১২৯ পদের বিপরীতে খালি ৯১টি পদ
সিলেট অঞ্চলে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ জুলাই ২০২৫, ৬:০৪:১৬ অপরাহ্ন
আনাস হাবিব কলিন্স :
সিলেট অঞ্চলে স্বাস্থ্য বিভাগের সংকট কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। ডাক্তারের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সংকট। চার জেলা সদর হাসপাতালসহ ৩৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯১টি টেকনোলজিস্টের পদ খালি রয়েছে। ১২৯ পদের মধ্যে কর্মরত মাত্র ৩৮ জন টেকনোলজিস্ট। ফলে, প্রশিক্ষণহীন লোক দিয়ে স্যাম্পল কালেকশন ও অযোগ্য টেকনিশিয়ান দিয়ে সেবা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চার জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে টেকনোলজিস্টের ১২৯টি পদের মধ্যে সিলেটে ২৬, মৌলভীবাজারে ১৪, সুনামগঞ্জে ২৯ এবং হবিগঞ্জে ২২টি পদ খালি রয়েছে। বর্তমানে সিলেটে ১৮ জন, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জে ৫ জন করে এবং হবিগঞ্জে ১০ জন কর্মরত আছেন। এসব টেকনোলজিস্টের মধ্যে ল্যাব টেকনোলজিস্টের সংখ্যা ৮৯টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ২৮ জন। শূন্য পদের সংখ্যা ৬১টি।
সিলেটে ২৯ জন ল্যাব টেকনিশিয়ানের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১ জন। ফাঁকা পদ রয়েছে ১৮টি। মৌলভীবাজারে ১৩ জনের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৪ জন। ফাঁকা পদ রয়েছে ৯টি। হবিগঞ্জে ২৪টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৮ জন। ফাঁকা পদ সংখ্যা ১৬টি এবং সুনামগঞ্জে ২৩টি পদের মধ্যে কর্মরত ৫ জন। এই জেলায় ১৮ জন ল্যাব টেকনিশিয়ানের পদই শূন্য রয়েছে।
তেমনিভাবে চার জেলায় রেডিওগ্রাফি টেকনোলজিস্টের ৪০টি পদ থাকলেও কর্মরত রয়েছেন ১৫ জন। রেডিওগ্রাফি টেকনোলজিস্টের ৩০টি পদই শূন্য রয়েছে। রেডিওগ্রাফি টেকনোলজিস্টের জেলাওয়ারি সংখ্যা হচ্ছে সিলেটে ১৫ জনের মধ্যে কর্মরত ৭ জন। পদ শূন্য ৮টি। মৌলভীবাজারে ৬টি পদের মধ্যে কর্মরত ১ জন। বাকি ৫টি পদই শূন্য। হবিগঞ্জে ৮টি পদের মধ্যে কর্মরত ২ জন। শূন্যপদ ৬টি এবং সুনামগঞ্জে ১১টি পদের মধ্যে ১১টিই খালি রয়েছে।
শুধু জেলা ও উপজেলাগুলোতেই নয়, খোদ বিভাগীয় শহর সিলেটেও টেকনিশিয়ান ও ডাক্তারের অভাবে প্রশিক্ষণহীন লোক দিয়ে স্যাম্পল কালেকশনের ঘটনা ঘটছে। এমনকি, অপারেশন করা হচ্ছে অযোগ্য এসব ডাক্তার দিয়ে। এমন অভিযোগে গত মঙ্গলবার সিলেট নগরীর ৬ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাছাড়া, অনিয়মের অভিযোগে একটি হাসপাতালকে সিলগালা করা হয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, টেকনোলজিস্টের অভাবে সাধারণ মানুষের স্থাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ টাকার মেশিনারি জিনিসপত্র অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। এসব বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। তদুপরি সীমিত জনশক্তি দিয়ে আন্তরিকতার সাথে কাজ করছেন। স্বাস্থ্যখাতে গতি আনতে জনবল সংকট দ্রুত দূর করার দাবি জানান তিনি।
ভুক্তভোগীরা জানান, সিলেট বিভাগের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সেবা না বাড়লেও বেড়েছে শয্যা। ৫০ শয্যায় উন্নীতের নামে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে কেবল ভবনই তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকসহ লোকবল নিয়োগ, যন্ত্রপাতি প্রদানে নেই তেমন কোনো আগ্রহ। এতে সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয়ে তৈরি ভবনগুলো কোনো কাজেই আসছে না।
জানা গেছে, ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে পরিমাণ চিকিৎসক, ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতি এবং জনবল থাকার নিয়ম রয়েছে সিলেট বিভাগের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রয়েছে এর বিশাল ঘাটতি। যার ফলে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা। দেশের অন্যান্য বিভাগের চেয়ে সিলেট বিভাগ স্বাস্থ্যসেবা খাতে পিছিয়ে রয়েছে। এরই মধ্যে বড় সংকট তৈরি হয়েছে মেডিকেল ল্যাব টেকনোলজি, রেডিওগ্রাফি (এক্সরে) টেকনোলজিস্ট, প্যাথলজিস্ট পদ নিয়ে। এই পদগুলোতে জনবল নেই বললেই চলে। এই পদগুলোতে নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে সচেতন নাগরিক কমিটি সিলেট চ্যাপ্টারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট ইরফানুজ্জামান চৌধুরী বলেন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক ও অমানবিক। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে তিনি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।




