৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপলো দেশ, ১০ জনের মৃত্যু
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ৯:০৭:০৪ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : রাজধানীসহ সারাদেশে অনুভূত শক্তিশালী ভূমিকম্পে গতকাল শুক্রবার শিশুসহ দশজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ঢাকায় ৪ জন, নারায়ণগঞ্জে ১ জন এবং নরসিংদীতে ৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আহত ৬ শতাধিক মানুষ দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ২০০জন ভর্তি হয়েছেন।
গতকাল শুক্রবার রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট ৬০৬ জন আহত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৬৭ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতর অবস্থায় ১৬ জনকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এর বাইরেও বহু রোগী দেশের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং কোথাও কোথাও ভর্তি রয়েছেন বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, এই তথ্য এখনো হালনাদাগকৃত তথ্যে যুক্ত হয়নি। ফলে আহতের সংখ্যা হাজারের বেশি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
গতকাল সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ৫। এর কেন্দ্রস্থল নরসিংদী। ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ৬ শিক্ষার্থীসহ ৪১ জন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীসহ ৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে ১০ জনকে নেওয়া হয়েছে। ঢাকার বাইরেও আহত হয়েছেন অনেকে।
২৬ সেকেন্ড স্থায়ী এ ভূমিকম্পে প্রাথমিকভাবে আতঙ্ক ছড়ায়, বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে মানুষ। এরপর আসতে থাকে প্রাণহানি আর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য। এই ভূখণ্ডে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পেরও ইতিহাস রয়েছে। তবে গত কয়েক দশকের মধ্যে এমন প্রাণঘাতি ভূমিকম্প দেশের মানুষ আর দেখেনি। ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, “দুটো প্লেটের সংযোগস্থলে এ ভূমিকম্পটি হয়েছে, ইন্দো-বার্মা টেকটোনিক প্লেটে। ভূমিকম্পের কম্পনের তীব্রতা ছিল বেশ। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”
হতাহতের চিত্র
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আরমানিটোলার কসাইটুলি এলাকার একটি ৮ তলা ভবনের পাশের দেয়াল এবং কার্নিশ থেকে ইট ও পালেস্তারা খসে নিচে পড়ে, যেখানে একটি গরুর মাংস বিক্রির দোকান ছিল। সেখানে থাকা ক্রেতা ও পথচারীরা আহত হন। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় লোকজন তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা ৩ জনকে মৃত ঘোষণা করেন।
বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতরা হলেন- আনুমানিক ২২ বছর বয়সী রাফিউল ইসলাম, হাজী আবদুর রহিম (৪৭) ও তার ছেলে মেহরাব হোসেন রিমন (১২)।
রাফিউল ইসলাম স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমুহ) চিকিৎসক আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান।
এদিকে, ঢাকার মুগদা এলাকায় ভূমিকম্প নির্মাণাধীন একটি ভবনের ছাদের রেলিং ধসে এক নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। ভূমিকম্পের সময় মাকসুদ নামে ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। মুগদা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে মুগদা থানার পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মুগদা ওয়াসা রোডের একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন ৫০ বছর বয়সী মাকসুদ। ভূমিকম্পের সময় তিনি ভবনের উপরে ছিলেন, ভয় পেয়ে দৌড়ে নিচে নেমে আসেন।
“বাইরে আসার পরপরই ওই ভবনেরই ছাদের রেলিং ভেঙে পাশের ভবনের উপর পড়ে, সেখান থেকে তার মাথায় পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।”
মুগদা জেনারেল হাসপাতাল থেকে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পরিদর্শক আসাদুজ্জামান।
