সিলেটে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় শাবি ভিসি, প্রো-ভিসি, রেজিস্ট্রার: সমালোচনা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:৪১:৩৭ অপরাহ্ন
শাবি প্রতিনিধি : সিলেট সরকারি আলিয়া মাঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রথম নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম এবং রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় আলিয়া মাঠে বিএনপির এই প্রথম নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এর আগে বুধবার রাতে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, রেজিষ্ট্রারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৮৭-এ স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা তার রাজনৈতিক মতামত প্রচার করতে পারবেন না এবং নিজেকে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত করতে পারবেন না।
জনসমাবেশে উপস্থিত হওয়া ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। এ আর আনিস নামে একজন লিখেছেন, নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার হরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা অবস্থায় রাজনৈতিক দলের প্রচারণায় যাওয়া কতটা যৌক্তিক?
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাকসুর স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসিসহ যারা তারেক রহমানের নির্বাচনী জনসভায় গেছেন এ ধরনের কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিরোধী। আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনবিরোধী কাজে সরাসরি জড়িত থাকার কারণে তারা নৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীরা এই কর্মকাণ্ডের কারণে বাকরুদ্ধ। যেখানে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অন্যায় হলে বিচার চাওয়ার কথা সেখানে তারা নিজেরাই আইনবিরোধী কার্যক্রম করছেন শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। জাতি হিসেবে লজ্জিত। জাতি যাদের কাছে বিচার দেবে তারাই অন্যায় করে বেড়াচ্ছে। আমরা এই ধরনের অপ্রত্যাশিত ও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা মনে করি এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে নতুন করে আগামী দিনে নতুন করে আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিবাদ তৈরি হচ্ছে।
এবিষয়ে রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির বলেন, আমরা সবারই দাওয়াতেই অংশগ্রহণ করার চেষ্টা করি। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতার প্রয়োজন আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাজেদুল করিম বলেন, আমরা জাস্ট দর্শক হিসেবে গিয়েছি। আর কিছু না।
শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমি মিটিংয়ে আছি, পরে কল দিও।




