ক্রেতারা বিপাকে
ভরা মৌসুমেও সিলেটে সবজির বাজার অস্থির
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ৫:৪০:৫২ অপরাহ্ন
এনামুল হক রেনু :
সিলেট নগরীর বাজারগুলো ভরে উঠছে শীতকালীন শাক-সবজিতে। তবে, ভরা মৌসুমেও চড়া সবজির দাম। এতে সবজি কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। তারা জানান, দামের কারণে সবজি ছুঁয়ে দেখতেও ভয় লাগছে।
গতকাল শুক্রবার সিলেট নগরীর লালদিঘীরপাড়, ব্রহ্মময়ীবাজার, রিকাবীবাজার, মদিনা মার্কেট, সুবিদবাজার, আম্বরখানা, শিবগঞ্জের কিচেন মার্কেটসহ বিভিন্ন সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে প্রচুর সরবরাহ। কিন্তু, সবজি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শীতের সব ধরনের সবজিতে বাজার ভরপুর। শিম, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শালগমের সঙ্গে টমেটো, গাজর, মিষ্টিকুমড়া, বিভিন্ন জাতের শাক, লাউ, মুলা সবই রয়েছে। তবে- এসব সবজির দামে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না ক্রেতারা।
বাজারে নতুন আসা ভালো মানের এক কেজি বেগুন কিনতে ক্রেতাকে অন্তত ১০০-১২০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এ দামে সাধারণত বেগুন বিক্রি হয় গরমকালে। যখন কি-না দেশে সবজির উৎপাদন থাকে কম। শীতের মধ্যে বেগুনের দাম নেমে আসে ৪০-৬০ টাকায়।
অন্যদিকে, প্রতিটি মাঝারি আকারের ফুলকপি, বাঁধাকপির দাম ৪৫-৫৫ টাকা। নতুন আসা এক কেজি শিমের দাম এখন ১০০ টাকা বা তারও বেশি। কোনো কোনো বাজারে সবুজ শিম ৭০-৮০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে। তবে- অন্যান্য বছর একই সময়ে শীতের এ শিম ৫০ টাকা ও কপির দাম ২০-৩০ টাকার মধ্যে থাকতো।
নতুন আলু অবশ্য সবসময়ই বাড়তি দামে বিক্রি হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রতি কেজি নতুন আলু বাজার ও মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৫০ টাকায়।
অন্যান্য সবজির মধ্যে বরবটি বিক্রি হচ্ছে বাজারভেদে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে। একইভাবে ঢেঁড়স ও পটল বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকায়। নতুন আসা মিষ্টি কুমড়া প্রতিটি ৮০-১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি করতে দেখা গেছে। তাছাড়া ঝিঙা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, প্রতি কেজি শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর মুখী প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১শ থেকে ১২০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ টাকা, মূলা প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম চড়া নানা ধরনের শাকেরও। প্রতি আঁটি শাক কিনতে কমপক্ষে ২০ টাকা খরচ হচ্ছে। যদিও শীতের সময় ১০-১৫ টাকার মধ্যেই বেশিরভাগ শাক বিক্রি হয়।
তবে, কাঁচামরিচ ও ধনেপাতার দাম কিছুটা কমেছে। প্রতি কেজি কাচা মরিচ গতসপ্তাহে ১৬০ টাকা বিক্রি হলেও এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ধনেপাতা গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ১২০-১৪০ টাকা বিক্রি হলেও গতকাল ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
রিকাবীবাজারে কথা হয়- সবজি কিনতে আসা সালমান হোসেনের সঙ্গে।
তিনি বলেন, শীতের সবজি এসেছে প্রায় মাসখানেক হলো। কিন্তু দাম এখনো অনেক চড়া। বিগত বছরগুলোতে এই সময়ে সবজির দাম নাগালের মধ্যে চলে আসে। কিন্তু এবার দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই।
তবে, বিক্রেতারা বলছেন, পরিবহন খাতে খরচ বেড়ে যাওয়া, লোকাল সবজির উৎপাদন কম হওয়া সহ নানা কারণে দাম বেড়েছে সবজির।
লালদিঘীরপাড়ে বাজার করতে আসা ক্রেতা রাসেল আহমদের অভিযোগ, সিলেটের সবজি বাজারে সিন্ডিকেট রয়েছে। স্থানীয় টুকেরবাজারের লোকাল সবজি চলে এসেছে। কিন্তু পরিবহন খাতে খরচ বেড়ে যাওয়ার অজুহাত দেখাচ্ছে তারা। প্রশাসনের বাজার মনিটরিং এর অভাব থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত সবজির দাম বাড়াচ্ছেন।
লালদিঘীরপাড় বাজারের ব্যবসায়ী রহিম উল্ল্যা জানান, মাসখানেক আগে হঠাৎ অস্বাভাবিক বৃষ্টিতে অনেক স্থানে সবজির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। কৃষকরা আবার নতুন করে সবজির চাষ করেছেন। এ কারণে একসঙ্গে সারাদেশ থেকে সবজির সরবরাহ এখনো শুরু হয়নি। এটা হয়তো আরও ৭-১০ দিনের মতো সময় লাগবে। তখন দাম অনেকটাই কমে যাবে।
তবে সবজির দাম চড়া হলেও খানিকটা কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। কোথাও কোথাও দেশি পেঁয়াজ এখনো ১১০ টাকা দরে বিক্রি হলেও কোনো কোনো স্থানে আবার কমেও মিলছে। ৯৫-১০০ টাকা কেজি দরেও কিছু কিছু দোকানিকে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, বাজারে ডিম ও মুরগির দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩০ টাকার মধ্যে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৭০ টাকায়।




