চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতাকে পুলিশে দিল বিএনপি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ জুলাই ২০২৫, ১:৩৯:১৫ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : চাঁদাবাজি ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ভবনে তালা দেওয়ার অভিযোগে শেরপুর সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নে ছাত্রদলের দুই নেতাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। গতকাল বুধবার (২৩ জুলাই) রাতে ইউনিয়নের কুসুমহাটি বাজার এলাকায় ইউপি ভবনের সামনে থেকে তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
আটককৃতরা হলেন- ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. সবুজ আহাম্মেদ (৩৫) এবং বর্তমান (স্থগিতকৃত) সভাপতি মো. আল আমিন ইসলাম সাগর (২৬)। তারা বড় ঝাউয়েরচর এলাকার আলতাব হোসেন ও কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া এলাকার আব্দুল খালেকের সন্তান।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, সবুজ ও সাগর দীর্ঘদিন ধরে দলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি করছিলেন। ওইদিন তারা বলায়েরচর ইউপি চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত করেন, লছমনপুর ইউপি চেয়ারম্যানের মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন এবং পরিষদের সচিব ও কর্মচারীদের বের করে দিয়ে ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পাশাপাশি আশপাশের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও চাঁদা দাবি করেন।
দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ব্যবসায়ীদের সহায়তায় ওই রাতেই সবুজ ও সাগরকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। ঘটনার পরপরই শেরপুর সদর উপজেলা ছাত্রদল থেকে আল আমিন ইসলাম সাগরকে সভাপতি পদসহ প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শারদুল ইসলাম মুরাদ ও সদস্য সচিব সুমন আহমেদ। তারা জানান, এর আগেই ১৭ জুলাই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সাগরের সভাপতির পদ স্থগিত করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় লছমনপুর ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান ও মহিলা দলের নেত্রী আলেয়া বেগম বাদী হয়ে সবুজ, সাগরসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬–৭ জনের বিরুদ্ধে শেরপুর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে নাম রয়েছে ছায়দুর রহমান (৩২), নূর শাহ আলম পাপ্পু (৩৮), ও নূরনবী ইসলাম (২৫)-এরও।
লছমনপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বলেন, ‘এই ছেলেগুলোর কারণে আমাদের দলের ক্ষতি হচ্ছে। আজ তারা ইউপি ভবনে তালা দিয়েছে, আরেক চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত করেছে।’ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব সফিকুল ইসলাম জানান, ‘তারা বিভিন্ন জায়গায় চাঁদা তুলছে, ইদ্রিস কোম্পানি ও ব্যবসায়ী ফারুকের কাছেও গিয়েছে। এজন্য আমরা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।
ইউপি সদস্য শাহ আলম বলেন, ‘এরা পরিষদে এসে চাঁদা দাবি করে। আমরা তাদের কঠিন শাস্তি চাই।’ পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শরিফ আল জায়েদ জানান, ‘চেয়ারম্যান উপস্থিত না থাকায় আমাকে রুম থেকে বের করে দিয়ে ভবনে তালা দেয় অভিযুক্তরা।’




