দিরাইয়ে চার দালালের বিরুদ্ধে মামলা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ মার্চ ২০২৬, ৩:২৪:৪৩ অপরাহ্ন
দিরাই (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : লিবিয়া থেকে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরের খাবার ও সুপেয় পানির অভাবে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দিরাই থানায় চার দালালের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলার জগদল ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের ভূমধ্যসাগরে নিহত হওয়া সোহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান বাদি হয়ে এ মামলা করেন।
এ বিষয়ে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরীকে ফোন দিলে তাকে পাওয়া যায়নি।
পরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন, সুনামগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার। তিনি বলেন, আমরা এ মুহূর্তে কারো নাম প্রকাশ করছি না। তবে আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
সম্প্রতি লিবিয়া থেকে ছোট রাবারের বোটে করে, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার পথে দিরাই উপজেলায় প্রথমে মৃতের সংখ্যা ছিল ৬ জন।উপজেলার জগদল ইউনিয়নের হালেয়া রাজনগর গ্রামের নিখোঁজ হওয়া আরজু মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যুর সংখ্যা দাড়িয়েছে ৭ জন।
তাদের মধ্যে বেঁচে যাওয়া এক যুবক ও নিহতের পরিবার সুত্রে যানা যায়
গত ২১ মার্চ লিবিয়া থেকে ৪৮ জনকে নিয়ে একটি বোট গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পথ হারিয়ে বোটটি সাগরে ছিল ছয় দিন। তখন খাবার ও সুপেয় পানির অভাবে অনেকেই মারা যান। দুই দিন লাশগুলো বোটে রাখার পর সঙ্গীরা পরে সাগরে ভাসিয়ে দেন। এ যাত্রায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া তারাপাশা গ্রামের রুহান মিয়া তার আত্মীয়-স্বজনকে এ খবর জানেলে, মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়েলে, নিহতের পরিবার ও উপজেলার গ্রামগুলোতে শোকের ছায়া নেমে আসে। এ ঘটনায় দালালদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। তাদের আইনের আওতায় এনে, বিচারের দাবি জানান এলাকার সচেতন মহল। এদিকে ছেলের শোকে কাতর কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের নিহত সাজিদুর রহমানের পিতা জানান, একই গ্রামের দালাল মুজিবুর রহমানের কথায় আশ্বস্ত হয়ে ছেলেকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেই।’ দালাল বলেছিল আমার ছেলেকে বড় নৌকায় সাগর পাড় করাবে। খাবার পানির সমস্যা হবে না। কিন্তু আমার ছেলে খাবার ও পানির অভাবে মরল। দালাল মুজিবের কোটি টাকার বাড়িতে এখন আরাম আয়েশ করে ঘুমায়।
এলাকার স্থানীয় লোকদের সাথে আলাপ হলে অনেকেই বলেন, দালাল মুজিবের আগে সম্পদ বলতে কিছুই ছিল না। কয়েকবছর আগে তার ছোট ভাইকে অবৈধ পথে ধার দেনা করে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠায়। এর পর থেকে সে নিজে দালালী শুরু করে, বিগত সময়ে এলাকার কিছু যুবককে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ পাঠিয়ে লাখ লাখ টাকার মালিক হয়ে যায়।
ইতালি প্রবাসী দালাল সালেহ আহমেদ’র খোঁজ নিয়ে জানাযায় মধ্যবিত্ব পরিবারের সালেহ আহমেদ দালালে মাধ্যমে কয়েক গেইমে সাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইতালি যায়। ইতালি গিয়ে সে অবৈধ আদম ব্যবসায় লেগে যায়। মোবাইল কনটাক্টের মাধ্যমে মাঝে মাঝে তার স্বজনদের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশী দের ইউরোপের কয়েকটি দেশে নেওয়ার জন্য প্রতি জনে ১২/১৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে পাচার করে। এতে কয়েক বছরে সে দালানবাড়ি জমিজামাসহ লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক হয়ে উঠে।
অপরদিকে উপজেলার বাসুরি গ্রামের নিহত তরুন সোহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান ছেলের শোকে হাউমাউ করে কাদছেন। ও সোহানরে আমি না করেছিলাম এ পথে তকে পাঠাবোনা কেন বুঝলেনারে সোহান, এখন আমার পুত (পুত্র) পাবো কোথায়, কে আমাকে আব্বা বলে ডাক দিবে। আল্লাহ তুমি এর বিচার কর।
ছালিক মিয়া আরও বলেন, একমাত্র ছেলেকে বৈধ পথে বিদেশ সার্বিয়া পাঠাতে পাসপোর্টসহ এক লাখ টাকা আমি একটি ট্রেভেলসে জমা রাখি,কিন্তু জগদল গ্রামের মাওলানা ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে ইতালি প্রবাসী দালাল সালেহ আহমদের প্রলোভনে পরে আমার ছেলে ইউরোপ যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। তিনি জানায় ২২ তারিখ আমার ছেলের সাথে শেষ কথা হয়, সে বলছিল আব্বা আমার কষ্ট হলেও তুমি কোন চিন্তা করিও না। এর কিছুদিন না যেতেই আমার ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে দালাল সালেহ আহমদ কে ফোন দিলে ফোন ধরেনি।
উপজেলার মাটিয়াপুর গ্রামের নিহত মেহেদী হাসান তায়েফের পিতা আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার ছেলেকে শিপে নেয়ার লাগি দালালের সাথে ১২ লাখ টাকায় অলিখিত চুক্তি হয়। ছেলেকে নিরাপদে নিতে আরও এক লাখ টাকা বাড়িয়ে ১৩ লাখ টাকায় চুক্তি করি কিন্তু দালাল তার কথা রাখেনি।




