বিদায়ী বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেট বিভাগে নিহত ৩৬৪
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন
বিদায়ী ২০২৫ সালে সিলেট বিভাগে ৩৫৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬৪ জন নিহত ও ৮৭২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী। বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলায় সবচেয়ে বেশি হতাহত হয়েছেন। উপজেলার মধ্যে মাধবপুর উপজেলায় সবেচেয়ে বেশি নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ২৭৩ জন পুরুষ, ৫৪ জন মহিলা ও ৩৭ জন শিশু রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১২২ জন চালক রয়েছেন।
মঙ্গলবার সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেট বিভাগের প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটি। সিলেট-চট্রগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মিশু গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন, স্থানীয় ৫টি দৈনিক পত্রিকা, ২টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন পত্রিকার তথ্য, অনুমেয় অনুজ্জ বা অপ্রকাশিত ঘটনা ও নিসচার শাখা সংগঠনগুলোর রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও নিসচা সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন তৈরী করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সিলেট বিভাগে ২০২৫ সালে ৩৫৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬৪ জন নিহত ও ৮৭২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩২ জন, সিএনজি লেগুনা চালক ও যাত্রী ৬৬ জন। আর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে ৬২টি দুর্ঘটনায় ৪৭ জন, পথচারী ৮৬ জন, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছের সঙ্গে ধাক্কায় ২৪টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত, মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২০টি দুর্ঘটনায় ১৩০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১২২ জন চালক রয়েছেন।
সিলেট জেলায় ১৫৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫৮ জন নিহত ও ২৯৯ জন আহত, সুনামগঞ্জ জেলায় ৬৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত ও ১৭০ জন আহত, মৌলভীবাজার জেলায় ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬০ জন নিহত ও ৭০ জন আহত এবং হবিগঞ্জ জেলায় ৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭৯ জন নিহত ও ৩৩৩ জন আহত হয়েছেন।
সিলেট বিভাগের উপজেলাগুলোর মধ্যে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ২১টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন হয়েছেন।
প্রতিবেদনে সড়কে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ে অভাব, ট্রাস্কফোর্স কর্তৃক প্রদত্ত ১১১টি সুপারিশনামা বাস্তবায়ন না হওয়া, চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর প্রবণতা, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে ওভারটেকিং করা, লাইসেন্স ছাড়া চালক নিয়োগ, পথচারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব, সিটবেল্ট ব্যবহার না করা, বিরতি ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালানো, চালকেরা মাদকের আসক্তি, মহাসড়কে নির্মাণ ত্রুটি, গাড়িতে শিশুদের উপযোগী আসন না থাকা, সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও তিন চাকার গাড়ি বৃদ্ধি পাওয়া, মোটরসাইকেল চালকদের মানসম্মত হেলমেট ব্যববহার না করা, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, রোড মার্কিং পর্যাপ্ত না থাকা, রাস্তার পাশে হাটবাজার ও দোকানপাট বসানো ও চালকদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালানোকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার অভাব, সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮ এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া, অশিক্ষিত ও অদক্ষ চালক দ্বারা গাড়ি চালানো ইত্যাদি দুর্ঘটনা মূল কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া জেলা পর্যায়ে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে অতিরিক্ত লোক সংখ্যা, অপর্যাপ্ত রাস্তা, মোটরসাইকেল ও রিক্সার আলাদা লেন না থাকা, অবৈধ ব্যাটারীচালিত যান, সড়ক-মহাসড়কে উঠে বেপরোয়া গতিতে চলা, পথচারীদের নিয়ম না মানার প্রবণতা, জেব্রাক্রসিং, ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস ব্যবহার না করে যত্রতত্র পারাপার ও রাস্তা চলাচল, রাস্তা পারাপার ও গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করাকে দায়ী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে সিলেট বিভাগে ৩৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭৫ জন নিহত ও ৭০৯ জন আহত হয়েছিলেন।




