সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
ধোপাদিঘীর পারে পৈত্রিক সম্পত্তিকে অর্পিত দেখিয়ে দখলচেষ্টার অভিযোগ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২১ নভেম্বর ২০২৫, ২:৫৬:৩১ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট নগরীর ধোপাদীঘিরপারে পৈত্রিক মালিকানাধীন জমিকে অর্পিত সম্পত্তি দেখিয়ে জবরদখলের চেষ্টা চালাচ্ছে একটি চক্র- এমন অভিযোগ করেছেন ওই এলাকার বাসিন্দা লনি লাল বৈদ্য। পৈত্রিক ভিটা উদ্ধারে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
লনি লাল বৈদ্য ও তার পরিবারের সদস্যরা গতকাল বৃহস্পতিবার সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ধোপাদীঘির পারে অনাবিল আবাসিক এলাকার এই জমি তাঁর পৈত্রিক মালিকানাধীন। কিন্তু অন্যায়ভাবে তা অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয় এবং পরে একটি অসাধু চক্র ভুয়া লীজপত্র ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে লনি লাল বৈদ্য জানান, তিনি ও তাঁর শরীকানগণ রনজিৎ বৈদ্য, বিশ্বজিৎ বৈদ্য, মানিক বৈদ্য, মলিন বৈদ্য ও বাদল বৈদ্য বংশানুক্রমে এসএ খতিয়ান নম্বর ১৫৭৩, দাগ নম্বর ৭৪১৩/৭৫৮৪, মোট ০.০৭৫০ একর জমির বৈধ মালিক ও দখলদার। পূর্বপুরুষদের ভোগদখল এবং সেটেলমেন্ট জরিপেও জমিটি তাঁদের নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল।
২০১২ সালের ৫ এপ্রিল গেজেটে ভুলবশত এই পৈতৃক ভূমি অর্পিত সম্পত্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এ ঘটনায় তাঁরা অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ ট্রাইব্যুনাল, সিলেট-এ মামলা (নং ২৫৮/২০১২) দায়ের করেন। শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ২৫ নভেম্বর আদালত তাঁদের পক্ষে রায় দেন এবং ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি ডিক্রি জারি করে জমিটি অর্পিত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্ত করার নির্দেশ দেন। রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলও (নং ৪৬/২০১৫) নামঞ্জুর হয়। আদালতের রায় অনুযায়ী জমিটির ১৭১৯৭ নম্বর খতিয়ান তাঁদের নামে বহাল রয়েছে এবং তা বর্তমানে কার্যকর।
লিখিত বক্তব্যে লনি লাল বৈদ্য জানান, তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৮ মাস ধরে গোলাপগঞ্জ উপজেলার হেতিমগঞ্জের হিলালপুর গ্রামের ওয়ারিছ আলীর পুত্র ফয়জুল হক (ফজলু)-এর (একশনা) লীজ কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। একটি অসাধু চক্র ফয়জুল হক (ফজলু) নামীয় ব্যক্তির মাধ্যমে দাবি করছে যে তিনি জেলা প্রশাসকের অফিস থেকে লীজ নিয়ে “ফয়েজ ইঞ্জিনিয়ারিং” নামে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি এসএ/ডিপি/২২/৭৯-৮০/২০০৮/৫৮, তারিখ: ০৮/০৪/২০০৮ ইং স্মারকের একটি কাগজ দেখিয়ে নিজেদেরকে লীজ গ্রহীতা দাবি করছেন। কিন্তু এই কথিত লীজটি আসলে মৌজা মিউনিসিপ্যালিটির ১৭০৬ নম্বর খতিয়ান ও ৭৫৮৪ নম্বর দাগের ০.০৫ একর জমির যা বৈদ্য পরিবারে তফসিলভুক্ত পৈতৃক জমির সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তিনি জানান, ফয়জুল হক (ফজলু) বিভ্রান্তিকরভাবে আমাদের জমিকে তাঁর লীজকৃত জমি বলে দাবি করছে। শুধু তাই নয়, আমাদের ভূমি দখলের উদ্দেশ্যে আমাদেরকে প্রাণে হত্যার হুমকিও দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে লনি লাল বৈদ্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে দাবি জানান ফয়জুল হক (ফজলু) ও ফয়েজ ইঞ্জিনিয়ারিং এর নামে কথিত ভুয়া ও প্রতারণামূলক লীজ (স্মারক নং: এসএ/ভিপি/২২/৭৯-৮০/২০০৮/৫৮) অবিলম্বে বাতিল ঘোষণা করতে হবে। তাদের তফসিলভুক্ত পৈতৃক সম্পত্তি ভবিষ্যতে যেন কারো নিকট লীজ বা বরাদ্দ প্রদান না করা হয় এ বিষয়ে স্থায়ী প্রশাসনিক আদেশ দেওয়ার আহ্বান জানান।