থানার এসআই উত্তম মিত্র জানান, নিহত মাকসুদের বাড়ি নোয়াখালীর রামগতি থানার চরসীতা গ্রামে।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার একটি ভবনের দেয়াল ধসে ফাতেমা নামের দশ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় শিশুটির মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগম আহত হন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ভূমিকম্পের সময় ভুলতা গাউছিয়া যাওয়ার পথে সড়কের পাশের দেয়াল ধসে নবজাতক ফাতেমা, তার মা কুলসুম বেগম এবং প্রতিবেশী জেসমিন বেগমের ওপর পড়ে। এ সময় ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে দেয়ালের নিচ থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত অবস্থায় কুলসুম বেগম এবং জেসমিন বেগমকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করেন। রূপগঞ্জ থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, নিহত শিশু ফাতেমা ওই এলাকার আব্দুল হকের মেয়ে; তিনি ঢাকার শ্যামবাজারে ব্যবসা করেন।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতেই প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন। নিহতদের মধ্যে সানশেড ভেঙে মাথায় পড়ে বাবা-ছেলে, দেয়াল চাপায় এক বৃদ্ধ ও গাছ থেকে পড়ে একজন মারা গেছেন। অপরজন প্রাণ হারিয়েছেন আতঙ্কে হƒদরোগে আক্রান্ত হয়ে। সদর হাসপাতাল ও পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষসহ নরসিংদীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলি এলাকার দেলোয়ার হোসেন উজ্জ¦ল (৪০) ও তার ছেলে হাফেজ মো. ওমর (৮), পলাশ উপজেলার মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কাজেম আলী ভূইয়া (৭৫) ও কাজীরচর নয়াপাড়া গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিন (৬৫) এবং শিবপুরের জয়নগর ইউনিয়নের আজকীতলা গ্রামের ফোরকান মিয়া (৪৫)।
নরসিংদীতে সার্কিট হাউজ-পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভূমিকম্পের সময় সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলি এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল থেকে ইট ধসে পাশের বসতবাড়ির ছাদের ওপর আছড়ে পড়ে।
এতে বাড়ির সানশেড ভেঙে দেলোয়ার হোসেন উজ্জ¦ল তার ছেলে মো. ওমর ও দুই মেয়ে আহত হন।
তাদেরকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাবা ও ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নিয়ে গেলে ওমরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। বাবা দেলোয়ার হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক।
ওমরের চাচা জাকির হোসেন বলেন, “ভূমিকম্পের সময় দেলোয়ার তার এক ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে বাইরে যাচ্ছিলেন। এসময় বাসার সানশেড ভেঙে তাদের উপর পড়ে দুইজন গুরুতর আহত হন।
“পরে স্থানীয়রা তাদেরকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে বাবা ও ছেলেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসক ওমরকে মৃত ঘোষণা করেন।”
দেলোয়ারের দুই মেয়ে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ভূমিকম্পের সময় মাটির ঘরের দেয়াল ধসে প্রাণ হানিয়েছে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের কাজেম আলী ভূইয়া (৭৫)। তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে নরসিংদী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অপরদিকে শিবপুর মডেল থানার ওসি মো. আফজাল হোসাইন বলেন, ভূমিকম্পের সময় গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন শিবপুর উপজেলার ইউনিয়নের আজকীতলা পূর্বপাড়া গ্রামের শরাফত আলীর ছেলে ফোরকান মিয়া (৪৫)। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান। এ ছাড়া ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে হƒদরোগে আক্রান্ত হন ৬৫ বছরের নাসির উদ্দিন। তিনি কাজীরচর নয়াপাড়া গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়দের বরাতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, ভূমিকম্পের সময় ফসলি জমি থেকে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে আসার পথে হƒদরোগে আক্রান্ত হন নাসির উদ্দিন। রাস্তা থেকে নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই তাৎক্ষণিক মৃত্যুবরণ করায় নিকটাত্মীয়রা তার লাশ হাসাপাতালে নেননি।
এদিকে গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজের উপ-পরিচালক আব্দুল সালাম সরকার বলেন, “এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে ভূমিকম্পে কম বেশি আহত এ হাসপাতালে এসেছেন।”
তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ৭২ জনের মধ্যে ৪৯ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন ৫৩ জন। তাদের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন ১৫ জন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের তিনতলা ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের চারতলা থেকে নিচে লাফ দিয়ে তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এছাড়া সিড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পা ভেঙেছেন ছাত্রদল নেতা তানভীর বারী হামিম, আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
