লিডিং ইউনিভার্সিটির চতুর্থ সমাবর্তনে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
সমাজের জন্য জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:০১:৫৮ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ঃ ‘আমরা শিখিয়েছি একটি বাড়ি, গাড়ির মালিক আর ভালো চাকুরি পেতে হবে। সমাজের কথা বলি না। আমাদের নতুন গ্র্যাজুয়েটদের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে সমাজের জন্য।’
লিডিং ইউনিভার্সিটির ৪র্থ সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে একথা বলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি গ্র্যাজুয়েটদের সমাজ ও বিশে^র দায়িত্ব নেয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, আপনারা জীবনের এক ধাপ থেকে আরেক ধাপে উন্নীত হয়েছেন। আপনাদের আত্মতুষ্টির চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে আত্নত্যাগের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এর মধ্যে ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণ নিহিত। সম্মানিত জীবনের অধিকারী হবেন। তিনি সমাবর্তন চেয়ার হিসেবে গ্র্যাজুয়েটদের ডিগ্রি প্রদান করেন।
সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদিত এবং শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে স্থায়ী সনদপ্রাপ্ত লিডিং ইউনিভার্সিটির চতুর্থ সমাবর্তন গতকাল শনিবার সকালে বিশ^বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের সমাবর্তনে ৬ হাজার ১৯৩ জন গ্র্যাজুয়েটকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। সমাবর্তনের মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বনামধন্য অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী প্রখ্যাত জিন বিজ্ঞানী বাংলাদেশি লেখক ও গবেষক, পঞ্চব্রীহি মাল্টি-হারভেস্ট রাইস ভ্যারাইটির উদ্ভাবক ড. আবেদ চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন।
সমাবর্তনে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান কালে লিডিং ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান দানবীর ড. রাগীব আলী বলেন, আজ আমি খুশি এই কারণে যে, আমার দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বপ্ন ছিল জাতির জন্য মানবসম্পদের উন্নয়ন করা। তাই নতুনদের শিক্ষিত করে তোলার জন্য এই বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলাম। শিক্ষার্থীরা তাদের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও সময় উৎসর্গ করে লক্ষ্যে পৌঁছার আজকের এই দিন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা হিউম্যান ক্যাপিটাল অফ দ্যা কান্ট্রি। জ্ঞান, দক্ষতা, সততা, দায়িত্ব জ্ঞান আর দৃঢ় সংকল্প থাকলে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ সম্ভব। তিনি উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে লিডিং ইউনিভার্সিটিতে এসে ৪র্থ সমবর্তনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদানের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি কনভোকেশন স্পিকার প্রখ্যাত জীন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী, ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং লিডিং ইউনিভার্সিটি পরিবারের সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানান। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন। ব
র্ণাঢ্য সমাবর্তন অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘সমাবর্তন প্রসেশন’ এর মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন বিভাগের গ্র্যাজুয়েটরা সারিবদ্ধভাবে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। পরে একাডেমিক কাউন্সিল, ট্রাস্টি বোর্ড ও সমাবর্তন চেয়ার সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ অতিথিরা ‘সমাবর্তন প্রসেশন’ অনুষ্ঠান স্থানে উপস্থিত হয়। এ সময় মুহুর্মুহু করতালিতে তাদের অভ্যর্থনা জানানো হয়। আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সমাবর্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সমাবর্তন শিক্ষা অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি উল্লেখ করে সমাবর্তন চেয়ার সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরো বলেন, স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ১৫ জনের মধ্যে ৮ জন নারী। আবার বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী তারা। ভিন্ন ধর্মেরও। অপূর্ব বৈচিত্র্যের সমাহার। আমরা সবাই মিলে এই দেশকে বৈচিত্র্যময় করে রাখবো। তিনি শহীদ শরিফ ওসমান হাদীকে স্মরণ করে বলেন, ব্যক্তিগত সুযোগ সুবিধার সংকীর্ণ চিন্তার ঊর্ধ্বে সমাজের পরিবর্তন চেয়েছিলেন ওসমান হাদী। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম দেশ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছে। প্রাণ দিয়ে তারা স্বৈরাচার উৎখাত করে গণতান্ত্রিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশের পথ তৈরি করে দিয়েছেন।
