শাবিতে নির্বাচনের ছুটি ২ দিন : ভোটবঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৪:২৬ অপরাহ্ন
শাবি প্রতিনিধি : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) আগামী ১১ ও ১২ জানুয়ারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র দুই দিনের এই ছুটিকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘ভোটের অধিকার হরণের শামিল’ বলে অভিহিত করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে সকলের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আগামী ১১ ও ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর এই ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে ভোট দেওয়া অসম্ভব উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের এসব পোস্টে বলছেন, দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় সকল জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসেন। এছাড়া নির্বাচনের আগে দুইদিন দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এমতাবস্থায় উত্তরবঙ্গ কিংবা দক্ষিণ বঙ্গের শিক্ষার্থীরা কিভাবে বাড়িতে গিয়ে ভোট দিবে?
শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পোস্টে আরো উল্লেখ করেন, গত দেড় যুগে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ না থাকায় তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ এখনও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। ২০২৪ সালের সর্বশেষ ডামি নির্বাচনসহ বিগত তিনটি নির্বাচনে তারা ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ভোটাধিকার ফিরে পেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তে এবারও তারা সেই সুযোগ হারাতে বসেছেন বলে আশঙ্কা করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ গ্রুপগুলোতে এ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল তার ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘‘১১ তারিখ কি কোনোভাবে যান চলাচলের মতো অবস্থা থাকবে? বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে শুধুমাত্র ১১ ও ১২ তারিখ বন্ধের নোটিশ দেয়? এটা দ্রুত পরিবর্তন করে সংশোধিত নোটিশ দেওয়া জরুরি। নোটিশ আসতে দেরি হলে বাস বা ট্রেনের টিকেট কাটা নিয়ে আমাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে।’’
প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারী’ উল্লেখ করে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী শেখ ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘‘এত রক্তের বিনিময়ে আমরা আমাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছি। কিন্তু প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের কারণে মনে হচ্ছে এবারও আমরা ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত হবো। আমরা এই ছুটি বয়কট করছি এবং সবার সুবিধার্থে অন্তত এক সপ্তাহ ছুটির দাবি জানাচ্ছি।’’
ভৌগোলিক দূরত্বের বিষয়টি তুলে ধরে শাকিল মাহমুদ নামের আরেক শিক্ষার্থী লেখেন, ‘‘জাতীয় নির্বাচন নাকি ক্লাস—কোনটি গুরুত্বপূর্ণ? যেই শিক্ষার্থীর বাসা দিনাজপুর কিংবা কক্সবাজার, তার যাতায়াতে কতদিন সময় লাগে সেটা কি প্রশাসন জানে না? নির্বাচনের আগে-পরে পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে মাত্র দুই দিন ছুটি দেওয়া কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।’’
শিক্ষার্থীদের দাবি, ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং যাতায়াতের ভোগান্তি এড়াতে ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে দ্রুত নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হোক। অন্যথায় তরুণ প্রজন্মের প্রথম ভোট দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণই থেকে যাবে।
এদিকে এসব বিষয় জানতে উপাচার্যের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নি।




