জামালগঞ্জে প্রতিবন্ধী ৭ সন্তান নিয়ে জীবনযুদ্ধের মহাসংকটে উস্তার আলী
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ নভেম্বর ২০২৫, ৬:২১:৩২ অপরাহ্ন
অঞ্জন পুরকায়স্থ, জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) থেকে ॥ জামালগঞ্জের উত্তর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের হোসেনপুর গ্রাম। হালির হাওরের দক্ষিণ-পূর্বে বৌলাই নদীর তীরে অবস্থিত এক দরিদ্র জনপদ। শিক্ষার আলোর স্পর্শ থেকে বঞ্চিত এই গ্রামসহ আশপাশের আরও সাতটি গ্রামে নেই কোনো স্কুল, মাদ্রাসা কিংবা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আর্থিক দৈন্যদশা ও সচেতনতার ঘাটতিতে শিশুদের মধ্যে পুষ্টিহীনতা ও শিক্ষাবঞ্চনা প্রকট। জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ভাটিলালপুর বাজার থেকে বৌলাই নদী পার হলেই যে ফেরিঘাট সেখানেই বসবাস উস্তার আলীর। বয়স প্রায় ৬০।
জানা যায়, উস্তার আলীর দুই সংসারে মোট ১১জন সন্তান। তাদের মধ্যে ৭ জনই বাক্প্রতিবন্ধী। একজন আংশিক সুস্থ ছেলে ফেরি চালিয়ে যা আয় করে, তা দিয়ে এতগুলো প্রতিবন্ধী সন্তানের ভরণপোষণ প্রায় অসম্ভব। কোনোভাবে সংসার সামলে নিচ্ছেন স্ত্রী মিনারা বেগম। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও রয়েছে স্মৃতিশক্তি প্রতিবন্ধকতার লক্ষণ। একটি সুস্থ ছেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। চতুর্থ সন্তান জুনেল মিয়া আগে প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও গত দুই বছর ধরে ভাতা বন্ধ, কেন বন্ধ হয়েছে তাও জানার সাহস রাখে না পরিবারটি। এতে তাদের কষ্ট আরও বেড়েছে বলে জানান মিনারা। সংসারের চাপ ও ফেরিঘাটের ইজারা বজায় রাখতে মান্নানঘাট বাজারের কাছে ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিতে হয়েছে, যার মাসিক কিস্তি ১১ হাজার টাকা। ঋণের কিস্তি, প্রতিবন্ধী সন্তানদের দেখাশোনা ও দৈনন্দিন খরচ সব মিলিয়ে পরিবারটি চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছে। কথা বলার সময় দেখা যায়, দুই প্রতিবন্ধী সন্তান কষ্টে সৃষ্টে মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছেন। পাশের গ্রামে বিয়ে দিয়েছেন এক মেয়েকে। মিনারা জানান, গত বছর সিলেটের বহরপুরে থাকাকালে এক প্রবাসী দয়া করে কিছু টাকা, ইট-পাথর দিয়ে তাদের মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
উস্তার আলী বলেন, ডিসি স্যারের দয়ায় ফেরিঘাটের ইজারা পাওয়ায় কোনো রকমে সংসারটা চলছে। আর কোনো সম্বল নেই। স্যারের জন্য সব সময় দোয়া করি। উস্তার আলীর এই অসহায় পরিবারকে দেখতে গিয়ে দেখা মেলে স্থানীয় পল্লীচিকিৎসক দেলোয়ার হোসেনের। আরও উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ উপজেলা জামায়াত ইসলামের নায়েবে আমীর ফখরুল আলম চৌধুরীসহ সঙ্গীয় নেতৃবৃন্দ। তারা প্রত্যেকে প্রতিবন্ধী এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
প্রতিবন্ধী ভাতা বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাব্বির সারোয়ার বলেন, কেন বন্ধ রয়েছে তা এখনও আমি নিশ্চিত নই। তবে উপকারভোগী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অফিসে এলে আমরা দ্রুত বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।




