প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হবে ৫ মিলিয়ন ঘনফুট
কৈলাশটিলায় পুরনো কূপে মিললো গ্যাস
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২১ নভেম্বর ২০২৫, ২:২৫:৩৮ অপরাহ্ন
মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম :
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার কৈলাশটিলা ১ নম্বর কূপে ওয়ার্কওভার (পুনঃখনন) কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হওয়ার পর নতুন করে গ্যাসের মজুদ পাওয়া গেছে। এই কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫ মিলিয়ন (৫০ লাখ) ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে এই নতুন গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে পেট্রোবাংলা ও সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল) সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গ্যাস উত্তোলনের জন্য শেষ মুহূর্তের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালানো হয়। এসজিএফএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল জলিল প্রামাণিক বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ভূঅভ্যন্তরের কাজ শেষে এতক্ষণে গ্যাসপ্রাপ্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়া যেত, কিন্তু শেষ মুহূর্তে কিছু জটিলতার কারণে গ্যাস উত্তোলনে বিলম্ব হচ্ছে।
তিনি জানান, এ ফিল্ডে ৫-৬ মিলিয়ন গ্যাস ফ্লেয়ারিং হচ্ছে। উৎপাদনে যাবার পর প্রতিদিন এখান থেকে ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। এখান থেকে আগামী ১০ বছরে ২০ বিসিএফ (বিলিয়ন কিউবিক ফিট) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। এর মাধ্যমে গ্যাস বাবদ রাষ্ট্রের ৩৩০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে জানান তিনি।
এসজিএএফ সূত্র জানায়, বন্ধ এ কূপটির ওয়ার্কওভার কাজ চলতি বছরের ১২ আগস্ট বাপেক্সের (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন এন্ড প্রোডাকশন কোম্পানী লিমিটেড) নিজস্ব রিগ বিজয়-১২ এর মাধ্যমে শুরু করা হয়। এতে প্রায় ৭৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। কূপটির ২২৪২ ফুট গভীরে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে।
১৯৬১ সালে আবিষ্কৃত হয় কৈলাশটিলা গ্যাসক্ষেত্র। সেখানে এখন পর্যন্ত মোট ৮টি কূপ খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদনরত ৪টি কূপ হতে গড়ে দৈনিক প্রায় ২৮.০৩ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপাদিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়।
সূত্রমতে, বন্ধ থাকা কূপগুলোতে পুনঃখনন বা ওয়ার্কওভারের উদ্যোগ নেয়া হয় ২০২৩ সালেই। সেবছরই কূপ-২ এর ওয়ার্কওভার শেষে দৈনিক ৫.৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। পরবর্তীতে কূপ-৮ এর পুনঃখনন ২০২৪ সালের জুনে শেষ হলে দৈনিক গড়ে ১৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ‘কৈলাশটিলা-১ ছাড়াও রশিদপুর-৩ ও বিয়ানীবাজার-২নং কূপ ওয়ার্কওভার’ প্রকল্প হাতে নেয় এসজিএফএল। এর আওতায় আগস্ট মাসে কৈলাশটিলা-১ কূপের পুনঃখনন শুরু হয়।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, সিলেট গ্যাসক্ষেত্রের ১৪টি কূপের ওয়ার্কওভার চলমান রয়েছে। এর মধ্যে কৈলাশটিলার ১ নম্বর কূপসহ সাতটি কূপের ওয়ার্কওভার শেষ হয়েছে এবং সবগুলোতেই গ্যাসের মজুদ পাওয়া গেছে।
পেট্রোবাংলা জানায়, বর্তমানে কৈলাশটিলার ২, ৬, ৭ ও ৮ নম্বর কূপ থেকে মোট ৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এসজিএফ সূত্র জানায়, সিলেট গ্যাস ফিল্ডের আওতাধীন ১৬টি কূপ হতে ১৩ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হচ্ছে। কৈলাশটিলা-১ থেকে ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সঞ্চালন শুরু হলে জাতীয় গ্রিডে সবমিলিয়ে ১৪ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হবে।
সূত্র জানায়, কৈলাশটিলা ১ নম্বর গ্যাস কূপ থেকে ১৯৮৬-৯৫ সাল পর্যন্ত ২ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হয়। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত চালু থাকার পর কূপটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৯৮-২০০০ সালে এ কূপ থেকে ফের ২ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হয়। ২০১৮ সালে সংযুক্ত হয় ৯০ লাখ ঘনফুট। ২০১৯ সাল থেকে ফের গ্যাস উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। গত আগস্টে পুন:খনন কার্যক্রম শুরু হয়ে এখন এখান থেকে জাতীয় গ্রিডে ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সংযুক্ত হবার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানান এসজিএফএল কর্মকর্তারা।




