সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে অর্থ আত্নসাৎ : সিলেটে প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেফতার- ২
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪১:৪৬ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতারণামূলকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্নসাৎ করার দায়ে প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বাগৃহালের মো. আনহার হোসেনের ছেলে মো. কামরুল হাসান হিমেল (৩২) ও এবং সিলেটের জৈন্তাপুরের ঘাটের চটির মো. আব্দুল বারেকের ছেলে শরীফ আহমদ (৪২)।
র্যাব জানায়, মো. কামরুল হাসান হিমেল (৩২) প্রধানমন্ত্রীর এপিএস এর ছবি সম্বলিত ফেইক ফেইসবুক আইডি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে এপিএসের ছবি সম্বলিত ফেইক ফেইসবুক আইডি ব্যবহার করে ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে ছবি ব্যবহার করে ফেইসবুকে পোষ্ট দিয়ে সাধারণ জনগনকে বিভ্রান্তসহ প্রতারণা করে বিভিন্ন ব্যক্তিদের অনৈতিক সুবিধা ও অবৈধ তদবির করার জন্য অন্য ব্যক্তির নামে নিবন্ধনকৃত সিম দিয়ে যোগাযোগ করে বিভিন্ন বিকাশ, নগদ ও ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয়। হিমেল কমিশন দেওয়ার বিনিময়ে তার সহযোগী শরীফ আহমদের বিভিন্ন বিকাশ, নগদ ও ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করত। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাকে এই প্রতারণামূলক কাজে সহায়তা করত বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে র্যাব বৃহস্পতিবার রাত ১১ টায় সিলেট নগরীর কোতয়ালী থানাধীন কাজীটুলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতারণামূলকভাবে বিপুল পরিমান অর্থ আত্নসাৎ করার মূলহোতাকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি করে জবফসর অ৩ ব্র্যান্ডের স্মার্ট মোবাইল ফোন, ঝধসংঁহম এধষধীু গ১১ ব্র্যান্ডের স্মার্ট মোবাইল ফোন, রঢ়যড়হব ১৬ চৎড় গধী ব্র্যান্ডের স্মার্ট মোবাইল ফোন ও একটি খওঘঘঊঢ খঊ০১ ব্র্যান্ডের বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তির আলোকে তার অপর একজন সহযোগী শরীফ আহমদকেও গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে একটি ঠওঠঙ ণ২১ ব্র্যান্ডের স্মার্ট মোবাইল ফোন, একটি নড়হঃবষ ঈ৪ ব্র্যান্ডের বাটন মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ৭টি চেক বহি উদ্ধার করা হয়।
মো. কামরুল হাসান হিমেল র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানায় যে, সে বিভিন্ন নাম্বারে হোয়্যাটস্অ্যাপ একাউন্ট খুলে প্রধানমন্ত্রীর এপিএস এর ছবি ব্যবহার করে সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করত এবং সাধারণ জনগণকে বিভিন্ন কাজ, বদলী, পদোন্নতিসহ বিভিন্ন ধরণের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিত। সে সরাসরি কোন নাম্বারে কথা না বলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অন্য ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে নিবন্ধিত সিম দিয়ে হোয়াটস্অ্যাপ একাউন্ট খুলে অনলাইনে যোগাযোগ করতো। সে আর্থিক লেনদেন নিজস্ব একাউন্টে না করে তার সহযোগী শরীফের ব্যাংক একাউন্ট, বিকাশ, নগদ এবং অন্যান্য অনলাইন পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করতো এবং বিনিময়ে শরীফকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন দিত। তার কাছ থেকে জব্দকৃত আলামত বিশ্লেষণ করে তার মোবাইল ফোনে প্রধানমন্ত্রীর এপিএসের পরিচয়ে একাধিক ফেইক ফেইসবুক আইডির তথ্য পাওয়া যায় এবং তার হোয়াটস্অ্যাপ চেক করে বিভিন্ন প্রতারণামূলক কর্মকান্ড ও অবৈধ লেনদেনের বিষয়াদি সুস্পষ্ট হয়। গ্রেফতারকৃত হিমেলের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলার সাভার থানায় ২টি মামলা রয়েছে।
ইতিপূর্বে হিমেল আওয়ামীলীগ সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও প্রধানমন্ত্রীর এপিএস, পিও ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পিআরও পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত একই রকম প্রতারণা মূলক কর্মকান্ড করেছে মর্মে স্বীকার করেছে।
শুক্রবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছেন র্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কেএম শহিদুল ইসলাম সোহাগ। তিনি জানান, পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়কে এসএমপির কোতয়ালী থানায় হস্তান্তর করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



