শাবির নবীনবরণে চরম অব্যবস্থাপনা, বসার জায়গা না পেয়ে হতাশায় ফিরলেন শিক্ষার্থীরা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ জুলাই ২০২৫, ৯:৪৩:৫৯ অপরাহ্ন
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার (২২জুলাই) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন বরণে এ অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করা যায়।
জানা যায়, আয়োজক কমিটি প্রায় দুই হাজারের অধিক নবীন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকের জন্য মাত্র পনেরো শত আসনবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম ও অডিটোরিয়ামের বাইরে অল্পসংখ্যক চেয়ার দিয়েই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে দাঁড়িয়ে থেকে প্রোগ্রাম উপভোগ করেছেন। কেউ কেউ বাইরে থেকে প্লাস্টিকের চেয়ার এনে অডিটোরিয়ামের দরজার সামনে বসেই নবীনবরণে অংশগ্রহণ করেন। এমনকি অনেকেই জায়গা না পেয়ে অনুষ্ঠান শেষ না করেই হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিসংখ্যান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা জেনেছি যে অন্যান্য বছর মিলনায়তনের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় দুই পর্বে অরিয়েন্টেশন হয়। প্রশাসনের উচিত ছিল এ বছরও একই নিয়ম অনুসরণ করা।”
তারা আরও বলেন, “আমরা সবাই শুরু থেকেই বাইরে বসে আছি। ভিতরে জায়গা নেই। দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে, না হয় সিঁড়িতে বসতে হচ্ছে। তাছাড়া অনেক শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে থাকায় প্রচণ্ড ভিড় হয়েছে।”
এক অভিভাবক বলেন, “গত বছর আমার ছেলেকে ভর্তি করিয়েছিলাম। তখন ক্লাস শুরুর পূর্বেই অরিয়েন্টেশন হয়েছিল এবং আমি ভিতরে বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পেরেছিলাম। কিন্তু এ বছর আমার মেয়ে চান্স পেয়েছে। তার সাথে এসে সত্যি হতাশ হয়েছি। আমি বাইরে আর মেয়ে ভিতরে। অনেকক্ষণ যাবৎ একা বসে আছি। মেয়েটাও হয়তো ভিতরে চিন্তিত হয়ে আছে। আমি বলব, এটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অদূরদর্শিতা।”
এছাড়া নবীনবরণে প্রদর্শিত ডকুমেন্টারি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। অভিযোগ রয়েছে, ওই ডকুমেন্টারিতে বিভিন্ন দপ্তরের পরিচিতি ও ‘জুলাই আন্দোলন’-এ অংশ নেওয়া বড় একটি অংশ স্থান পায়নি, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শাবি শাখার আহ্বায়ক ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া একজন শিক্ষার্থীকে রাখায় পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলেছেন, কোন বিবেচনায় একটি নির্দিষ্ট ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলো? এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। শাখা শিবির, ছাত্রদলসহ অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
তীব্র গরমেও সেখানে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা ছিল না এবং বসার ব্যবস্থাও ছিল অত্যন্ত অপ্রতুল—এমন অভিযোগও করেছেন শিক্ষার্থীরা।
কমপক্ষে পাঁচজন নবীন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, “ছোটবেলা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এক ধরনের স্বপ্ন ও বড় ধারণা ছিল। কিন্তু আজকের অব্যবস্থাপনা সেই ভাবনাকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে।” তারা প্রশ্ন তোলেন, “আয়োজকরা কি জানতেন না যে আমন্ত্রিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সংখ্যা অডিটোরিয়ামের ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি? তা সত্ত্বেও কেন এমন আয়োজন করা হলো?”
এ বিষয়ে ভর্তি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ বদিউজ্জামান ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, “এটা সকল কর্তা ব্যক্তিদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। দুই পর্বে নবীনবরণ হলে বিকেলে শিক্ষার্থীরা থাকেন না, ফলে বিকেলের প্রোগ্রাম নীরস হয়ে পড়ে।” তিনি আরও বলেন, “আমি ভর্তি কমিটির সভাপতি হলেও আমার উপর আছেন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ। তবে নির্দিষ্ট সংগঠনের শিক্ষার্থীকে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সূচনালগ্নেই এ ধরনের বিশৃঙ্খল আয়োজন নবীন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে।




