দুশ্চিন্তায় কৃষকরা
অরক্ষিত মাটিয়ান হাওরের আলমখালি বাঁধ, কাজ করার লোক পাচ্ছে না পাউবো
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫৮:১৩ অপরাহ্ন
বাবরুল হাসান বাবলু, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) থেকে : অরক্ষিত মাটিয়ান হাওরের আলমখালি ক্লোজার বাঁধ। কাজ করার জন্য কোন লোক খুঁজে পাচ্ছেন না পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ফলে, বাঁধটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মাটিয়ান হাওরের পারের অর্ধ শতাধিক গ্রামের কৃষক।
পাউবো কর্মকর্তারা বলছেন, মাটি না থাকার কারণে কোন কৃষক বাঁধে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন না। অন্যদিকে এলাকার কৃষকসহ বাঁধ সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কাজের নিয়োজিত লোকজন জানিয়েছেন গত বছর এ বাধের শতভাগ কাজ করার পরও বিল কম দেয়ার কারণে কোন কৃষক কাজ করতে রাজি হচ্ছেন না।
জানা যায়, উপজেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম বোরো ফসলি হাওর মাটিয়ান। মাটিয়ান হাওরে বড়দল মেশিন বাড়ি বাঁধ, উমেদ পুর কুরির বাঁধ, মাটিয়ান বিলের ক্লোজার, আলমখালি ক্লোজারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লোজার ও বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে দু’একটি বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ড পিআইসির মাধমে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু, কাজ শুরু করার তারিখ থেকে এক মাস অতিবাহিত হলেও মাটিয়ান হাওরে কাউকান্দি ও বড়দল গ্রামের মধ্যবর্তী স্থান আলমখালি ক্লোজার বাঁধে কাজ করার জন্য কোন লোক এখনো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে, বাঁধটি নিয়ে শংকিত হয়ে পড়ছেন হাওরপারের কৃষক।
স্থানীয় বড়দল ও কাউকান্দি গ্রামের কৃষকরা জানান, গত কয়েক বছর পূর্বে এ বাঁধটির দৈর্ঘ্য ৫০ ফিটের মত ছিলো। বছরে বছরে আগাম বন্যায় হাওরে পানি ঢুকার সময় ভেঙ্গে বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ৩০০ ফিটের অধিক।
কউকান্দি গ্রামের কৃষক ফখরুল ইসলাম বলেন, আগমী পনের বিশ দিন পর থেকেই মেঘ বৃষ্টি শুরু হতে পারে। বৃষ্টি শুরু হলে জাদুকাটা নদী দিয়ে পাহড়ি ঢল নামে। ঢলের পানি গোলাগাট নদী হয়ে সরাসরি আঘাত করে মাটিয়ান হাওরের আলমখালি বাঁধে। তাই এ বাঁধটি হাওরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মাটিয়ান হাওর উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ ডিসেম্বর বাঁধের কাজ শুরু করার কথা। আজ এক মাস হতে চললো। এখনো বাঁধের কাজ করার জন্য লোকই ঠিক করা যাচ্ছে না বিষয়টি খুবই মর্মাহত করে আমাদের।
দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (বড়দল গ্রামের) জুয়েল মিয়া বলেন, গত বছর মাটিয়ান হাওরের আলমখালি বাঁধের কাজটি পিআইসির মাধ্যমে আমি করেছি। শতভাগ কাজ করার পর তখনকার সময়ের উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বর্তমান জেলা প্রশাসক পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনকে শতভাগ বিল দেয়ার জন্য বলেছেন। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড আমাকে ৭৫ পার্সেন্ট বিল দিয়েছে। এখনো আমি তিন লক্ষ টাকা ক্ষতির মুখে।
সুনামগঞ্জ পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, লোক পাওয়া যাচ্ছে না এটা সত্য। কিন্তু যিনি গত বছর কাজ করেছেন তাকে বিল কম দেয়া হয়েছে-তথ্যটি সঠিক নয়।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পানি উন্নয়ন বোর্ড মনিটরিং কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান মানিক বলেন, মাটিয়ান হাওরের আলমখালি বাধের আশপাশে মাটি না থাকর কারণে কোন কৃষক বাঁধের কাজ করতে আগ্রহী নন। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। দ্রুতই কাজ শুরু করবো বলে জানান তিনি।




