এম সাইফুর রহমান দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করেছিলেন ড. মঈন খান
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৩:৩৮:০৯ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান বলেছেন, খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রণেতা বলা হয়। তার কনজার্ভেটিভ নীতি অনুসরণ করে দেশের অর্থনীতি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছিল। পরবর্তী ফ্যাসিবাদী সরকার সেই নীতি থেকে বেরিয়ে এসে লুটপাট ও পাঁচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে সিলেট শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে এম সাইফুর রহমানের ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্যে ড. মঈন খান আরও বলেন, বিগত বিএনপি সরকারের সময়ে সাইফুর রহমানের সর্বশেষ আধুনিক ভ্যাট পদ্ধতির সংযোজন ছিল দেশের অর্থনীতির রক্ষাকবচ। পদ্ধতি ছাড়া বিশ্বের কোনো দেশ টিকতে পারে না। অথচ, এই পদ্ধতির বিরোধিতা করেছিল তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ। তারা রাজপথে আন্দোলন করেছিল, এমনকি হরতাল ডেকেছিল। সেই সময় সাইফুর রহমান বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে এই সিদ্ধান্ত না নিলে বাংলাদেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়তো।
সিলেটের তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, তার অনেক বড় অর্জন এখনকার তরুণ প্রজন্ম জানে না। সাইফুর রহমান ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘের সুবর্ণজন্তীতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তখন তাকে বিশ্বব্যাংকের গভর্নর হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এটা জাতি হিসেবে আমাদের গর্বের। সাইফুর রহমান ১৯৬৯ সালে বিলেত থেকে দেশে ফিরেন। তখন দেশে সিএ ডিগ্রিধারী মানুষের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। এরপর মেজর জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ বাজেট ঘোষণাকারী ছিলেন। ৩৬ বছরে এক ডজন বাজেট ঘোষণার কৃতিত্ব তাঁর। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার তার প্রতি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বলে তাকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন।
সভায় স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন- বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম, নর্থইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভিসি প্রফেসর ড. মো. ইকবাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর মাহবুব এলাহী, সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদ, সিলেটের সভাপতি ডা. শামিমুর রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক এমপি কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও মিফতাহ সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় সদস্য আবুল কাহের শামীম, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।
আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাছিম হোসেন, বাচিক শিল্পী ও কবি সালেহ আহমদ খসরু, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মাহবুবুর রব ফয়সল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদ এমরান আহমদ চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনার প্রমুখ। স্মরণসভায় বিএনপিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
সভা সঞ্চালনা করেন ব্যবসায়ী তোফায়েল আহমেদ খান।
এর আগে সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাদ জুমআ সিলেটের বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও শিরনি বিতরণের আয়োজন করা হয়।
এছাড়া সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি সাইফুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে কবর জিয়ারত করে সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ও দোয়া ও কোরআনে খতমে অংশ নেন। পরে বাদ আসর দরগাহ মসজিদে মহানগর বিএনপি ও বাদ মাগরিব জেলা বিএনপির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।




