নিষেধাজ্ঞা স্বত্তেও শাবি-তে অনুমতি ছাড়াই ছাত্রদলের নিয়মিত প্রোগ্রাম, প্রশাসন নীরব
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ জুলাই ২০২৫, ১০:৪২:৩৫ অপরাহ্ন
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি: সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) দলীয় ব্যানারে ছাত্ররাজনীতি আপাতত নিষেধ থাকা স্বত্তেও প্রশাসনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিয়মিত অনুমতি ছাড়া দলীয় কর্মসূচি পালন করে চলেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, শাবিপ্রবি শাখা।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় একাডেমিক ভবন ‘ডি’ তে ‘জুলাই-আগস্টের শহীদদের স্মরণে’ একটি স্মরণসভা আয়োজন করে সংগঠনটির শাবিপ্রবি শাখা নেতাকর্মীরা।
ওই প্রোগ্রামের জন্য অনুমতি নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে ছাত্রদল শাবিপ্রবি শাখার সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে আমরা যত কর্মসূচি করেছি, সবই শিক্ষার্থী বান্ধব। শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি করার জন্য প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।” এ কথার সদুত্তর না দিতে পেরে পরবর্তীতে তিনি বলেন তারা প্রক্টর অফিসে অনুমতির জন্য আবেদন করেছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির একাধিক সদস্যদের সাথে বিভিন্ন সময়ে কথা বলে জানা যায়, ছাত্রদল তাদের কোনো কর্মসূচির জন্য অনুমতি নেয় না। তারা প্রশাসনকে তোয়াক্কাই করছে না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
তারা জানান সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে এর আগেও নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে শোকজ করা হয়েছে, কিন্তু তারা বারবার একই কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে এর আগেও অনুমতি না নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দলীয় ব্যানারে একাধিক প্রোগ্রাম করে শাখা ছাত্রদল। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কনফারেন্স কক্ষেও দলীয় ব্যানারে প্রোগ্রাম করে তারা।
সর্বশেষ গতকাল স্মরণ সভা আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন ‘ডি’ এর ২২২ নং কক্ষে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের কক্ষ বলে জানা যায়। বিভাগটির বিভাগীয় প্রধান হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান।
যেখানে অন্য কোন রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন তাদের দলীয় ব্যানারে প্রেগ্রাম করে নি সেখানে একমাত্র ছাত্রদল ই তাদের দলীয় ব্যানারে প্রোগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও নিরব ভূমিকা দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ই তাদের এ নিয়ম লঙ্ঘনে সহযোগিতা করছেন। ছাত্রদলের প্রোগ্রামের জন্য প্রক্টরিয়াল বডির কনফারেন্স রুম ব্যবহার, প্রক্টরের নিজের বিভাগের রুম বরাদ্দ দেয়া থেকে শুরু করে প্রক্টরের উপর দায়িত্ব থাকা স্বত্তেও তাদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিয়ে দেখা যায় নি প্রক্টরকে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, ছাত্রদল ঘরোয়া পরিবেশে কর্মসূচি করবে, কোনো নাম কিংবা ব্যানার ব্যবহার করবে না। এজন্য তারা কোনো অনুমতি নেয়নি। কিন্তু তারা ব্যানার ব্যবহার করেছে এ কথা বলার পর তিনি বলেন, “আমরা অতি শীঘ্রই সর্বদলীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা ডাকব, সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ব্যানার কিংবা নাম ব্যবহার করা যাবে কি না সে ব্যাপারে।”
সে সিদ্ধান্ত আসার আগে ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম লঙ্ঘন করে কর্মসূচি করেছে। এর জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা তাদের শোকজ করেছি, কিন্তু তারা শোনেনি। আমরা পরবর্তী সভায় সিদ্ধান্ত নেব, তাদের এই কাজের জন্য কী ধরনের শাস্তি দেওয়া যায়।”
অনুমতি ব্যতিত ও বার বার নিয়ম লঙ্ঘন করে কিভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিমকে বললে তিনি জানান, “ছাত্রদলের সাম্প্রতিক কর্মসূচির বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে তারা বার বার নিয়ম লঙ্ঘন করে কর্মসূচি পালন করতেছে। এ বিষয়ে আমরা উপাচার্যের সভাপতিত্বে একটি সভা করেছিলাম। সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রক্টর সর্বদলীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে বসে একটি সমাধানে আসবেন।”
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ছাত্রদল এর আগেও শোকজের পর অনেক কর্মসূচি করেছে। দলীয় ব্যানারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের শিক্ষক, কর্মকর্তাদের অংশ নিতে দেখা যায়।




