শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় মহীয়সী নারী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
রাগীব-রাবেয়া দম্পতি সর্বত্র আলোর মশাল জ্বালিয়েছেন
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৯:১১ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় গতকাল শুক্রবার মানবসেবায় নিবেদিত প্রাণ, বহুল প্রচারিত দৈনিক সিলেটের ডাক এর সাবেক সফল সম্পাদক, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ারম্যান মহীয়সী নারী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে খতমে কোরআন, মরহুমার কবর জিয়ারত, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
এসব কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, লিডিং ইউনিভার্সিটিসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে দানবীর ড. রাগীব আলী আলোর মশাল জ্বালিয়েছেন। আর পেছনে অনুপ্রেরণাদাত্রী ছিলেন বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। তারা আরো বলেন, ঊনিশ বছর আগে পরপারে পাড়ি জমিয়েছিলেন সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা মহীয়সী নারী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। মৃত্যুর এত বছর পরও লোকজন ভুলেনি মানবদরদী এই নারীকে।
গতকাল শুক্রবার তাঁর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠান সেই স্বাক্ষরই বহন করে। দূর-দূরান্ত থেকে বিপুল মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে মহীয়সী এই নারীর প্রতি বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধাবোধ। অনেকেই রাবেয়া খাতুন চৌধুরীকে মূল্যায়ণ করতে গিয়ে নীরবে ফেলেছেন চোখের জল।
গতকাল সকালে শীত উপেক্ষা করে শহরতলীর কামালবাজারস্থ রাগীবনগরে মানবদরদী মরহুমা রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর কবরে ফাতেহা পাঠ করতে ও ফুলেল শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে আসেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
এ উপলক্ষে রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গতকাল সকালে খতমে কোরআন, সকাল সাড়ে ১০টায় মরহুমার কবরে দানবীর ড. রাগীব আলী ও পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান এবং কবরস্থান সংলগ্ন লিডিং ইউনিভার্সিটির জামে মসজিদে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোনাজাত পরিচালনা করেন আলহাজ্ব সৈয়দ হাফিজ মুহাম্মদ আশরাফ আলী।
এদিকে, লিডিং ইউনিভার্সিটির উদ্যোগে সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাগীব আলী ভবনের গ্যালারি-১ এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. রাগীব আলী।
আলোচনা সভায় এ মহীয়সী নারীর জীবন ও কর্মের উপর স্মৃতিচারণ করে বক্তারা বলেন, মরহুমা বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ছিলেন আপন কর্মগুণের বর্ণচ্ছটায় এগিয়ে চলা এক মহীয়সী সত্তা। তিনি ছিলেন আপাদমস্তক এক মানবদরদী। সমাজের সর্বত্র শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে তিনি অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর অনুপ্রেরণাতেই দানবীর ড. রাগীব আলী শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক অসংখ্য প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। যার সুফল ভোগ করছেন সিলেট তথা দেশবাসী।
আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশবরেণ্য শিল্পপতি, সমাজসেবায় নিবেদিত প্রতিষ্ঠান রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দানবীর ড. রাগীব আলী বলেন, আমার সহধর্মিণী রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ছিলেন একজন মানবপ্রেমিক। জীবদ্দশায় তিনি আমার সকল কাজকর্মে ছায়ার মতো অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁর সান্নিধ্যে আমি সবসময় নিজেকে সাহসী ও আত্মপ্রত্যয়ী মনে করতাম। আজ তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো আমার সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরো সুনিপুণ হতো। সকলের কাছে তিনি তাঁর সহধর্মিণীর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।
লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ও দৈনিক সিলেটের ডাক এর সম্পাদক আব্দুল হাই বলেন, আজ এক বেদনাবিধূর দিন। এদিন হারিয়েছি এক মহীয়সী নারীকে। যিনি আমার মমতাময়ী মা। তিনি বলেন, একজন সমাজহিতৈষী নারী হিসেবে আমার মা আজও নতুন প্রজন্মের প্রেরণার উৎস বলে উল্লেখ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের সদস্য মিসেস সাদিকা জান্নাত চৌধুরী বলেন, আমার শাশুড়ি ছিলেন একজন মহীয়সী নারী। সংসার জীবনে আমি শাশুড়ি মাকে সশরীরে পাইনি। তবে, তাঁর কর্মযজ্ঞ দেখে অবগত হয়েছি তিনি সহজসরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত একজন কিংবদন্তি মহীয়সী। মরহুমা রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর রেখে যাওয়া আদর্শ জীবন চলার পথে দিশারী হয়ে থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি দানবীর ড. রাগীব আলীর দীর্ঘজীবন কামনা করেন।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. আবেদ হোসেন বলেন, বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীকে খুব কাছে থেকে দেখেছি। তিনি ছিলেন একজন সরল মানুষ। আচার-আচরণে তিনি ছিলেন বিনয় ও নম্রতার বাহক। রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার পেছনে তিনি বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ডা. সাদিয়া মালিক চৌধুরী বলেন, সমস্যা নিয়ে যে-ই তার দ্বারস্থ হয়েছে ; তিনি তা সমাধান করে দিয়েছেন। তাঁর কর্মের কারণেই তিনি আজীবন বেঁচে থাকবেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে অনুভূতি ব্যক্ত করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য রাফে হাই, লিডিং ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম, সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মো. বদরুল আহমেদ চৌধুরী, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, দোয়ারাবাজারের নরসিংপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সামসুল হক নমু। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন ও লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান।
অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণমূলক গান পরিবেশন করেন নেত্রকোনার রাগীব মজনু উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন একুশে সম্মাননা ২০২২ প্রাপ্ত গীতিকবি আব্দুল ওহাব মাস্টার, হামদ পরিবেশন করেন কবি আব্দুল ওয়াহিদ চৌধুরী, লিডিং ইউনিভার্সিটির এম এ ইন ইসলামিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী মো. আনসার আলী।
এছাড়া, অনুষ্ঠানে রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন ও লিডিং ইউনিভার্সিটি কর্তৃক প্রকাশিত মূল্যায়ণ ও স্মৃতিচারণ মূলক স্মারক ‘ক্ষণজন্মা রাবেয়া’ এবং জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃক প্রকাশিত ‘মননে মানসে মহীয়ান তুমি বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. এ কে এম দাউদ, লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য দেওয়ান সাকিব আহমেদ, মালনীছড়া চা বাগানের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. আজম আলী, দৈনিক সিলেটের ডাক এর প্রধান বার্তা সম্পাদক এনামুল হক জুবের, মিসেস রাখী ভৌমিক, লিডিং ইউনিভার্সিটির পরিচালক অর্থ ও হিসাব মোহাম্মদ কবির আহমেদ, প্রক্টর মো. মাহবুবুর রহমান, ডিন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভূঁইয়া, আধুনিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুজ জামান ভুঁইয়া, কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক -শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান ও অতিথিবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন হাফেজ আব্দুল্লাহ আল ফাহিম এবং শেষে দোয়া পরিচালনা করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফজলে এলাহী মামুন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কাজী মো. জাহিদ হাসান এবং আইন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম।
উল্লেখ্য, ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গ্রামবাসী, লিডিং ইউনিভার্সিটি, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের মাঝে শিরণী বিতরণ করে রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন এবং লিডিং ইউনিভার্সিটি পরিবার।




