দোলারবাজারে পেশাদার চোরদের ঘর-বাড়ি ভেঙে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৬ মার্চ ২০২৬, ৩:১১:০১ অপরাহ্ন
জাউয়াবাজার (ছাতক) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : ছাতকের দোলারবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুর্শী গ্রামের পেশাদার দুই চোরের ঘর বাড়ি ভেঙে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ দুই গ্রামবাসী। গতকাল বুধবার দুপুরে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ইউনিয়নের উত্তর কুর্শী গ্রামের আরব আলীর পুত্র মো. দোলন মিয়ার দুইটি গরু চুরি করতে আসা সাইফুর রহমান (২৫) নামের এক চোরকে স্থানীয় জনতা আটক করে। আটককৃত সাইফুর রহমান দোলারবাজার ইউনিয়নের মঈনপুর গ্রামের মৃত সফিক মিয়ার পুত্র। এ সময় তার সাথে থাকা মঈনপুর গ্রামের কামালীর পুত্র আবু হানিফা (৪০), দক্ষিণ কুর্শী গ্রামের আব্দুল হকের পুত্র তারেক মিয়ার (২৭) ও দক্ষিণ কুর্শী গ্রামের আব্দুল খালেকের পুত্র আলী হোসেন (৩০) পালিয়ে যায়।
স্থানীয় মোহাম্মদগঞ্জ বাজারে গ্রামবাসীর জেরার জবাবে সাইফুর রহমান জানায় তারেক ও আলী হোসেন এ চুরির সাথে সম্পৃক্ত। এ নিয়ে স্থানীয় চোর নির্মূল কমিটি বৈঠকে বসে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা তারেক ও আলী হোসেনের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে।
মোহাম্মদগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি চোর নির্মূল কমিটির সদস্য আলী হোসেন বলেন, দক্ষিণ কুর্শী ও উত্তর কুর্শী গ্রাম পেশাদার ও চিহ্নিত চোরদের কারণে আমাদের মান-সম্মান নষ্ট হয়েছে। এই বদনামে আমাদের এই দুই গ্রামের সাথে অনেক ভালো মানুষ আত্মীয়তা করতে আসে না তাই বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে তাদের ঘর বাড়ি ভেঙেছে।
চোর নির্মূল কমিটির সভাপতি ও দোলারবাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম বলেন, চিহ্নিত চোরদের কারণে এলাকার মান সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এমনকি অনেকে ছেলে-মেয়েদের ভালো জায়গায় বিয়ে দিতে পারেন না। তিনি বলেন, গ্রামবাসী চোরদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তাদেরকে ঘর বাড়ি ও টিউবওয়েলও স্থাপন করে দিয়েছেন। তারা আর চুরি করবে না-মর্মে মুচলেকাও দিয়েছে। এরপরও তারা চুরি ছাড়ছে না।
দোলারবাজার ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, এলাকাবাসী চোরদের বিষয়ে খুবই বিক্ষুব্ধ। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিক জাহিদপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্র ও ছাতক থানাকে অবহিত করেন।
জাহিদপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্র ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ আব্দুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি আটককৃত সাইফুর রহমানকে পুলিশের হেফাজতে নিয়েছেন।
এ ঘটনায় উত্তর কুর্শী গ্রামের দোলন মিয়া বাদী ধৃত সাইফুর রহমান ছাড়াও আলী হোসেন, তারেক মিয়া ও আবু হানিফসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে ছাতক থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে তারা তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এদিকে, এলাকাবাসী আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন চোর নির্মূল কমিটির সভাপতি দোলারবাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম। এতে মোহাম্মদগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি আলী হোসেন সিদ্দিক, মনজুর আলম, সাবেক ইউপি সদস্য হায়দার আলী, বর্তমান ইউপি সদস্য, সায়েক আহমদ, শাকিল আহমদ, নুরুল হক, সাহেব আলী, সাবেক ইউপি সদস্য তাজুর রহমান সাধু, আব্দুস সুবহান ও আবুল লেইছ সহ দুই গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।



