দুদিন ধরে তালাবদ্ধ প্রিন্সিপাল-ভাইস প্রিন্সিপালের কক্ষ ॥ বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ॥ উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা
অভিভাবকহীন খাজাঞ্চিবাড়ি স্কুল!
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ আগস্ট ২০২৫, ১১:৩৪:১৯ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে সিলেটের প্রথম ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল দি সিলেট খাজাঞ্চিবাড়ি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ (এসকেআইএসসি)। দুদিন ধরে তালাবদ্ধ প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালের কক্ষ। প্রতিষ্ঠান প্রধানের অবর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নিত্যদিনের খরচ বিশেষ করে চক-ডাস্টার এমনকি বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করা যাচ্ছে না।
বৈদ্যুতিক রিচার্জের অভাবে গতকাল বুধবার শেষের দুই পিরিয়ডে প্রতিষ্ঠানটিতে কোন বিদ্যুৎ ছিল না। এ কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ-ভোগান্তি। এ নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা।
প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল বাকি চৌধুরী গতরাতে সিলেটের ডাককে বিদ্যমান সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তিনি বিষয়টি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিলেটের জেলা প্রশাসক মো: সারোয়ার আলমকে জানিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সংকটের বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসক বিষয়টি দেখার জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)- নুরের জামান-কে দায়িত্ব দিয়েছেন। এ ব্যাপারে গতরাতে সিলেটের ডাক-এর পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা-আইসিটি)-কে ফোন দেয়া হলে তিনি কোন সাড়া দেননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক অভিভাবক সিলেটের ডাক-কে জানান, গত ২১ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন রাজকুমার সিংহ। কিছুদিন পূর্বে প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত রাজকুমার সিংহকে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে বলা হয়। একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দায়িত্ব চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। ২৫ আগস্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে টেলিফোনে তাকে (রাজ কুমার) দায়িত্ব পালন করতে বারণ করায় তিনি আর প্রতিষ্ঠানে আসছেন না। প্রতিষ্ঠানটিতে সৃষ্টি হয় অচলাবস্থার। ২৬ ও ২৭ আগস্ট থেকে প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালের কক্ষ তালাবদ্ধ। হচ্ছে না কোন দাফতরিক কোন কার্যক্রম। ক্লাস খোলা থাকলেও শিক্ষকরা রুটিন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন ক্লাসের ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষাও পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। এ অবস্থায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকেরা। একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ট্রাস্টি বোর্ডের সভা না হওয়া পর্যন্ত রাজকুমার সিংহকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন একাডেমিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল বাকি চৌধুরী। তবে, ট্রাস্টি বোর্ডের সভা এখনো না হওয়ায় তার বিষয়টি ঝুলে ছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, এটি প্রাইভেট কিংবা এমপিওভুক্ত কোন প্রতিষ্ঠান নয়; এটি পরিচালিত হয় ট্রাস্টি বোর্ডের মতামতের ভিত্তিতে। প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরো বলেন, চাকুরি মেয়াদ শেষ হওয়ায় রাজকুমার সিংহ এর চাকুরি এক বছর এক্সটেনশন করারও আবেদন করেছেন। তবে, এটি এখনো ট্রাস্টিবোর্ডের সভায় এজেন্ডা হিসেবে উঠেনি।
ভারপ্রাপ্ত ভাইস প্রিন্সিপাল মুজিবুর রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মৌখিকভাবে তাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানের বর্তমান সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান ও একাডেমিক কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে তার আর্থিক কোন ক্ষমতা নেই। জেলা প্রশাসককেই বিষয়টি সুরাহা করতে হবে। জেলা প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র সিলেটের ডাককে জানায়, রাজকুমার সিংহের বয়স ৬০ বছর হয়ে যাওয়ায় তাকে দায়িত্ব পালন না করতে বলা হয়েছে। এর বাইরে ওই সূত্র আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এ ব্যাপারে গতরাতে রাজ কুমার সিংহকে ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




