যখন ফেসবুক আইডি হারিয়ে কান্না আসে, তখন মানুষ খোঁজে রনিকে
সাইবার দুনিয়ার ছায়াযোদ্ধা: ‘জকিগঞ্জের রনি’
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১২ জুলাই ২০২৫, ১১:৪৩:৫৫ অপরাহ্ন
জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়ে গেছে, পেইজে ঢোকা যাচ্ছে না, কেউ হয়তো নিজের নামেই খুলেছে ভুয়া অ্যাকাউন্ট—এসব ঘটনা আজকাল আর নতুন কিছু নয়। আইডি, পেইজ হ্যাকিং হলে অনেকসময় অনেকের বড়সড় ক্ষতি হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়ানোর মতো কাউকে খুঁজে পাওয়া অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ঠিক সেই সময়, অসহায়দের পাশে দাঁড়ান এক তরুণ। সে ‘জকিগঞ্জের রেজাউল হোসাইন রনি’। বিনিময়ে কিছুই চান না, শুধু চান—মানুষ নিরাপদে থাকুক।
সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের বাসিন্দা রনি লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজের আগ্রহে কাজ করতে শুরু করেন সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে। ধীরে ধীরে এই আগ্রহই হয়ে ওঠে তাঁর দক্ষতা। এখন দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ তাঁকে খোঁজে—ফেসবুক আইডি রিকভারি, পেইজ উদ্ধার, ফেক আইডি শনাক্ত, অনলাইন প্রতারণা রোধ, এমনকি ভেরিফিকেশন সহায়তার জন্য।
সম্প্রতি আলোচনায় আসেন তিনি, সাড়ে ৮ লাখের বেশি ফলোয়ার থাকা পূর্ব সিলেটের ‘জকিগঞ্জ আই টিভি’ নামের একটি জনপ্রিয় ফেসবুক পেইজ হ্যাকারদের হাত থেকে রক্ষা করে। তাঁর সহায়তায় পেইজটি দ্রুত ফিরে পায় তার আসল মালিক।
জকিগঞ্জ আই টিভি পেজের প্রধান অ্যাডমিন আল হাছিব তাপাদার বলেন, পেইজ হ্যাকড হওয়ার পর আমরা পুরোপুরি হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। রনি কোনো স্বার্থ ছাড়াই আমাদের পাশে দাঁড়ালেন। খুব কম সময়েই আমরা পেইজ ফিরে পাই। আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের তরুণরা যদি সরকারি সহায়তা পায়, তারা সাইবার নিরাপত্তায় অনেক দূর এগোতে পারবে।”
রেজাউল হোসাইন রনি (Rezaul Hussein Rony) বলেন, প্রতিদিন কেউ না কেউ ইনবক্সে মেসেজ করেন, হ্যাকড আইডি বা পেইজ ফিরে পেতে। সময় ও সামর্থ্য অনুযায়ী আমি পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। নারী ব্যবহারকারীরাই বেশি ঝুঁকিতে থাকেন—তাদের জন্য সচেতনতা খুব জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, “ভবিষ্যতে আমি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে চাই। আমার ইচ্ছা, বাংলাদেশের মানুষ যেন অনলাইনে নিরাপদে ও সচেতনভাবে চলাফেরা করতে পারে।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, “রনির মতো প্রতিভাবান তরুণ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে। কিন্তু তাদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ বা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নেই বলেই এই দক্ষতা জাতীয় পর্যায়ে কাজে লাগছে না।”
তাঁদের মতে, “লোকাল সাইবার রেসপন্স টিম” গঠন করা হলে রনিদের মতো তরুণরা হয়ে উঠতে পারেন সাইবার অপরাধ দমনের অগ্রভাগের যোদ্ধা। রনির মতো একা একজন তরুণ হয়তো দেশের সব সমস্যার সমাধান দিতে পারবেন না, কিন্তু তিনি প্রমাণ করেছেন—যদি সদিচ্ছা আর দক্ষতা থাকে, একাই অনেক কিছু বদলে দেওয়া যায়।




