সিলেটবাসীর কাছে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিলেন সাইফুর রহমান: সিসিক প্রশাসক
সাইফুর রহমানের মৃত্যুতে ষড়যন্ত্র আছে কিনা, খুঁজে দেখা দরকার-রুহুল কবির রিজভী
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৯:৪২ অপরাহ্ন
সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুর পেছনে কোনো ‘ষড়যন্ত্র আছে কিনা’ তা অনুসন্ধান করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল সোমবার দুপুরে এম সাইফুর রহমানের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “একটা বিষয় আমার মনের মধ্যে সবসময় উঁকি দেয়। সাইফুর রহমান সাহেব দুর্ঘটনায় মারা গেলেন। এটা কি কেবলই দুর্ঘটনা ছিল, না কোনো জাতীয়, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ছিল— এটাও আজ আমাদের খুঁজে বের করা দরকার। কারণ তার মতো একজন মানুষ, যিনি এরকম একটি ছোট দেশ, দারিদ্র পীড়িত দেশকে একটি অর্থনীতির ভিত্তির উপরে যিনি দাঁড় করিয়েছেন, একটা ফাউন্ডেশন দিয়েছেন, এটা অনেক দেশ পছন্দ করেনি।
তিনি বলেন, “অনেক দেশ বা ভেতরের অনেক শক্তি, যারা জাতীয়তাবাদী শক্তিকে পছন্দ করে না, বাংলাদেশ নিজের অর্থনীতিতে গড়ে উঠবে, নিজের কৃষি অর্থনীতির উপরে ভিত্তি করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হবে, এটা আমার মনে হয় কেউ কেউ পছন্দ করেনি। তাই একটা সন্দেহ কিন্তু আছে তার মৃত্যুর দুর্ঘটনা নিয়ে ? আমরা তখন থেকে শুনেছি যে, সাইফুর রহমান সাহেবের এই দুর্ঘটনা কি নিছক দুর্ঘটনা? এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা, এটি আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।”
সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ব্রাক্ষণবাড়িয়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মারা যান। সেদিন মৌলভীবাজারের নিজ বাড়ি ঢাকা আসছিলেন তিনি। জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রয়াত অর্থমন্ত্রীর স্মরণে এ সভার আয়োজন করে এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ।
প্রয়াত অর্থমন্ত্রীর প্রশংসা করে রিজভী বলেন, “ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, তিনি নিজেও অর্থনীতিবিদ, তিনি সাইফুর রহমানের পলিসি, সাইফুর রহমানের নীতির উপর ভিত্তি করে, বাংলাদেশের অর্থনীতির যে উদারীকরণ, যে লিবারলাইজেশন, সেটিকে তিনি অনুসরণ করে ভারতে চালু করেছেন। আমরা সেই সাইফুর রহমানকে অনেক সময় ভুলে যাই। আমাদের ভুলে যাওয়া চলবে না, আমাদেরকে স্মরণ করতে হবে।”
সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “এম সাইফুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি তৈরির কারিগর। মুক্তবাজার অর্থনীতির মাধ্যমে কীভাবে দেশকে সামনের দিয়ে, অগ্রসর পথে নিয়ে যাওয়া যায়, তার মহাকর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন তিনি। এজন্য তিনি অর্থনীতি খাতে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছিলেন সফলভাবে।”
সিলেটের মানুষের কাছে এম. সাইফুর রহমানের পরিচয় শুধু একজন অর্থমন্ত্রী হিসেবে নয়। তিনি ছিলেন সিলেটের উন্নয়ন ও সম্ভাবনার একজন অকুতোভয় স্বপ্নদ্রষ্টা। শিক্ষা, যোগাযোগ, অবকাঠামো, ক্রীড়া ও সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর উদ্যোগের কথা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। সিলেটকে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার যে প্রত্যয় তাঁর মধ্যে ছিল, সেটিই তাঁকে সিলেটবাসীর কাছে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
এম সাইফুর রহমানের ছেলে সংসদ সদস্য এম নাসের রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউস এমপি। জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সভাপতি হেলাল খান সহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সভায় উপস্থিত ছিলেন।




