আফগানিস্তানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১:২৬:৩৬ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : আফগানিস্তানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন হামলা চালায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী।হামলার পর দেশটির তালেবান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠক করেছেন।
আফগান সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, পাকিস্তান হামলা চালিয়ে আফগানিস্তানের ভৌগলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করেছে এবং কাবুলের এটির জবাব দেওয়ার অধিকার আছে। কোন সময় প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হবে সেটি তালেবান নেতৃবৃন্দ নির্ধারণ করবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।
সংবাদমাধ্যম দ্য উইক জানিয়েছে, পাকিস্তান নতুন করে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করেছে বলে মনে করছে আফগান সরকার। এ ব্যাপারে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোকে অবহিত করেছে আফগানিস্তান।
জানা গেছে, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালানো হয়। পাকিস্তান দাবি করেছে, গোয়ন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা লক্ষ্য করে সূক্ষ্ম হামলা চালানো হয়েছে।
আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বিমানবাহিনী বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ডজনখানেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, তাদের দুটি প্রদেশ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। সূত্রটি বলেছেন, তাদের পাকতিকা প্রদেশের একটি মাদ্রাসায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। অপর হামলা হয়েছে নানগারহার প্রদেশে।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক্সে এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের সেনাবাহিনী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও এর সহযোগী সংগঠনের সাতটি গোপন আস্তানা ও ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া ইসলামিক স্টেট সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের ক্যাম্পেও হামলা চালানো হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাক মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য আছে রাজধানী ইসলামাবাদের মসজিদে হামলাসহ সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলা আফগানিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র নেতা ও তাদের সহযোগীদের নির্দেশনায় হয়েছে।
এদিকে গতকাল রাতে খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু বিভাগে আত্মঘাতী হামলায় এক লেফটেনেন্ট কর্নেলসহ দুই সেনা নিহত হন। এর কিছুক্ষণ পরই আফগানিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।
এর আগে সোমবার বাজাউরে অস্ত্রধারীর সহায়তায় এক আত্মঘাতী হামলাকারী নিরাপত্তা চৌকির কাছে গিয়ে বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে ১১ সেনা ও এক শিশু নিহত হয়। আফগানিস্তানের এক নাগরিক এ হামলা চালায় বলে দাবি করে পাকিস্তান।
তারও আগে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতীয় হামলায় ৩১ জন নিহত হন।
গত বছর আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্তে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছিল। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর পর সংঘর্ষ থামে। তবে সম্পতি পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে গেছে। এসব হামলার পরিকল্পনা আফগানিস্তান থেকে করা হয়েছে দাবি করে দেশটি আজ আফগানিস্তানে হামলা চালিয়েছে।



