মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সুজাত চৌধুরীর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ মার্চ ২০২৬, ১০:২৭:২৪ অপরাহ্ন
দিরাই (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক,সুনামগঞ্জে স্বাধীন বাংলার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী, সুনামগঞ্জ ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, দিরাই ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, লেখক ও রাজনীতিবিদ সুজাত আহমেদ চৌধুরীর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার (২৮ মার্চ)। ২০০৭ সালের এই দিনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, সুজাত আহমেদ চৌধুরী দিরাই উপজেলার তাড়ল গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পরিবারে ১৯৪৭ সালের ৭ জানুয়ারী জন্মগ্রহণ করেন। পিতা এলাকার বরেণ্য ব্যক্তিত্ব মামদ চৌধুরী ও মাতা আলতাজান চৌধুরীর ৩ ছেলে ও ২ কন্যা সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন ২য়। নিজ জন্মভূমি তাড়ল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষার পর দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
দিরাই উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করে তিনি ১৯৬৭ সালে সুনামগঞ্জ কলেজে ভর্তি হন। কলেজে ভর্তির পর ছাত্রলীগে যোগদেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর ৬ দফার আন্দোলনে অংশ নেন। এক সময় তিনি সুনামগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৬৯ সালে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবার পাশাপাশি ১৯৭০ সালে আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেন। সে সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সান্নিধ্যে থেকে বঙ্গবন্ধুর সাথে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা সফর করেন।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক হিসেবে অবদান রেখেছেন। জীবন বাজি রেখে ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ সুনামগঞ্জে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন।
স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি স্নাতক ডিগ্রী সম্পন্ন করেন।
কেবল রাজনীতি নয় শিক্ষার প্রসারে তিনি অনন্য অবদান রেখে গেছেন। নিজ গ্রাম তাড়ল উচ্চ বিদ্যালয়, দিরাই ডিগ্রী কলেজের তিনি প্রতিষ্ঠাতা। অনেক ঘাত প্রতিঘাত উপেক্ষা করে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দিরাই ডিগ্রী কলেজ যা আজকের দিরাই সরকারি কলেজ।
এছাড়াও দিরাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান রয়েছে। শিক্ষাবিদই নয় তিনি লেখক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রে সমসাময়িক বিষয়সহ নানান বিষয়ে নিয়মিত লিখতেন। ‘রাজনীতির তিন যুগ’, ‘শতাব্দীর প্রথম যুদ্ধ’, ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ’, ‘বিশ্ব ও বিবিধ প্রসঙ্গ’ সহ তার ১১টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। অপ্রকাশিত রয়েছে বেশ কিছু পান্ডুলিপি।
এদিকে, জননেতা সুজাত আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নিজ গ্রাম তাড়ল ও দিরাইয়ে পৃথক কর্মসূচী পালন করা হবে।
তাঁর ভাতিজা দৈনিক সিলেটের ডাক’র সিনিয়র রিপোর্টার ও সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ লেখক ও সাংবাদিক কাউসার চৌধুরী তার চাচার রূহের মাগফেরাত কামনায় সকলের নিকট দোয়া কামনা করেছেন।



