জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর শহীদের রক্ত দিয়ে লেখা : অধ্যাপক আলী রীয়াজ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:৫৭:৩৮ অপরাহ্ন
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি : জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর রক্ত দিয়ে লেখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ। আজ রোববার (১লা ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত গণভোট প্রচার বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যারা প্রাণ দিয়েছিলেন, তাদের রক্তের মধ্য দিয়ে যে সনদ তৈরি হয়, সেটাই জুলাই সনদ। আপনাদের কাছে জুলাই জাতীয় সনদের যে কপি পৌঁছায়, সেটা কালো কালি দিয়ে ছাপানো। কিন্তু বিশ্বাস করুন- এর প্রত্যেকটা অক্ষর শহীদের রক্ত দিয়ে লেখা।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ ইউনুস সরকারের এজেন্ডা নয়। এটি নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। গত তিনটি নির্বাচনকে নির্বাচন বলা অপমানজনক। তিনি বলেন, রাতের ইলেকশন ও ডামি ইলেকশন- সম্ভব হয়েছে বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর দুর্বলতার কারণে।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই সনদের কোথাও ‘বিসমিল্লাহ’ বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়নি, কিংবা মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা হয়নি। এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। ৩৯ পৃষ্ঠার সনদের এমন কোনো বিষয় নেই। জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংস্কৃতির উল্লেখ রয়েছে। এগুলোই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রের মূল আদর্শ। সুতরাং এই সনদকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বলা মিথ্যাচার ছাড়া কিছু নয়।
সেকুলারিজম প্রসঙ্গে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশ একটি বহুজাতিগোষ্ঠী, বহুধর্মী, বহুভাষী ও বহুসংস্কৃতির দেশ। এই বাস্তবতা স্বীকার করেই ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতিকে রাষ্ট্রের মূল মূল্যবোধ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে কোনো ধর্মবিরোধিতা নেই। রক্ত দিয়ে লেখা এই জুলাই সনদের সঙ্গে প্রাণের বিনিময়ে মানুষের রাষ্ট্রপরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে আপনি আছেন কিনা- এটাই সিদ্ধান্তের জায়গা।

সভায় উপাচার্য অধ্যাপক এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, জুলাই বিপ্লব ছিল অপরিহার্য। পর পর তিনটি নির্বাচন বাংলাদেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল। গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের পথ বন্ধ হবে।
সভায় অতিথি হিসেবে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নিজাম উদ্দিন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবদুল লতিফ, লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. তাজ উদ্দীন, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল, শাবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ইসমাঈল হোসেন প্রমুখ।




