এমসি কলেজ ছাত্রদলের কাউন্সিল কাল
সরাসরি ভোটে নতুন নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে এমসি কলেজ ছাত্রদল
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১০ আগস্ট ২০২৫, ১০:৪৭:৫৯ অপরাহ্ন
লবীব আহমদ : একুশ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রদল। আগামীকাল সোমবার এমসি কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। দীর্ঘদিন পরে কাউন্সিল হওয়াতে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
জানা যায়, ২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি সজিব আহমেদকে আহবায়ক ও মোহাইমিনুল হক তপুকে সদস্য সচিব করে এমসি কলেজ ছাত্রদলের ২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে এই কমিটির আহবায়ক বিদেশ যাওয়ায় প্রথম যুগ্ম আহবায়ক সেলিম আহমদ সাগরকে আহবায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই কমিটিকে ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিলেও ক্যাম্পাসে কোনো কার্যক্রম করতে পারেনি তারা। যার কারণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনেকটা খেই হারিয়ে ফেলে ছাত্রদল।
তবে ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে আবারো চাঙ্গা হতে শুরু করেছে ছাত্রদল। এখন ক্যাম্পাসে তাদের নিয়মিত বিচরণ, কলেজসহ প্রত্যেকটি ডিপার্টমেন্ট কিংবা ক্লাবের প্রোগ্রামে তাদের সরব উপস্থিতি রয়েছে। এদিকে বেশ কয়েকদিন ধরে এমসি কলেজ ছাত্রদলের কাউন্সিল হবে হবে বলে না হওয়ায় অনেকটা হতাশ ছিলেন নেতাকর্মীরা। তবে, আগামীকাল সোমবার এমসি কলেজ ছাত্রদলের কাউন্সিল হবে কলেজ ক্যাম্পাসে। এ নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ- উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। সরাসরি নিজেদের ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসবে, নেতাকর্মীরা নতুন পরিচয় পাবেন, এতেই উৎফুল্ল তারা। ভোটারদের কাছে ইতিমধ্যে দৌঁড়ঝাপ শুরু হয়েছে প্রার্থীদের।
দীর্ঘদিন ধরে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে রয়েছেন, তারা নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদী ছাত্রদলের কর্মীরা। তাদের দাবী, ৫ আগস্টের পরে অসংখ্য নেতা দেখা গেলেও এর আগে ব্যানার ধরা বা কমিটিতে আসার জন্য নেতাকর্মীর খুব অভাব ছিল। এখন নতুন নেতাদের ঠেলাঠেলিতে ত্যাগীরা যাতে বঞ্চিত না হন, সেজন্য তারা তাদের ভোটাধিকার যোগ্য ব্যক্তিকেই দিবেন। ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে পারবে, এমন নেতৃত্বই তারা চান।
ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, এমসি কলেজ ছাত্রদলের আসন্ন কাউন্সিলে মোট ভোটার রয়েছেন ৬৩৯ জন। আর সভাপতি পদে ৫ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বর্তমান কমিটির দুই যুগা আহবায়ক খান মোহাম্মদ সামি ও রাজিব হোসাইন সাহিদ রয়েছেন সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে। এছাড়া সভাপতি পদে দেবব্রত দে সুনাম, হাবিবুর রহমান নাঈম ও হাবিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জুনেদুর রহমান জুনেদ, এহসানুল হক তালহা, হুমায়ুন রশিদ শাহ ও মুহসীন আহমদ সোহেল রয়েছেন।
এহসানুল হক তালহা বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্থিতিশীল এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তুলবো-যাতে অতীতের ন্যায় শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত না হয়।
হুমায়ুন রশিদ শাহ বলেন, নিরাপদ ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করবো।
জুনেদুর রহমান জুনেদ বলেন, ক্যাম্পাসের সকল সংগঠনের সাথে সহাবস্থান নিশ্চিত করে সুন্দর ক্যাম্পাস উপহার দিতে কাজ করবো।
হাবিবুর রহমান বলেন, মেধার ভিত্তিতে যাতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের সুযোগ-সুবিধা পায়, সে লক্ষ্য কাজ করবো।
হাবিবুর রহমান নাঈম বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা যাতে সবসময় সুষম বণ্টনের মাধ্যমে সবধরনের সুযোগ-সুবিধা পায়, সেই লক্ষ্য আমি কাজ করবো।
রাজিব হোসাইন সাহিদ বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছাত্রদলের ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায় করে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল ক্যাম্পাস উপহারে কাজ করবো।
দেবব্রত দে সুনাম বলেন, শিক্ষার্থীরা যাতে ছাত্রদলের ভালো কাজ দেখে নিজ উদ্যোগে ছাত্রদলকে ভালোবাসে, সেই লক্ষ্য কাজ করবো।
খান মোহাম্মদ সামি বলেন, আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে দরিদ্র ও মেধাবী সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কল্যাণ ফান্ড করবো। এর মাধ্যমে তাদের সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে।
এমসি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক সেলিম আহমদ সাগর বলেন, শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে তাদের সাথে কাজ করে সুন্দর একটি ক্যাম্পাস উপহার দেওয়াই আগামীর নেতৃত্বের প্রধান কাজ হবে। ছাত্রদল ভয়ের রাজনীতি নয়, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে রাজনীতি করে। সকল সাধারণ শিক্ষার্থীকে নিয়ে তাদের অধিকার আদায়ে কাজ করে। আগামীর নেতৃত্বও এ রকম কাজ করবে বলে আশাবাদী।
সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদীপ জ্যোতি এষ বলেন, দীর্ঘদিন পরে এমসি কলেজে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসবে, সেজন্য নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ৯ জন এই ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই প্রথম সিলেটের কোনো ক্যাম্পাসের কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় সভাপতি উপস্থিত হচ্ছেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ছাত্রদলের কর্মীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবে বলে তার আশা।




