কুশিয়ারা নদীতে রাতের আঁধারে আস্ত বালুমহাল লুট, জানে না প্রশাসন
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ মার্চ ২০২৬, ৬:১২:৪৭ অপরাহ্ন
বিয়ানীবাজার (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার আঙ্গারজুর এলাকার কুশিয়ারা নদীর চর থেকে রাতের আঁধারে বালু লুট করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে আঁতাত করে গত মধ্য রমজান থেকে অর্ধশত ট্রাক দিয়ে চরের দশ লাখের বেশি ঘণফুট বালু লুট করেছে এ চক্রটি। দীর্ঘদিন থেকে বালু লুট অব্যাহত থাকলেও অদৃশ্য কারণে প্রশাসনের কর্মকর্তারা নীরব।
জানা গেছে, প্রভাবশালী বালু খেকো এ চক্রের সাথে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রভাবশালী কিছু যুবক, ট্রাক চালক ও মালিকরা জড়িত রয়েছেন। মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত অবৈধভাবে ট্রাক ও ট্রাক্টর দিয়ে বালু লুট করলেও স্থানীয়রা লুটপাটকারীদের ভয়ে মুখ খোলছেন না। সিলেট জেলার চর ইজারা তালিকায় কুশিয়ারা নদীর আঙ্গারজুর এলাকার চরটির নাম না থাকায় ইজারা দেয়া হয়নি। ফলে সরকার কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কুশিয়ারা নদীর আঙ্গারজুর এলাকার চরটি ইজারা প্রদান করতে কুড়ারবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তুতিউর রহমান তুতা গত ১১ ফেব্রুয়ারি সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। তিনি আবেদনে উল্লেখ করে তফশীলভুক্ত জটিলতার কারণে বিগত ৪/৫ বছর থেকে বালু মহালটি ইজারা প্রদান থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মো. সরোয়ার আলম ১৩ ফেব্রুয়ারি হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনার জন্য নির্দেশনা দেন। তাঁর সে নির্দেশনা এখনো মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়াধীন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন যুবক বলেন, গত মধ্য রমজান থেকে এখান থেকে রাত ৪টার পর ট্রাক দিয়ে বালু ট্রাকে করে নেয়া হচ্ছে। রমজানে ভোর রাত ৪টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত এবং ঈদের দিন থেকে রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টায় বালু লুটপাট অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ লুটপাটের সাথে কুড়ারবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তুতিউর রহমান তুতা ও তার ছেলে অপু আহমদ, ট্রাক মালিক রোয়েল আহমদ, সাংবাদিক পরিচয় দেয়া সিলেট জেলা কৃষক লীগের সদস্য এম এ ওমর, স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম, শামীম আহমদ, সাকী আহমদ, ট্রাক্টর চালক শিব্বির আহমদ, ট্রাক চালক সাজু ও জাকারিয়া এবং নৌকাচালক কালা মিয়া এ বালু লুটপাটের সাথে জড়িত। জড়িতরা উপজেলা ও থানা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করে বালু লুট করছেন বলে স্থানীয় এসব যুবক অভিযোগ করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী আঙ্গারজুরের গ্রামীণ সড়কের একটু দূরে চরটি বেশ কয়েক বছর থেকে দেখা দেয়। এখনো সরকারের তালিকাভুক্ত না হওয়া চরটি জেলার রাজস্ব অধিদপ্তর এবারো ইজারা প্রদান করেননি। সেই সুযোগে বালু খেকোরা চরের প্রায় ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীর খাদ করে বালু লুট করেছে।
এ বিষয়ে কুড়ারবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তুতিউর রহমান তুতার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নদীর তীরবর্তী অংশ থেকে স্থানীয় একটি ইট ভাটায় মাটি কেটে নেয়া হয়েছে। যেখান থেকে মাটি কাটা হয়েছে সে জায়গাটি ইট ভাটার মালিকের। তিনি বলেন, চরের বালু লুটের বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে প্রশাসনকে অবহিত করা হবে।
তবে অপর অভিযুক্তদের মধ্যে রুয়েল, শিব্বির ও শামীমের মুঠোফোনে কল দিয়ে তাদের নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদের মোবাইল নম্বর না পাওয়ায় তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, এ ঘটনাটি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, আমরা চরের বালু লুট হওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। গ্রাম পুলিশকে ঘটনাস্থল পাহারার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শিগগিরই অভিযান চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।



