রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজে আলোচনা সভায় বক্তারা
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর অবদান অনস্বীকার্য
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:২৩:০৩ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের প্রথম বেসরকারি মেডিকেল কলেজ জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহ-প্রতিষ্ঠাতা, মহীয়সী নারী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর ১৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত হয়।
এ উপলক্ষে গতকাল রোববার সকাল ১১টায় কলেজের লেকচার গ্যালারিতে আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সমাজসেবার এক উজ্জ্বল উদাহরণ ছিলেন বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। তিনি ছিলেন নিজ গুণে গুণান্বিত একজন মানুষ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য তথা মানব উন্নয়নে তাঁর রয়েছে অনবদ্য অবদান। সিলেট অঞ্চলের মানুষ তার এই অবদান যুগের পর যুগ মনে রাখবে।
বক্তারা আরো বলেন, সিলেট অঞ্চলে বেসরকারী খাতে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে ছিলেন রাগীব-রাবেয়া দম্পতি। আর এই কাজে প্রখ্যাত দানবীর ড. রাগীব আলীর প্রেরণার উৎস ছিলেন তার সহধর্মিণী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। এই মেডিকেল কলেজ নিয়ে তাঁর অনেক স্বপ্ন ছিল। প্রতিটি ইট, বালির সাথে মিশে আছে এই মহীয়সী নারীর ভালবাসা। তারা মানবসেবার যে স্বপ্ন নিয়ে এই মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান দানবীর ড. রাগীব আলী বলেন, রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ছিলেন আমার নিত্যদিনের সহচরী। গরিব, দু:খী ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য তাঁর মন সবসময় বিচলিত হত। মানুষের কল্যাণে তিনি সবসময় নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পছন্দ করতেন।
মানবসেবায় নিবেদিত প্রতিষ্ঠান রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দানবীর ড. রাগীব আলী বলেন, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনভুক্ত যেসব শিক্ষা ও স্বাস্থ্যধর্মী যত প্রতিষ্ঠান মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, এর প্রায় সবকটা প্রতিষ্ঠানে জড়িয়ে আছে রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর স্মৃতি। এই স্মৃতি আমাকে অনুপ্রেরণা দেয়।
তিনি আরো বলেন, শুধু বেগম রাবেয়া নয়, সমাজের যে কোন গুণী মানুষকে স্মরণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ বর্তমান যুগে নৈতিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষের অভাব। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দানবীর ড. রাগীব আলী বলেন, এই মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার মান বৃদ্ধি পেলে, কিংবা আরো উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে পারলে বেগম রাবেয়ার আত্মা ততটা শান্তি পাবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরো দায়িত্ববান হওয়ার আহবান জানান তিনি।
জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবেদ হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন-রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও দৈনিক সিলেটের ডাক এর সম্পাদক আব্দুল হাই, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের সিইও সাবেক অতিরিক্ত সচিব বনমালী ভৌমিক, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম দাউদ ও জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. তারেক আজাদ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও দৈনিক সিলেটের ডাক এর সম্পাদক আব্দুল হাই বলেন, আমার মা বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর বিশেষত্ব ছিল তাঁর সেবামূলক মানসিকতা। তিনি সার্বক্ষণিক আগলে রাখতেন তাঁর প্রাণের প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের। তাঁর স্বপ্ন আজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে বের হওয়া শত শত শিক্ষার্থী আজ দেশে-বিদেশে সুনামের স্বাক্ষর রাখছেন। এসব মহৎকাজের উসিলায় আল্লাহপাক তাকে চিরশান্তিতে রাখুন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশনের সিইও বনমালী ভৌমিক বলেন, বেগম রাবেয়া খাতুন ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান, দৃঢ়চেতা ও মানবপ্রেমী নারী। ১৯ বছর আগে তিনি পরপারে পাড়ি জমালেও তাঁর সেবামূলক কর্মযজ্ঞ আজীবন বেঁচে থাকবে। তিনি আর্তমানবতার কল্যাণে যে দৃষ্টিভঙ্গি ও দর্শনের আলো আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন তা সমাজে দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে সহায়ক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম দাউদ বলেন, কর্মে যিনি মানবসেবার উজ্জল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন ; তিনি হলেন বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তিনি মানব কল্যাণে ব্যয় করেছেন। তিনি ছিলেন নারী সমাজের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। একটি মার্জিত রুচিবোধের জীবন বলতে যা বোঝায়-সব ছিলো তার মধ্যে।
জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. তারেক আজাদ বলেন, মহীয়সী নারী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী ছিলেন একজন আপাদমস্তক মানবদরদী। তার ইন্তেকালে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে তা কোনভাবেই পূরণ হবার নয়।
ডা. সাকিবুল হাসান ও নীলিমা নওরিন নীলার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন-এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. জেসমিন সুলতানা, মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশনের আহবায়ক ডা. সাদিয়া মালিক চৌধুরী, ডা.ফজলুল হক সোহেল, বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী নার্সিং কলেজের সহকারী অধ্যাপক ইশরাত নাঈমা, শিক্ষার্থী মুফতাসিন আফরিন মিম প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন-নাক কান গলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ এলামনাই এসোসিয়েশনের আহবায়ক ডা. মো. মোফাক্কারুল ইসলাম। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন আশিকুর রহমান জাকি।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ ডা. আবেদ হোসেন বলেন, মানুষ চিরদিন বাঁচে না, কিন্তু তার কর্ম তাকে চিরজীবন বাঁচিয়ে রাখে মানুষের মনে। তেমনই একজন মহীয়সী নারী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী। তিনি ছিলেন দানবীর ড. রাগীব আলীর প্রেরণা। এই মেডিকেল কলেজ যত দিন থাকবে, ততদিন উচ্চারিত হবে বেগম রাবেয়ার নাম। তিনি বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। অনুষ্ঠানে বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী স্মৃতি স্মারক ‘মননে মানসে মহীয়ান তুমি বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শেষে মহীয়সী নারী বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরীর রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা এ.বি.এম লুৎফর রহমান।




