ভূ-মধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ জনের মৃত্যু : জেলার দুই থানায় ৯ দালালের বিরুদ্ধে মামলা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ মার্চ ২০২৬, ৯:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ১২ জন নিহতের ঘটনায় সুনামগঞ্জের দিরাই ও জগন্নাথপুর থানায় ৯ দালালের বিরুদ্ধে নিহতদের পরিবারের পক্ষে পৃথক মামলা দুইটি মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে মানবপাচার আইনে দিরাই থানায় ৪ মানবপাচারকারী অজ্ঞাত নামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন অভিবাসন প্রত্যাশায় নিহত দিরাইয়ের জগদলের সোহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান।
অপরদিকে একই আইনে মানবপাচার চক্রের ৫ জনের নামোল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে জগন্নাথপুর থানায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন নিহত আমিনূর রহমানের বাবা হাবিবুর রহমান।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্তি পুলিশ সুপার সুজন সরকার। তিনি বলেন, সুনামগঞ্জের ১২ জন নিহতের খবর পেয়েছি, এই ঘটনায় নিহতদের পরিবারের অভিযোগে দুইটি মামলা হয়েছে, একটি দিরাই থানায় আরেকটি জগন্নাথপুর থানায়। এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের কয়েকজনের নাম পেয়েছি। কেউ কেউ দেশে আছেন আর কেউ কেউ বিদেশে অবস্থান করছেন। এই ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকে না কেনো আমরা তাদের আইনের আওতায় আনবো।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে আর যেনো এমন ঘটনা না ঘটে, সেই জন্যে আমরা আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো ও স্থানীয়দেরকে সচেতন করার জন্যে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
এর আগে গত শনিবার লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে অবৈধভাবে ইতালী যাওয়ার পথে গ্রীসের উপকূলে ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু ঘটে, যাদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। এরমধ্যে সুনামগঞ্জের রয়েছে তিন উপজেলার ১২ জন রয়েছেন। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের কারণে ভূমধ্যসাগরে বোটই তারা প্রাণ হারান। পরে তাদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। ওই দলের উদ্ধার হওয়া একজন ও নিহত পরিবার সুনামগঞ্জে ১২ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।
নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ৬ জন, দোয়ারাবাজারের ১ জন ও জগন্নাথপুরের ৫ জন। নিহতদের স্বজনরা অভিযোগ দিরাই উপজেলার মানবপাচারকারীর সঙ্গে জনপ্রতি ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। চুক্তি অনুযায়ী বড় ও নিরাপদ নৌকায় করে যাত্রার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়।



