কোম্পানীগঞ্জে বিশাল নির্বাচনী জনসভা
ভোটে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না : আরিফুল হক চৌধুরী
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১:৪৪:১০ অপরাহ্ন
ডাক ডেস্ক : আগামী দুদিন সিলেট-৪ আসনের তিন উপজেলার গ্রামে গ্রামে পাহারা বসাতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এ আসনের বিএনপি-জমিয়ত ঐক্যজোট মনোনীত সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র জননেতা আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি এ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরকেও সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে চলার পরামর্শ দেন। বলেন, কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে ওই কর্মকর্তাকে ছাড় দেয়া হবে না।
রোববার বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন। আরিফুল হক চৌধুরী আরো বলেন, আগামী দুদিন কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরের গ্রামে গ্রামে রাতের আঁধারে কারা আসে-সেটি দলের নেতা-কর্মীদের মনিটর করতে হবে। তিনি বলেন, এনালগ সিস্টেমে অতীত রাতের ভোট দিনে, দিনের ভোট রাতে হয়েছে। এবার কিন্তু, অন্য কিছু হতে পারে-এই আশংকা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যারা ভোট দিলে বেহেস্ত পাওয়ার ঘোষণা দেয়, এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তাদের মতাদর্শের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ভোটে কারচুপির পরিকল্পনা-ষড়যন্ত্র মনিটরিং করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদেরকে কোন ভাবে ছাড় দেয়া হবে না। সেন্টারগুলোকে আমাদের নেতা-কর্মীদের পাহারা দিতে হবে।
থানা সদর মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী আব্দুল মনাফ এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আলী আকবরের পরিচালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরিফুল হক চৌধুরী আরো বলেন, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জকে একটি সমন্বিত আধুনিক সিটিতে রূপান্তর করা হবে। অবহেলিত এই জনপদকে পরিকল্পিত নগরায়নের আওতায় এনে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এই তিন উপজেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর হলেও অবকাঠামোগতভাবে এখনো পিছিয়ে আছে। জাফলং, বিছানাকান্দি ও ভোলাগঞ্জের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলকে একটি পরিবেশবান্ধব আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, আমি কেবল স্বপ্ন দেখি না, কিভাবে বাস্তবায়ন করতে হয় সেই পথও জানি। শুধু জনগণের সহযোগিতা ও দোয়া প্রয়োজন। সিলেটের উত্তর জনপদকে একটি আধুনিক স্মার্ট সিটিতে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরিফুল হক চৌধুরী আরো বলেন, সিলেটের এই তিন উপজেলায় যে পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ ও সম্ভাবনা রয়েছে, তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এটি বিদেশের আধুনিক শহরগুলোর চেয়ে কম হবে না। আমি চাই এই অঞ্চলের মানুষ যেন শহরের মত সব আধুনিক, সুযোগ-সুবিধা নিজ গ্রামেই থেকেই পান। ভারত সীমান্তের এই জনপদগুলো অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাথর এবং পর্যটন শিল্পের সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে পারলে এই তিন উপজেলা সিলেটের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হবে।
আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি সনাতন পদ্ধতিতে পাথর কোয়ারি খুলে দেয়া, বিশুদ্ধ পানি সংকট, কৃষি উন্নয়ন সহ সার্বিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।
এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এ সালাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ আলী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, সিলেট জেলা উত্তরের সভাপতি মাওলানা আতাউর রহহমান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মাওলানা মুফতি আব্দুল মুছাব্বির, সাধারণ সম্পাদক মুফতি হোসাইন আহমদ, সহ-সভাপতি মাওলানা আশিকুর রহমান, মাওলানা সুহেল আহমদ, যুব জমিয়তের সভাপতি মাওলানা রুহুল আমিন সিরাজী, সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা হেলাল উদ্দিন আহমদ, এডভোকেট কামাল হোসাইন, সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সাদিকুর রহমান সাদিক, সিলেট জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি হাজী সুরমান আলী। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন- কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজী শাহাব উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী সৈয়দ আলী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শওকত আলী বাবুল, সহ-সভাপতি মো: নজীর আহমদ, হাজী আব্দুর রকীব, হাজী আবিল বশর, আকবর হোসেন, আলা উদ্দিন, আবুল কালাম, হাজী বিল্লাত আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল মুত্তাকিন বাদশা, সহ-সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক সামছুদ্দিন শাহীন, প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবেদীন জনি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়া, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক সাজ্জাদ হোসাইন দুদু, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক গিয়াস উদ্দিন, যুগ্ম আহবায়ক রজন মিয়া, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবুল বাশার বাদশা, সাধারণ সম্পাদক উসমান গণি, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আলমঙ্গীর আলম চেয়ারম্যান, উপজেলা তাঁতীদলের তাজ উদ্দিন আহমদ, সদস্য সচিব আরিফ চৌধুরী রাজ, ১নং পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নবী হোসেন, ২ নং পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ফখরুল আলম, ৩নং তেলিখাল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আরজ আহমদ আনু মিয়া, ৪নং ইসলামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিকুর রহমান, ৫নং উত্তর রনিখাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আহমদ, ৬নং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মতিউর রহমান, ১নং ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেবুল আহমদ, ২নং ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, ৩নং ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মনসুর আলম, ৪নং ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, ৫নং ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো: রমজান আলী, মো: কয়েস আহমদ, সিলেট জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি সাহেদ আহমদ চমন, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দিলওয়ার হোসেন দিনার, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন, সিলেট জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক মো: নুরুল ইসলাম। সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ছাত্র জমিয়তের সভাপতি মাওলানা মুফতি আব্দুল্লাহ হোসাইন প্রমুখ।



