রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের আলোচনা সভায় বক্তারা
রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর স্বপ্নই ছিল মানুষের কল্যাণ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ৯:০০:২৬ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের কো-ফাউন্ডার মহীয়সী নারী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর জীবন ও কর্মের ওপর আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানব সেবায় নিবেদিত প্রতিষ্ঠান রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন নগরীর বন্দরবাজারস্থ মধুবন সুপার মার্কেটের ৬ষ্ট তলায় রাগীব-রাবেয়া মিউজিয়াম এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ছিলেন নিজ গুণে গুণান্বিত একজন মানুষ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য তথা মানব উন্নয়নে তাঁর রয়েছে অনবদ্য অবদান। সিলেট অঞ্চলের মানুষ তার এই অবদান যুগের পর যুগ মনে রাখবে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা, দেশ বরেণ্য শিল্পপতি, দানবীর ড. রাগীব আলী বলেন, আমার সহধর্মিণী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর স্বপ্নই ছিল মানুষের কল্যাণ। তার প্রেরণা মানবিক কাজে এগিয়ে যেতে আমাকে সাহস যোগায়। যে কারণে আমার সব অর্জন মানব কল্যাণে বিলিয়ে দিয়েছি। যাতে সিলেট তথা এ দেশের মানুষের দু:খ দুর্দশা লাঘব হয়, সাধারণ মানুষ উপকার লাভ করে।
সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটি এবং প্রথম বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দানবীর ড. রাগীব আলী আরো বলেন, একজন একনিষ্ঠ সমাজসেবী হিসেবে রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর অবদান অনস্বীকার্য। শুধু বেগম রাবেয়া নয়, সমাজের যে কোন গুণী মানুষকে স্মরণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ বর্তমান যুগে নৈতিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষের অভাব।
তিনি বলেন, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনভুক্ত যেসব শিক্ষা ও স্বাস্থ্যধর্মী যত প্রতিষ্ঠান মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, এর প্রায় সবকটা প্রতিষ্ঠানে জড়িয়ে আছে রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর স্মৃতি। এই স্মৃতি আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়। আরো মানবিক কাজে এগিয়ে যাওয়ার সাহস যোগায়। তাকে একদিনের জন্যও ভুলতে পারি না। তাঁর এবং আমার মানবিক চিন্তা চেতনার সম্মিলিত প্রয়াস হচ্ছে শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক এসব প্রতিষ্ঠান। দানবীর ড. রাগীব আলী বলেন, এই সেবার বিনিময়ের কারণে আল্লাহপাক তাকে পরকালীন শান্তি দান করুন।
রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের সিইও, সাবেক অতিরিক্ত সচিব বনমালী ভৌমিকের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও দৈনিক সিলেটের ডাক-এর সম্পাদক আব্দুল হাই, লিডিং ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন ও জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. মো. তারেক আজাদ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও দৈনিক সিলেটের ডাক এর সম্পাদক আব্দুল হাই বলেন, রাবেয়া খাতুন চৌধুরী এমন একটি নাম-যার সাথে মানবিকতার ছোঁয়া জড়িয়ে আছে। একটি মার্জিত রুচিবোধের জীবন বলতে যা বোঝায়-সবছিলো তার মধ্যে। তিনি আজীবন কর্মের মধ্যে বেঁচে থাকবেন বলে উল্লেখ করেন।
আলোচনা সভায় প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন বলেন, সমাজের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে আছে এই মহীয়সী নারীর অবদান। যার অনন্য প্রমাণ জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও লিডিং ইউনিভার্সিটির মত প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, এই মহীয়সী নারীর প্রেরণাতেই দানবীর ড. রাগীব আলী শিক্ষিত ও দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি করতে গড়ে তুলেছেন শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানসমূহ। তিনি মহীয়সী নারী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. তারেক আজাদ বলেন, মানবসেবার ব্রত নিয়ে পথ চলতেন বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। সমাজে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাঁর জীবন ও কর্ম আমাদের পাথেয় হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের সচিব ইঞ্জিনিয়ার লুৎফর রহমান এবং পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফিজ আব্দুল্লাহ আল ফাহিম।
লিডিং ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সেকশন অফিসার জসীম আল ফাহিমের সঞ্চালনায় সভায় অনুভূতি ব্যক্ত করেন দানবীর ড. রাগীব আলীর নাতি রাফে হাই ও আজমাইন হাই, লিডিং ইউনিভার্সিটির ডিন প্রফেসর ড. বশির আহমদ ভূইয়া, রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম, পরিচালক (অর্থ) মো. কবির আহমদ, টুকের বাজার ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান, মধুবন সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী আকিক, মধুবন সুপার মার্কেটের ম্যানেজার সাজ্জাদ উর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের সদস্য দেওয়ান সাকিব আহমদ। দোয়া পরিচালনা করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. জিয়াউর রহমান। কবিতা আবৃত্তি করেন রাগীব-রাবেয়া জামেয়া ইসলামিয়া সিদাইরগুলের মুহতামিম মাজহারুল ইসলাম আজাদী।



