কানাইঘাটে হাওর পাড়ের ত্রাস জাকারিয়া গ্রেফতার
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন
কানাইঘাট (সিলেট) থেকে নিজেস্ব সংবাদদাতা : সিলেটের কানাইঘাটের হাওর পাড়ের ত্রাস জাকারিয়া আহমদকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বানীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী সড়কের কুদরতের দোকান এলাকা থেকে দেশীয় রামদা সহ তাকে গ্রেফতার করে কানাইঘাট থানা পুলিশ।
জাকারিয়া বড়দেশ উত্তর গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বীরদল হাওর এলাকায় একের পর এক নানা ধরণের অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিল জাকারিয়া। এলাকাবাসী তার অপরাধমূলক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হলেও ভয়ে মুখ খুলতে পারতো না। বারবার থানা পুলিশকে গ্রেফতারের দাবী জানালেও বিগত সরকারের দলীয় প্রভাবে ধরাছোঁয়ার বাহিরে থেকে সে নির্দ্বিধায় তার অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যেত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাওর এলাকার ত্রাস ও যুবলীগ ক্যডার জাকারিয়া সর্বশেষ তার দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে বড়দেশ উত্তর নয়াগ্রামের দুবাই প্রবাসী আব্দুল হাইর মালিকানাধীন এমএএইচ ফিসারিজ এন্ড এগ্রো র্ফাম থেকে গত ১৪ র্মাচ সকালে জাল দিয়ে লক্ষাধিক টাকার মাছ লুট করে এবং খামারের পাড়ে রোপণকৃত অর্ধশতাধিক বিভিন্ন জাতের ফলজ গাছ কেটে ফেলে ক্ষতিসাধন করে। মাছ লুট ও গাছ কর্তনের প্রতিবাদ করতে গেলে জাকারিয়া ও তার সহযোগীরা খামারের শ্রমিকদের মারধর করে। এ ঘটনায় প্রবাসী আব্দুল হাই এর ছেলে জাহিদুল হক জাকারিয়াদের বিরুদ্ধে গত ২১ মার্চ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের পর জাকারিয়া আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। ক্ষিপ্ত হয়ে সে গত ২৭ মার্চ জাহিদুল ইসলামের এমএএইচ ফিসারিজ এন্ড এগ্রো র্ফাম এর পাড়ে অবস্থিত গরুর খামার থেকে সকালে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধ হয়ে ভয়ভিতী প্রদর্শন করে ৩ টি গরু নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত শুক্রবার জাহিদুল হক বাদী হয়ে জাকারিয়া আহমদ সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় আরো একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর থেকে কানাইঘাট থানা পুলিশ হাওর পাড়ের ত্রাস জাকারিয়াকে গ্রেফতার ও নিয়ে যাওয়া গরুগুলো উদ্ধার করতে অভিযানে নামে। এরই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১১ টার দিকে কানাইঘাট থানা পুলিশ কৌশল অবলম্বন করে শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
জাকারিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর জাহিদুল হক বলেন, তার বাবা আব্দুল হাই একজন দুবাই প্রবাসী। এলাকার মানুষকে স্বাবলম্বী করতে উৎসাহ দেওয়ার জন্য বড়দেশ হাওর এলাকার উন্দ্রাকান্দি মৌজায় বৃহৎ পরিসরে বেশ কয়েকটি মৎস্য খামার কয়েক বছর পূর্বে গড়ে তুলেন। এতে এলাকার আরো অনেকে হাওর এলাকায় মৎস্য খামার করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। কিন্তু এলাকার চিহ্নিত অপরাধী জাকারিয়া হাওর এলাকায় অপরাধের সম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। তাদের খামার থেকে মাছ চুরি,লুট সহ খামারের গাছপালা কেটে নেওয়া সহ খামারের ক্ষতি সাধনে সব সময় লিপ্ত ছিল।জাকারিয়াকে গ্রেফতার করায় কানাইঘাট থানাপুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাহিদুল হক তার সঙ্গীদের গ্রেফতারের দাবী জানান।
যুবলীগ ক্যডার জাকারিয়া বিগত ১৫ বৎসর দলের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় এক ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করে আসছিল। ৫ আগষ্টের পর কিছুদিন পালিয়ে থাকলেও হাওর এলাকায় আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠে। স্থানীয় অনেকে জানান, আওয়ামীলীগ সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল তখন জাকারিয়া এলাকায় যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে প্রকাশ্যে মাদক, ইয়াবা বিক্রি এবং তার আস্তানা হাওর এলাকার বড় মাগুরি জলমহালে চিহ্নিত জুয়াড়ীদের নিয়ে সবসময় মদ ও গানের আড্ডা বসাতো। এমনকি ধারালো অস্ত্র নিয়ে জাকারিয়া এলাকায় দাপিয়ে চলতো বলে তারা জানান। তার বিরুদ্ধে থানায় এক শিক্ষিকাকে প্রাণনাশে হুমকী সহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে বলে বড়দেশ এলাকার অনেকেই জানিয়েছেন। জাকারিয়ার গ্রেফতারের খবর জানাজানি হলে এলাকার জনমনে স্বস্তি সহ মানুষের মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। তার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী জানিয়ে অনেকে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকেও অভিমত ব্যক্ত দাবী তুলেছেন।
থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জাকারিয়াকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত রয়েছে তাদেরকে গ্রেফতার করতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে জাকারিয়াকে পুলিশের হেফাজতে আদালতে প্রেরণ করা হবে।



