বৃক্ষমেলায় এক বনসাইয়ের দাম দেড়লক্ষ টাকা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ আগস্ট ২০২৫, ৪:৩১:১৯ অপরাহ্ন
আহমাদ সেলিম :
সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে বৃক্ষমেলায় দিনশেষে মানুষের সমাগম বেড়েছে। কিন্তু বিক্রি আশানুরূপ না হলেও একটি বৃক্ষ যেন সবাইকে বলছে-দাঁড়াও পথিক, একটু দেখে যাও। আর সেই বৃক্ষটি হচ্ছে সাতফুট উচ্চতার এক বনসাই। এটি মেলার সবচেয়ে দামি বৃক্ষ। অনেকেই সেই বনসাইয়ের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, পরশও বুলিয়ে নিচ্ছেন। নান্দনিক সেই বনসাইয়ের দাম হাঁকা হচ্ছে দেড়লক্ষ টাকা।
মানুষ প্রকৃতির সন্তান। বৃক্ষ মানুষকে কাছে টানবেই। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া মেলায় বড়দের সাথে শিশুরাও আসছে। গাছ দেখে নানা প্রশ্ন করছে বড়দের। বিকেল হলে পরিবার নিয়ে অনেকেই মেলায় সময় কাটাতে ছুটে আসেন। মেলায় কয়েকহাজার বৃক্ষ অতিথি হয়ে এসেছে। আরো কিছুদিন থাকবে সিলেটবাসীর জন্য। তবে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করছে নাঈমা নার্সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা নান্দনিক বনসাই বা বামনবৃক্ষটি। দেশি-বিদেশি অন্য গাছও আছে। কিন্তু চোখ ফিরছে না বনসাই থেকে। যার দাম হাঁকা হচ্ছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মেলায় আসা বাইশটি স্টলের মধ্যে এই শৈল্পিক বনসাইটি এগিয়ে রয়েছে।
তবে একটি নয়, একই স্টলে আশ্রয় হয়েছে দুটি সমান মূল্যের বনসাই। এমন দামি গাছ কারা কিনে থাকেন-এমন প্রশ্নের জবাবে গাছটির কর্ণধার জামাল হোসেন জানান, এর চেয়ে অনেক দামি বনসাই আছে। শিল্পপতি ছাড়াও সৌখিন মানুষের নজর থাকে বনসাইয়ের দিকে। একসাথে দুটি আড়াইলক্ষ টাকা দাম হয়েছে, বললেন তিনি।
জানা যায়, ঢাকার আশুলিয়া গার্ডেন থেকে দশবছর আগে তিনি বনসাইটি সংগ্রহ করেন। তখন ছিলো চারফুট। তারপর ধীরে ধীরে শ্রম, ঘাম বিনিয়োগের গল্প দিয়ে তিনি গাছটির শৈল্পিক রূপ দিয়েছেন। বনসাইকে যত কম খাবার দেয়া হয়, ততই নাকি মঙ্গল। বছরে দুইবার খাবার দেয়া হয়। বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য বহন করে নান্দনিক এই বৃক্ষটি। অনেকটা মেহেদি আকৃতির, তবে কালছে রঙের পাতা জড়িয়ে থাকে পুরো গাছে। বর্ষার সময় পাতাগুলো বেশি গজায়। তিনি বলেন, অনেকে শখের বশে কিনে ঘরের ভেতরে রেখে দেন। তখনি বাধে বিপত্তি। নানা অসুখ দেখা দেয় গাছে। উত্তম হয় বারান্দায়, যেখানে আলো বাতাস বিচরণ করে পর্যাপ্ত।
বনসাই ছাড়াও ফুল-ফল থেকে শুরু করে ঔষধি, অর্কিড, দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির বাহারি গাছে ভরা এই মেলা। এমনকি পাওয়া যায় বিরল কিছু গাছও। যেগুলো দিয়ে অনেক জটিল রোগের ওষুধ তৈরি হয়। সিলেট বিনবিভাগের আয়োজনে, জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মেলা চলবে আগামী ২৩ আগস্ট পর্যন্ত।




