কানাইঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ ও ফসলী জমি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২০ আগস্ট ২০২৫, ১:০১:২৩ অপরাহ্ন
কানাইঘাট (সিলেট) থেকে নিজেস্ব সংবাদদাতা : সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে সুরমা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলে নেতিবাচক পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থ পানি ও বায়ুদূষণ, প্রাকৃতিক ভূচিত্র নষ্ট করছে। এসব নেতিবাচক প্রভাবের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে। মানুষ ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বালু উত্তোলনে সৃষ্ট বায়ুদূষণে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের মধ্যে পরিবর্তন ঘটার ফলে তাদের আবাসস্থল সহ ফসলী জমি ও পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। বালু উত্তোলনে পানিদূষণসহ নদীগর্ভের গঠনপ্রক্রিয়া বদলে যাচ্ছে।
বালু উত্তোলনের পাশাপাশি মাটির ক্ষয় যেমন ঘটছে। তেমনি মাটির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া নলকূপে পানি পাওয়া কষ্টকর হয়। উত্তোলন-প্রক্রিয়া ও বালু পরিবহন জলবায়ু পরিবর্তনে সরাসরি ভূমিকা রাখে।
গত চার মাস ধরে উপজেলার কয়েকটি স্থানে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শিপইয়ার্ড মালিক দীর্ঘদিন ধরে সুরমা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ড্রেজার ব্যবহার করে আসছে।
সরজমিনে গিয়ে জানাযায় রাতের আধারে প্রভাবশালীরা কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণা বানীগ্রাম ইউনিয়ের বড়দেশ,ছোটদেশ কায়েস্থগ্রাম,বাউরভাগ, লামাপাড়া,নিজ বাউর ভাগ পশ্চিম, উজানী পাড়া,গড়াইঘ্রাম, বানীগ্রাম, সরদাড়ী পাড়া এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে।
বালু উত্তোলনের ফলে কানাইঘাট ও জকিগন্জ উপজেলার সুরমা নদী তীরবর্তী এলাকায় বেশ কিছু নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ফলে এ সব এলাকায় সুমরা ডাইক নদী গর্ভে বিলীন ও ফাটল সৃষ্টি হওয়ায় বৃষ্টিপাত হলেই দেখা দেয় বন্যা।
বালু উত্তোলনের ফলে খসে পড়ছে শত কোটি টাকায় নির্মাণ করা বেড়িবাঁধের হাজার হাজার ব্লক। বিলীন হয়েছে ঘর, বাড়ী,মসজিদ,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ ফসলী জমি।
পরিবেশ-জীববৈচিত্র ও নদীর বেড়িবাঁধ অনিয়ন্ত্রিত বালি উত্তোলন চলতে থাকলে বিলীন হতে পারে সুরমা নাদীর দুই কূলের কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ এলাকার নদী পারের কয়েক টি জনবসতি।
বালু মহালের কোন অনুমোদন না থাকা স্বত্বেও বালু উত্তোলনের ড্রেজিং কার্যক্রম সহ সকল অপচেষ্টা আইনের পরিপন্থি।
দিনরাত ধ্বংসের এতসব আগ্রাসী আচরণের পরও নিরব প্রশাসন। আইন লঙ্ঘন ও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে বালু খেকোরা।
স্থানীয়রা জানান, প্রশাসনকে মেনেজ করে অপরাধীরা বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার ব্যবহার করে বালু তুলে সুরমা নদীর নাব্যতা ব্যাহত করছে।
এলাকা বাসী বালু উত্তোলনে বাধা নিষেধ করলে মামলা হামলার ভয় এমন কি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ধাকেন।
অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে ব্যবসায়ীরা দিনরাত ড্রেজারের মাধ্যমে বালু বাল্কহেডে ভর্তি করে সেগুলো বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে।
বালো উত্তোলকারী প্রতিষ্ঠানর ফাল্গুনি দক্সিণ ইসলামপুর, সিলেট সদর, সিলেট আফতাব মিয়ার ছেলে তারেক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মেসার্স আফতাব এম্পোরিয়াম এর সাথে এলাকার অনেক প্রভাবশালী জড়িত থাকার অভিযোগ তুলছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জকিগন্জ উপজেলার শাহগলী বাজারের বেশ কয়েক জন ব্যবসায়ী জানান শাহগলী বাজারের সাধারণ সম্পাদক ও জকিগঞ্জ উপজেলার ১ নং বারহান ইউপির বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক,একই উপজেলার কিলোগ্রামের দোলন খান ও কানাইঘাট উপজেলার কায়েস্ত গ্রাম, বড়দেশ এলাকার কয়েকজন জানান উপজেলার কায়েস্ত গ্রামের মৃত হাজি রফিকুল হক এর ছেলে মাওলানা শফিকুর রহমান,আব্দুল মালীক এর ছেলে বাদশা মিয়া,শফিকুল হক এর ছেলে মাওলানা লোকমান,মন্তাই এর ছেলে ছইফ তার ভাই মুসলিম উদ্দিন,, খালিদ আহমদ, মুশাহিদ আলীর ছেলে কুদ্রত উল্লাহ,মোহাম্মদ আলীর পুত্র শাহীন আহমদ, ছিফত উল্লার পুত্র মইনুল হক, হাজী রফই এর পুত্র শামীম মুল্লা সহ আরো অনেকে তাদের প্রভাব ও ইন্দনে মেসার্স আফতাব এম্পোরিয়াম রাতের আধারে বালু উত্তোলন করে আসছেন।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে গত রবিবার কানাইঘাট উপজেলার সুরমা নদী তীরবর্তী বড়দেশ বাজার মানববন্দন কর্মসূচী পালন করছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন দিনের আলোতে কিংবা রাতের অন্ধকারে সুরমা নদী থেকে কোন বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। বক্তারা আরো বলেন বালু উত্তোলনে তিনটি ড্রেজার মিশিন কায়স্তগ্রাম ইট ভাট্টা সংলগ্নে এসে পৌছেছিল। জনসাধারণের তোপের মুখে ড্রেজারগুলো ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
এর আগে কায়েন্ত গ্রামের খেয়াঘাট থেকে ২০২৩ সালে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলের খবর সিলেটের ডাক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত হওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করে কানােইঘাট উপজেলা প্রশাসন। তৎকালীন কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজনা নাসরীন অভিযান পরিচালনা করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করেন। বালু উত্তোলন বন্ধ থাকার পর চব্বিশ এর অভ্যুথানের পর কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার রাজনৈতিক মহলের ছত্র ছায়ায় পুনরায় অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন শুরু করে কথিপয় স্বার্থন্বেষী মহল।
এ বিষয়ে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানার সাথে কথা হলে তিনি জানান, লীজ বহির্ভূত কোন এলাকা থেকে এক ফুট বালুও উত্তোলন করা হলে কঠোরভাবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




