শ্রীমঙ্গলের সবুজবাগে রঙের উচ্ছ্বাসে দোল উৎসবের উদ্বোধন
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ মার্চ ২০২৬, ১১:৫২:৪১ অপরাহ্ন
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে ভক্তি, আনন্দ ও রঙের উচ্ছ্বাসে শুরু হয়েছে দোল উৎসব। আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) শ্রীমঙ্গল উপজেলার সবুজবাগ শ্মশানঘাট রোড এলাকায় অস্থায়ী মন্দির প্রাঙ্গণে এ উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।
বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন নগরী ও চায়ের স্বর্গরাজ্য শ্রীমঙ্গলের সবুজবাগ এলাকায় পূজার্চনা, কীর্তন ও নগর পরিক্রমার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য দোল উৎসব শুরু হয়। পরে রঙ্গের হাঁড়ি ভেঙে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসবের উদ্বোধন করেন সবুজবাগ দোল উৎসব পূজা উদযাপন পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এবং সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পিয়াস দাস।
দোল উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার ৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি মো. মহিবুল্লাহ আকন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃস্থানীয় ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উদ্বোধনের পরপরই শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত রঙের উৎসব। আবির ও গুলালের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে পুরো সবুজবাগ এলাকা। শিশু কিশোর থেকে শুরু করে নারী পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ রঙের খেলায় অংশ নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন। কীর্তনের সুর আর ভক্তদের উল্লাসধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
এর আগে সকালে অস্থায়ী মন্দিরে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দোল পূজার্চনা সম্পন্ন হয়। পরে ভক্তদের অংশগ্রহণে কীর্তন সহকারে নগর পরিক্রমা বের করা হয়। নগর পরিক্রমাটি সবুজবাগ এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও বাড়ি প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
প্রধান পৃষ্ঠপোষক পিয়াস দাস বলেন, ষষ্ঠবারের মতো এই দোল উৎসব আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। উৎসবকে সফল করতে যারা নিরলস পরিশ্রম করেছেন, দোল উৎসব উদযাপন পরিষদের সকল সদস্যকে ধন্যবাদ।
উৎসবের সিনিয়র সভাপতি পাপ্পু ধর বলেন, দোল উৎসব শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভালোবাসা ও আনন্দের উৎসব। এই আয়োজনের মাধ্যমে মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
সবুজবাগ দোল উৎসব পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ঝলক দাশ জানান, ষষ্ঠবারের মতো শ্রীমঙ্গলে সবচেয়ে বড় আয়োজন করেছে সবুজবাগ দোল পূজা উদযাপন পরিষদ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসব চলবে এবং প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী এতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি উৎসবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হোলি খেলা এবং আগত ভক্তদের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।




