যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত, গ্রেফতার ৬
সাদাপাথর লুট, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা পেছাল
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ আগস্ট ২০২৫, ৬:২৯:১৮ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সিলেটের লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সিলেটের সদর ও কোম্পানীগঞ্জে পৃথক অভিযানে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী। গোয়াইনঘাটেও অভিযান হয়েছে। অন্যদিকে, ভোলাগঞ্জের পাথর লুটের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
সাদাপাথর এলাকায় পর্যটকদের আগমন বাড়লেও সংলগ্ন কয়েকটি গ্রাম এখন অনেকটা পুরুষশূন্য রয়েছে। যৌথবাহিনীর এই অভিযান ৫ দিন ধরে অব্যাহত রয়েছে। সিলেটের সদর উপজেলার ধোপাগুল এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানে একটি ক্রাশার মিলের আঙ্গিনায় মাটিচাপা অবস্থায় রাখা অন্তত ১১ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করেছে। এসময় পাথর জব্দে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিলেটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশিক মাহমুদ কবিরের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সিলেট সদরের ছালিয়ার মৃত সোনা মিয়ার ছেলে হেলাল আহমদ (৩০) ও হবিগঞ্জের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে ফাহিম মিয়া (২৮)। আশিক মাহমুদ কবির জানান, আটককৃত দুইজনসহ ওই পাথরের মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হবে। আর মালিক আজমলকে ওইখানে পাওয়া যায় নি। আটককৃতদের এয়ারপোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে পাথর ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে অস্ত্র ও ভারতীয় মদসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে আটককৃতরা হলেন- ভোলাগঞ্জ আদর্শ গ্রামের মৃত আনোয়ার আলীর ছেলে কুতুব উদ্দিন ওরফে পাগলা শাহ (৫৪), ভোলাগঞ্জ উত্তরপাড়ার মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে আব্দুল ওয়াহিদ (৫৫), তার ছেলে জাহিদ আহমদ (২২), একই এলাকার আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে রুহেল আহমদ (২৬)।জানা যায়, শনিবার মধ্যরাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর একটি টহল টিম (সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি এবং পুলিশ) কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ ক্লাস্টার ভিলেজে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশী করে। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহ হলে যৌথবাহিনী কর্তৃক অভিযান পরিচালনা করে এলসি পাথর ব্যবসায়ী পাগলা শাহ এবং জুয়েল মিয়ার বাড়ি থেকে অবৈধ অস্ত্র, ধারালো দেশীয় অস্ত্র এবং ভারতীয় মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় উদ্ধার করা হয়- ১ টি এয়ার রাইফেল, ২ টি রামদা, ২ টি লম্বা দা, ২ টি বল্লম (বর্শা), ৩ টি ছুরি, ১ টি ভারতীয় মদের ছোট বোতল, ২ টি বাটন মোবাইল ও ২ টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন। এসময় সেখান থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়।
কোম্পানীঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান জানান, অভিযান শেষে রোববার সকালে তাদেরকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদেরকে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সাদাপাথর লুটের ঘটনায় ২ হাজার অজ্ঞাত আসামী করে মামলা করার ঘটনায় এখন অনেকটা পুরুষশূন্য রয়েছে ভোলাগঞ্জ এলাকা। পুলিশি ঝামেলার ভয়ে মানুষজন বাড়ি থাকতে ভয় পাচ্ছেন। যার কারণে এলাকা এখন পুরুষশূন্য হয়ে গেছে।
আমাদের গোয়াইনঘাট সংবাদদাতা জানান, গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং জিরোপয়েন্টে রোববার সকাল ১০ টা থেকে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফরহাদ উদ্দিনের নেতৃত্বে দুপুর ২ টা পর্যন্ত আনুমানিক ১ হাজার ৫০০ ঘনফুট পাথর জুমপার এলাকা থেকে উদ্ধার করে জাফলং জিরো পয়েন্টে পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। সেই সাথে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের জন্য কমপক্ষে ৫০ টি নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে। টাস্কফোর্স অভিযানে সহায়তা করে পুলিশ ও বিজিবি।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার রতন কুমার অধিকারী জানান, জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে কিছু দুষ্কৃতকারী রাতের আঁধারে বৃষ্টির মধ্যে কিছু পাথর সরিয়ে ফেলছিল। আমরা খবর পাওয়ার সাথেই দ্রুত পদক্ষেপ নেই। এরপর থেকে ২৪ ঘন্টা পুলিশ-বিজিবি’র টহল অব্যাহত আছে। এরই ধারাবাহিকতায় সেখান থেকে যে পাথরগুলো সরানো হয়েছে আমরা সেই পাথরগুলো খুঁজে বের করে এপর্যন্ত সাড়ে ৯ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করেছি। কিন্তু পাথর লুটপাটের সাথে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল: এদিকে ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনায় গঠিত জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে পািেন। তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার কথা থাকলেও রোববার সময়সীমা শেষ হলেও কোনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি। এ অবস্থায় তদন্তের স্বার্থে আবারও তিন দিনের সময় বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছে কমিটি। সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনায় গত মঙ্গলবার তিন দিনের সময় দিয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ। কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসেন সিংহকে প্রধান করে সদস্য হিসেবে রাখা হয়- কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহার ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক আফজারুল ইসলামকে। এদিকে এ তদন্ত কমিটি নিয়েই বিতর্ক দেখা দেয়। যাদের দায়িত্বকালে লুটপাট বেড়েছে, তারাই এখন কমিটির সদস্য থাকার অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসেন সিংহ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। বিস্তারিত যাচাইয়ের স্বার্থে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন। তাই জেলা প্রশাসকের কাছে তিন দিনের সময় বৃদ্ধির আবেদন করা হয়েছে।’