কলাবাগানের লেক সার্কাস রোড, হাতিরপুল, সেন্ট্রাল রোড, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর, এলিফেন্ট রোড, মিরপুর, গুলশান, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায়, মানুষকে দ্রুত ভবন ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। সিঁড়ি বেয়ে নামার সময় কে কার আগে নামবেন তা নিয়ে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিও হয়।
ভবনে ফাটল
গত কয়েক দশকের মধ্যে প্রাণঘাতী এ ভূমিকম্পে ঢাকায় অনেক ভবনে ফাটল ও পলেস্তরা খসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।উত্তর বাড্ডার বাসিন্দা সাংবাদিক ইমরান হোসেন জানান, সকালে ঘুমের মধ্যে শক্ত ঝাঁকুনি অনুভব করে অনেকেই বিচলিত হয়ে পড়েন। ভূমিকম্প টের পেয়ে অনেকেই বাসভবন থেকে বেরিয়ে পড়েন। অনেক ভবনে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। নিউ মার্কেট থানার ওসি এ কে এম মাহফুজুল হক বলেন, তাদের থানা ভবনের ৩, ৪ ও ৫ তলায় ফাটল ধরেছে।
নিউ মার্কেটের সামনে একটি ভবন হেলে পড়ার গুঞ্জনের বিষয়ে তিনি বলেন, “সে রকম কিছু না। ভবন মালিকের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি, ভবনের ডিজাইনই এ রকম।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসিন হল, কবি জসীমউদ্দিন হল, স্যার এ এফ রহমান, মোকাররম ভবন, শেখ ফজলুল হলসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে।
গাজীপুরে হেলে পড়েছে ছয়তলা একটি ভবন, ফাটল ধরেছে এক মাদ্রাসার দেয়ালে।
টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন বলেন, “স্টেশন রোডে একটি ছয় তলা ভবন হেলে আরেকটি ভবনের সঙ্গে লেগে গেছে। এতে ভবনটির বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।”
ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ভূমিকম্প টের পেয়ে আতঙ্কিত মানুষ ছুটে ভবনের নীচে নেমে ফাঁকা জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। বহুতল ভবনগুলোতে মানুষ পিলার ধরে থাকার কথা জানিয়েছেন। অনেকে ভূমিকম্পের সিসি ক্যামেরার ভিডিও শেয়ার করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের একটি কক্ষের জিনিসপত্র তছনছ হয়ে গেছে।
ফায়ার সার্ভিসের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা
বেলা ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া ক্ষয়ক্ষতির একটি তালিকা দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।
১. আরমানিটোলার কসাইটুলি এলাকায় ৮ তলা ভবন ধসে পড়ার খবর পেয়ে সদরঘাট ও সিদ্দিকবাজার ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট সেখানে যায়। তারা দেখতে পায় পলেস্তারার কিছু আলগা অংশ এবং কিছু ইট খসে পড়েছে। ভবনের কোনো ক্ষতি হয়নি।
২. খিলগাঁও নির্মাণাধীন ভবন থেকে পার্শ্ববর্তী দোতলা একটি ভবনে একটি ইট পড়ে একজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
৩. বারিধারা ব্লক-এফ, রোড-৫ এ একটি বাসায় আগুনের খবর পাওয়া যায়। বারিধারা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট সেখানে গিয়ে আগুন নেভায়। ভূমিকম্পের কারণেই ওই আগুন লেগেছিল কিনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
৪. সূত্রাপুর স্বামীবাগ আট তলা একটি ভবন অন্য একটি ভবনে হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সূত্রাপুর ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেছেন।
৫. প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। স্যাটেলাইট ফায়ার স্টেশন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কোনো ক্ষয়ক্ষতি নেই।
৬. কলাবাগানের আবেদখালী রোডে একটি ৭ তলা ভবন হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশন থেকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ভবন ঠিক আছে, লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ফোন করেছিল।
৭. মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় একটি বাসা বাড়িতে আগুন লাগে। গজারিয়া ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট সেখানে যায়।
ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাতীয় গ্রিডের সাবস্টেশনের যন্ত্রাংশ পুড়ে বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ।
সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ভয়াবহ ভূমিকম্পে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানান পলাশ ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা মো. আব্দুল শহিদ। ভূমিকম্পের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ার তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবি।
বোর্ড জানিয়েছে, উৎপাদন বিঘ্নিত হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।
পিডিবি এক বার্তায় বলেছে, “শক্তিশালী ভূমিকম্পজনিত কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
কিছু সময়ের জন্য বিঘ্নিত হয় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক।


