দিরাইয়ে বাবা-ছেলেকে দোষী করে চিরকুট লিখে বৃদ্ধের আত্মহত্যা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ আগস্ট ২০২৫, ১০:০৭:২০ অপরাহ্ন
দিরাই সুনামগঞ্জ থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে চিরকুট লিখে সোনা মিয়া (৫০) নামে এক মসজিদের মোতাওয়াল্লি আত্মহত্যা করেছেন । নিহত সোনা মিয়া উপজেলার ধাপকাই গ্রামের মৃত আশকর আলীর ছেলে এবং পশ্চিম ধাপকাই চৌরাস্তা জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি ছিলেন।
এর আগে সোনা মিয়া এক হৃদয়বিদারক চিরকুট লিখে গেছেন, আমি আর পারলামনা, আমার কোন রাস্তা নাই বাধ্য হয়ে আমার ফাসিতে জুলতে হইলো। বিদায় নিলাম চিরতরে এই পৃথিবী হইতে।
গত সোমবার দিবাগত রাতের উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের ধাপকাই গ্রামে নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে দিরাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরন করেন।
চিরকুট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।
এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোনা মিয়া প্রতিদিনের ন্যায় রাতের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে ঘুমাতে যান। রাতের কোনো এক সময় তিনি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। আত্মাহত্যার ঘটনায় তিনি তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে পাশের গ্রামের তুহিন ও তার বাবার নাম চিরকুটে লিখে গেছেন।
জানা গেছে, সোনা মিয়া সিলেট পুবালি মটরস ও ইসলাম মটরস থেকে তুহিন মিয়ার মাধ্যমে দুটি সিএনজি অটোরিকশা কিস্তিতে ক্রয় করেছিলেন। কিস্তির সমস্ত টাকা পাশের ফাতেমানগর গ্রামের আরফান আলীর ছেলে তুহিন মিয়ার মাধ্যমে পরিশোধ করেন। কিন্তু তুহিন এ টাকা সিএনজি দোকান মালিককে না দিয়ে আত্মসাৎ করলে দুটি মামলা দায়ের করে মালিক পক্ষ। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ গত শুক্রবার দিরাই পৌর শহরের সোলেমান মিয়ার বাসায় একটি সালিশ বোর্ডে সিদ্ধান্ত হয় তুহিন মিয়া চার কিস্তিতে সোনা মিয়াকে ১ লাখ টাকা পরিশোধ রায় করা হয়। সালিশি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পৌর শহরের ভরারগাও গ্রামের কন্ডল মিয়া,পৌর বিএনপির আহবায়ক মিজানুর রহমান, আরিফুর রহমান দুলালসহ আরও অনেক সালিশ ব্যক্তি।
সালিশে উপস্থিত দিরাই পৌর বিএনপির আহবায়ক মিজানুর রহমান বলেন, আমরা সালিশ বৈঠক থেকে বোর্ডের মাধ্যমে বিষয়টি সুন্দর ফয়সালা করে দিয়েছি।
অপর আরেক সালিশি রাজানগর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক তুহিন মিয়ার চাচাতো ভাই আরিফুর রহমান দুলাল বলেন, সালিশ বৈঠকে উভয় পক্ষের কথা শুনে আমরা আলোচনা সাপেক্ষে বোর্ডের মাধ্যমে তুহিন মিয়া কর্তৃক ১ লাখ টাকা চার কিস্তিতে পরিশোধের রায় দিয়েছিলাম। প্রথমে কিছু অসম্মতি জানালেও পরে সোনা মিয়া মেনে নিয়েছেন। আত্মহত্যার বিষয়টি খুব দুঃখজনক।
তবে গ্রামের মানুষেরা বলছেন এ আর্থিক লেনদেন ও বিচার সালিশের রায়ের বিষয়টি তার মানসিক চাপের অন্যতম কারণ হওয়ায় তিনি চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন । স্থানীয়রা বলেন, সোনা মিয়া পরিবারের একজন শান্ত ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুর খবর এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




