জামিনে গিয়ে পলাতক আসামি, সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী পরিবারের
তুহিন হত্যার ৬ বছর : এখনও বিচার পায়নি পরিবার
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ জুলাই ২০২৫, ৪:১৭:৩৯ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমসি কলেজের শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন তুহিন (১৯) হত্যার ৬ বছর পূর্ণ হলেও বিচার পায়নি পরিবার। হত্যাকাণ্ডের মূলহোতারা এখনো গ্রেফতার হয়নি আর গ্রেফতারকৃতরা জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছে। এমনকি অনেকের দেশ ছাড়ার গুঞ্জনও রয়েছে। আসামীরা এখনো বাইরে থাকায় অনেকটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তুহিনের পরিবার।
আজ বৃহস্পতিবার তুহিনের হত্যাকাণ্ডের ৬ বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই দুপুরে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার আলমপুরের কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্রের সামনে খুন হন তুহিন।
নিহত তুহিন গোলাপগঞ্জ উপজেলার হেতিমগঞ্জের কোনাচর দক্ষিণভাগ পলিকাপন গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে এবং এমসি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষার্থী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই সিলেটের আলমপুরস্থ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কম্পিউটার ল্যাবে নির্ধারিত স্থানে জুতা রেখে প্রবেশ করেন তুহিন। ল্যাব থেকে বের হয়ে নির্ধারিত স্থানে জুতা না পেয়ে খোঁজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তার জুতা জোড়া রাহাত সাদী কামরান নামে এক প্রশিক্ষণার্থীর পায়ে দেখতে পেয়ে নিজের দাবি করলে এ নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়।
বিষয়টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মীমাংসা করে দিলেও কেন্দ্রের বাইরে আসা মাত্র কামরান সহ কয়েকজন তুহিনের ওপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত হন তুহিন। সহপাঠীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পরে এ ঘটনায় তুহিনের চাচা মো. নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের মোগলাবাজার থানায় ১০ জনের নামোল্লেখ ও ২/৩ জনকে অজ্ঞাত করে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ ও র্যাব ৩ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মামলার ৬ নম্বর আসামী আবু কুদরত তায়েফ, ৭ নম্বর কামরুল ইসলাম আনাচ ও ৮ নম্বর আসামী ফারুক আহমদ হদয়। তারা তিনজনই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করেন। পরে তায়েফ ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি পুলিশ রিপোর্ট দাখিল পর্যন্ত জামিন পায়। আর আনাচ ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারী ১ বছরের জন্য জামিন পেলেও এখনো পলাতক রয়েছে। হৃদয় ২২ সালের ৬ মার্চ থেকে মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার আগপর্যন্ত জামিনে রয়েছে।
আদালত ইতিমধ্যে এ মামলায় ১১ জনকে অভিযুক্ত করে নথি প্রকাশ করে। তারা হলেন- রাহাত সাদী কামরান, শিহান হোসেন, মো. এমদাদুর রহমান এমাদ, আজাদ আহমদ আল রাহী, ফেরদৌস মাহমুদ, মো. আবু কুদরত তায়েফ, মো. কামরুল ইসলাম ওরফে আনাচ, ফারুক আহমদ হৃদয়, বাবুল কান্ত নাথ, সাইম আহমদ ও তারেক আহমদ।
এর মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত কামরান ২০ সালের ২৩ জানুয়ারি ৪ সপ্তাহের জামিন পাওয়ার পর থেকে পলাতক। সে বিদেশে চলে গেছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। আর শিহাব, এমাদ, রাহী, ফেরদৌস বাবুল, সাইম ও তারেক জামিনে রয়েছেন।
এবিষয়ে তুহিনের বড়বোন ছাবেরা খানম জানান, আমার একমাত্র ছোট ভাই তানভির হোসেন তুহিনকে বিনাদোষে নির্মমভাবে পিঠিয়ে হত্যা করা হয়। আজ ছয় বছর হয়ে গেল এখনো তার হত্যার কোনো বিচার পাই নাই। খুনিরা পলাতক। তারা এখন বাইরে ওপেন ঘুরতেছে। আমি কী আমার ভাই হত্যার বিচার পাবো না? কেন খুনিরা বাহিরে? তাদের কী আইনের আওতায় আনা যাবে না? না কী প্রশাসনের দুর্বলতা? সিসিটিভির ফুটেজ থাকা অবস্থায়ও খুনিরা এখনো কেন বাহিরে? সরাসরি খুনের সাথে জড়িত থাকার পরও আদালত কিভাবে তাদের জামিন দেয়, আমরা বুঝি না। তারা সকলে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় অন্যায়ভাবে তাদেরকে জামিন দিয়ে বাইরে আরো খুন করার জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত এমাদ সহ সকল আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে। যাতে করে আর কোনো মা-বাবা তাদের একমাত্র ছেলে না হারায়। আমরা আমার ভাইয়ের হত্যার সাথে জড়িত সকল খুনীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের দাবী জানাচ্ছি।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইয়ামিন চৌধুরী জানান, এই মামলার বিচার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এখন সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। ইতিমধ্যে ১০ জনের মধ্যে ৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আমরা চেষ্টা করছি তুহিনের হত্যার সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে। আগামী ২৭ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।




