন্য। এই পথচলা শেষ হবেনা কখনো-যতদিন পর্যন্ত পাঠকরা আমাদের পাশে থাকবেন।
সিলেটের ডাক প্রতিদিন ঘুমভাঙার আগে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে নুষের। যায়। তথ্যবহুল অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলো অপেক্ষায় থাকা সেই পাঠককে আশ্বস্ত করে। অনেক পরিবর্তন হয়েছে বাংলাদেশের। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এমন একটি পত্রিকা ধরে রাখতে হলে অনেক বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হয়। এ গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে প্রতিনিয়ত। সেই বাস্তবতা থেকে আজকের সুন্দরময় দিনটি পাঠক, গ্রাহক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। স্বাধীনতা পরবর্তী ডিক্লারেশনপ্রাপ্ত সিলেটের প্রথম দৈনিক হিসেবে একটি আঞ্চলিক পত্রিকা জনপ্রিয়তার তুঙ্গে বিচরণ করে ৪১ বছর অতিক্রম করা আনন্দ ও গৌরবের বিষয়। অনেক ত্যাগ তিতীক্ষা প্রতিকূলতার মাঝেও সিলেটের ডাক সুনাম ও জনপ্রিয়তার একক আধিপত্য দখল করে এগিয়ে যাচ্ছে সিলেটবাসীর মুখপত্র হয়ে। ছাপার পাশাপাশি সিলেটের ডাক অনলাইনে নিয়মিত সংবাদ পরিবেশন করে মানুষের পাশে রয়েছে। অনলাইন ভার্সনে প্রতিদিনের নানা খবরাখবর এবং আঞ্চলিক, দেশীয় ও বৈশ্বিক সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে। একই সাথে আছে সিলেটের ডাক মাল্টিমিডিয়া। নানা সংকটে, দুর্বিপাকে সিলেটের ডাক পরিবারকে সম্পূর্ণ মানসিক স্বস্তিতে রাখেন সিলেটের ডাক-এর সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি দানবীর ড. রাগীব আলী। এই কঠিন সময়ে সার্বক্ষণিক সাহস, শক্তি ও প্রেরণা যুগিয়ে চলেছেন তিনি। একইসাথে প্রতিমুহূর্ত আমাদের শক্তি যোগায়, সত্য উচ্চারণ করতে অনুপ্রেরণা দেয় ‘বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী’ নামটি। এই নামের মাহাত্ম্য আমরা বহন করে চলেছি একচল্লিশ বছর ধরে। দৈনিক সিলেটের ডাক এর সফল সম্পাদক এই মহীয়সী নারী এখনো আমাদের বাতিঘর। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমরা বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ছাড়াও পত্রিকার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন সকল প্রয়াতকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।
সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সময়ের দাবি মেটানো। সেই দিক থেকে পত্রিকাটি তার প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই সময়ের দাবি মিটিয়ে এসেছে। সিলেটের ডাক-এর সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি, দানবীর ড. রাগীব আলী একক পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পত্রিকাটি পরিচালনা করছেন। সিলেটের ডাক-এর জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় শক্তি এর তারুণ্য। এখানে যারা কাজ করেন সকলেই মেধাবী, প্রযুক্তিমনস্ক, চিন্তায় প্রাগ্রসর, আধুনিক, পরিশ্রমী ও নিরলস।
সিলেটের ডাক দেশ, জাতি ও সমাজের কাছে দায়বদ্ধ। এ দায়বদ্ধতাকে কখনও এড়িয়ে যাইনি আমরা। এজন্য প্রতিদিন আমরা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হই, অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করি।
আমাদের কাছে ব্যক্তির চেয়ে বৃহত্তর স্বার্থটাই বড়। এজন্য বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সংরক্ষণে আমরা ছিলাম আন্তরিক এবং নির্ভীক। আমাদের এই নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা যে কোনো মহৎ কাজকে যেমন উৎসাহিত করছি, তেমনি মন্দ অপকর্মের বিরুদ্ধে আমাদের কণ্ঠ সোচ্চার।
আমরা একথা ভেবে আপ্লুত বোধ করি যে, সিলেট বিভাগের গন্ডি ছাড়িয়ে সারাদেশে সিলেটের ডাক-এর একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
আমরা চেয়েছি পারিবারিক কাগজ হতে। আপনাদের পরিবারের একজন সদস্য হয়ে উঠতে। আমরা তাই এমন কিছু প্রকাশ করি না, যা আমাদের সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক মূল্যবোধে আঘাত হানে। আঞ্চলিক পত্রিকা হলেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদাও এই কাগজের মাধ্যমে মেটানো যায়। জনপ্রিয়তার শীর্ষস্থানটি ধরে থাকা দৈনিক সিলেটের ডাক এর ৪২তম বর্ষে পদার্পণের বিশেষ সংখ্যাটি বের হবে, ২০ জুলাই, রোববার।
সম্মানিত পাঠক, শুভানুধ্যায়ী, লেখক-লেখিকা, বিজ্ঞাপনদাতা, বিপণনকারীসহ সকল মহলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনাদের সবার সহযোগিতা, ভালোবাসা নিয়ে দৈনিক সিলেটের ডাক আগামীর পথও পাড়ি দিতে চায়। সেই প্রত্যাশা বরাবরের মতোই রইলো।




