জীবনও গেল, টাকাও গেল
সুদের টাকা দালালকে দিয়ে গ্রিস যাত্রা করেছিলেন ছাতকের মুহিবুর
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন
রাজ উদ্দিন (জাউয়া) থেকে : ৫ লক্ষ টাকা সুদে এনে এবং জায়গা জমি বন্ধক রেখে দালালকে ১৩ লাখ টাকা প্রদান করে ইউরোপ যাত্রা করেছিলেন ছাতকের মুহিবুর রহমান (২৪)। কিন্তু, ভূমধ্যসাগরেই নিভে গেল তার ও তার পরিবারের স্বপ্নসাধ। তার পরিবারের এখন চলছে মাতম। মুহিবুর এর গেইমে সাথে থাকা সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার সাদিপুর গ্রামের মারুফ আহমদ গ্রীস পৌঁছে মুহিবুর এর বাড়িতে মোবাইলে ফোন করে তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, ছাতকের ভাতগাঁও ইউনিয়নের গাগলাজুর গ্রামের নুরুল আমিন এর ৪ ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার বড় মুহিবুর রহমান।
গেইম তার সাথে থাকা ব্যক্তি আরো জানান, দীর্ঘ সময় নৌকায় থাকায় মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। এ কারণে মরদেহগুলো সাগরে ফেলে দেয়া হয়। মারুফ জানান, গেইমের নৌকাতে প্রথম মুহিবুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। তবে, তার মরদেহের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ১৩ জনই সুনামগঞ্জ জেলার।
মুহিবুর রহমানের চাচাতো ভাই ভাতগাঁও ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড এর সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ সুনু মিয়া তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মৃত্যুর খবর শুনে মুহিবুরের পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার ছোট ভাই হাফিজুর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মা মহিমা বেগম অনেকটা শয্যাশায়ী। সবকিছু হারিয়ে পিতা নুরুল আমিন অনেকটা বাকরুদ্ধ।
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোম্যাসি চাকমা বলেন, এ বিষয়ে খবর নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বিমানযোগে গ্রিস পৌঁছানোর জন্য ১৩ লাখ টাকায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের বাগেরকোনা গ্রামের দালাল নবীর হোসেনের সাথে মুহিবুরের চুক্তি হয়। তাকে প্রথমে সৌদি আরব পরে মিশর হয়ে লিবিয়া নিয়ে একটি ক্যাম্পে রাখা হয়। সেখানে থেকে তাকে বিমান ফ্লাইটে না দিয়ে দালালরা ভূমধ্যসাগরের পথে রাবারের নৌকার গেইমে তুলে দেয়। ৬ দিন ৬ রাত সাগরে নৌকায় ভেসে থাকতে হয় তাকে। খাবারের অভাবে না খেয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে সে। এক পর্যায়ে গেইমের রাবারের নৌকার মধ্যে মুহিবুর এর মৃত্যু হয়।