মানুষকে আশরাফুল মাকলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব বলা হয়েছে কেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের অন্য সৃষ্টির প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। মানুষ চাইলেই অন্যের সেবা বা উপকার করতে পারে। কিন্তু অন্য প্রাণি, প্রকৃতি, গাছপালা চাইলেই অন্যের উপকার করতে পারে না। তাই মানুষকে শুধু নিজের কথা ভাবলেই হবে না; তাকে প্রকৃতি প্রতিবেশ ও প্রাণির দায়িত্ব নিতে হবে।
গ্র্যাজুয়েটসহ অনেক শিক্ষক এবার প্রথম ভোট দিবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নেতা কেমন হবে তা নির্ধারিত হবে মানুষ কেমন নির্বাচন করেন। এমন প্রার্থীকে নির্বাচিত করুন যেন আগামী ৫ বছর পস্তাতে না হয়। সকলকে গণভোটে অংশগ্রহণের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা শুধু পরিবর্তনের কথা বলি। কিন্তু, দীর্ঘদিনের অভ্যাস হঠাৎ করে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন। এজন্য সকলকে গণভোটে অংশগ্রহণ করতে হবে। যেন স্বৈরাচারমুক্ত-বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।
সমাজে পারস্পরিক সন্দেহ ও বিশ^াসহীনতার অশুভ বিস্তারের প্রতি দৃষ্টিপাত করে উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান বলেন, স্বার্থান্বেষীরা সকলের প্রতি সন্দেহের সৃষ্টি করে। কেউ কাউকে বিশ^াস না করার সংস্কৃতি তৈরি করেছে। সমাজে যদি বিশ^াস করার মতো লোক না থাকে ; তবে নেতৃত্বশূণ্য হয়ে আতংকের সৃষ্টি হয়। দ্বিতীয় বিশ^ যুদ্ধের পরে ইউরোপ এগিয়েছে পারস্পরিক বিশ^াসের ভিত্তিতে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভয় পেয়ে বসে থাকবো না। আতংকের জালে পা দিব না। সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। যা আমরা সৃষ্টি করতে পারি না-তা ধ্বংস করে উন্নয়ন হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের হাওর বিশে^ ইউনিক। ইন্টারনেট হাওর লেখে সার্চ দিলে বাংলাদেশের নাম আসে। হাওর, পাহাড় ও পরিবেশ ধ্বংস করলে আমরা তা আর ফিরিয়ে আনতে পরি না। তাই যেকোন মূল্যে এসব রক্ষা করতে হবে।
তিনি সমাজের কাজে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহবান জানিয়ে বলেন, পলিথিন ব্যবহার বন্ধে সবাই পরিবার থেকে অভ্যাস গড়ে তুলুন। বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় বাজারের ব্যাগ নিয়ে বের হওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। অভ্যাস করলেই দেখবেন এই ক্ষতিকারক পলিথিনের ব্যবহার কমে আসবে। তিনি সবাইকে ইতিবাচক হওয়ার আহবান জানান।
সমাবর্তন অনুষ্ঠান অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজন দেখে তিনি মুগ্ধ হয়ে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অনেক বিশ^বিদ্যালয়ে তিনি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গিয়েছেন। কিন্তু এমন সুন্দর ব্যবস্থাপনা দেখা যায় না। তিনি বিশ^বিদ্যালয়ে মানবিক শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে বলেন শিক্ষা যেন বাণিজ্যিক না হয় ; সেদিকে গুরুত্ব আরোপ করেন।
সমাবর্তনে মূল বক্তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন জিন বিজ্ঞানী পঞ্চব্রীহি মাল্টি-হারভেস্ট রাইস ভ্যারাইটির উদ্ভাবক ড. আবেদ চৌধুরী পরিবেশ বিষয়ক প্রোগ্রাম লিডিং ইউনিভার্সিটিতে চালু করার আহবান জানিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রখ্যাত দানবীর ড. রাগীব আলীর বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির অগ্রযাত্রা ও সাফল্যের ধারাবাহিকতায় চতুর্থ সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটদের শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অগ্রযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন গ্র্যাজুয়েটদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এটি কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং অক্লান্ত প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে অর্জিত একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব উদযাপনের দিন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন বলেন, এই কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতি, সৃজনশীলতা এবং প্রতিভা প্রদর্শন করে তাদের ব্যক্তিগত এবং একাডেমিক জীবনের এটি একটি বড় অর্জন। তাই, এই অর্জনের সর্বোত্তম ব্যবহার করে বিশ্বকে বসবাসের জন্য একটি উন্নত স্থান করে তোলার চেষ্টা করার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানান। আজকের গ্র্যাজুয়েটরাই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে লিডিং ইউনিভার্সিটির মর্যাদা বজায় রাখার চেষ্টা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
লিডিং ইউনিভার্সিটি ভবিষ্যতের নেতা তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মনে করে তিনি বলেন, সকলের সহযোগিতা এবং পরামর্শে এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণা এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে উৎকর্ষতার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। গৌরবময় অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদেরকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, লিডিং ইউনিভার্সিটি অনেক দূর এগিয়েছে এবং হাজার হাজার স্নাতক তৈরি করেছে, যারা দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আন্তরিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিও তার আন্তরিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. রাগীব আলী, ট্রাস্টি বোর্ড, সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল সদস্য এবং সফল অনুষ্ঠান আয়োজনে লিডিং ইউনিভার্সিটির সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও ধন্যবাদ প্রদান করেন। এবারের সমাবর্তনে স্প্রিং ২০১৮ হতে ফল ২০২৪ সেমিস্টার পর্যন্ত লিডিং ইউনিভার্সিটির চারটি অনুষদ- ব্যবসায় প্রশাসন, কলা ও আধুনিক ভাষা, সামাজিক বিজ্ঞান এবং আধুনিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে ১০টি বিভাগ- ব্যবসায় প্রশাসন, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ইংরেজি, আইন, ইসলামিক স্টাডিজ, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিকেল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পাবলিক হেলথ বিভাগের স্নাতক (অনার্স) ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬ হাজার ১৯৩ জন গ্র্যাজুয়েটকে ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
লিডিং ইউনিভার্সিটির ৪র্থ সমাবর্তনে রেজিস্ট্রিকৃত ১০৭৫ জন গ্র্যাজুয়েটের মধ্য থেকে কৃতিত্বপূর্ণ ১৫ জন শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল, ভাইস-চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল, ফাউন্ডার গোল্ড মেডেল এবং কো-ফাউন্ডার গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়। ৪র্থ সমাবর্তনে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত বিবিএ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী এ. এস. এম. সুফিয়ান পাবেল অনুভূতি প্রকাশ করে লিডিং ইউনিভার্সিটির সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
উল্লেখ্য, লিডিং ইউনিভার্সিটির ১ম সমাবর্তনে গ্র্যাজুয়েটস ছিল ১৫৬ জন, ২য় সমাবর্তনে ছিল ১২১০ জন এবং ৩য় সমাবর্তনে ছিল ৪৭৩৪ জন, ৪র্থ সমাবর্তনে তা উন্নীত হয়েছে ৬১৯৩ জনে। কনভোকেশন মার্শাল ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মো. মফিজুল ইসলাম। সমাবর্তনের মূল আয়োজন শেষে দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে লিডিং ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, রাগীব-রাবেয়া ফাউন্ডেশন সিলেটের সদস্য মিসেস সাদিকা জান্নাত চৌধুরী, লিডিং ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টি বোর্ড ও সিন্ডিকেট সদস্য ও প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এএনএম মেসকাত উদ্দিন, ট্রাস্টি বোর্ড সদস্য আব্দুল হান্নান, ডা. সাদিয়া মালিক চৌধুরী, দেওয়ান সাকিব আহমেদ, মো. জাকির হোসেন, আজমাইন হাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বশির আহমেদ ভূঁইয়া, আধুনিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুজ জামান ভূইয়া, কলা ও আধুনিক ভাষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. রেজাউল করিম, সামাজিক বিজ্ঞান অনষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহানশাহ মোল্লা, ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. লুৎফর রহমান, পরিচালক অর্থ ও হিসাব মোহাম্মদ কবির আহমেদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. কবির আহমেদ, শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট -৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদির লুনা, ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস, সিলেট-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট -২ আসনের জামায়াতের ইসলামের প্রার্থী ও জেলা নায়েবে আমির আব্দুল হান্নান, ওসমানী নগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মইনুল হক চৌধুরী, সিলেট দায়রা জজ আদালতের পিপি এডভোকেট বদরুল আহমেদ চৌধুরীসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। পরে জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে সকলে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা প্রর্দশন করেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সম্মানে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। শেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি ও সমাবর্তন চেয়ার সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান সহ অতিথিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান দানবীর ড. রাগীব আলী।




