শেষ জমি অধিগ্রহণের চেক হস্তান্তর
ঢাকা-সিলেট ৬ লেন প্রকল্প, দূর হলো বিশাল কর্মযজ্ঞের সকল বাধা
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:০৬:২৯ অপরাহ্ন
দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি : ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৪ লেন ও পৃথক সার্ভিস লেনসহ ৬ লেনের কাজের শেষাংশের জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের মধ্যে ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান ও ভূমি হস্তান্তর শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার সিলেট-ফেঞ্চুগঞ্জ সড়ক ও তামাবিল বাইপাস সড়কের পীর হাবিবুর রহমান চত্ত্বর সংলগ্ন প্রকল্প এলাকায় ভূমি মালিকদের মধ্যে চেক বিতরণ ও সড়ক বিভাগের নিকট জমি হস্তান্তর করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
জমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে মূলত সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের উন্নয়ন কাজে এতোদিন ধীরগতি ছিল। চেক বিতরণ ও ভূমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, এই মহাসড়ক নির্মাণে আজকের দিনটি একটি মাইলফলক। আজকের ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান ও জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সকল বাধা দূর হয়ে গেলো। আশা করি, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জমি হস্তান্তর কাজ শেষ হবে। তিনি বলেন, যারা নিজের জায়গা ও ঘরবাড়ি ছেড়ে আসছেন তারা এই উন্নয়নে ত্যাগ স্বীকার করছেন। স্মৃতিবিজড়িত জায়গা, ঘরবাড়ি তারা ছেড়ে আসছেন।
তিনি ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমি মালিকদের দালাল ও মধ্যস্থতাকারী কাউকে ধরতে নিষেধ করে বলেন, ক্ষতিপূরণের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে যেকোন সমস্যায় সরাসরি যোগাযোগ করবেন। মধ্যস্থতাকারী ও দালালকে ধরবেন না। আপনাদের টাকা আমার অফিস থেকে দেয়া হবে। সুতরাং যেকোন সমস্যায় সরাসরি যোগাযোগ করবেন। প্রয়োজনে মাঠে গিয়ে টাকা দিয়ে যাব। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি টাকা এনে দেয়ার জন্য বলে অথবা দালালি করতে চায় ধরে আমার কাছে নিয়ে আসবেন। কেউ যদি ফোন করেও প্রলোভিত করতে চায় ; সেই নম্বরটি আমার নিকট দিবেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাড়কের ৪ লেন ও পৃথক সার্ভিস লেনসহ ৬ লেনের কাজের জন্য নারায়ণগঞ্জ থেকে সিলেট পর্যন্ত ৭টি জেলার জমি অধিগ্রহণ করতে হয়েছে। এজন্য ৪৩ হাজার কাঠা জমি অধিগ্রহণ করতে হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিক রয়েছেন প্রায় ২ লক্ষ। কাজের শেষাংশে আজ প্রথম জমি হস্তান্তর হয়েছে। জেলা প্রশাসকের আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য এটা সম্ভব হয়েছে।
প্রকল্পের ম্যানেজার(পিএম) দেবাশীষ রায়ের সভাপতিত্বে এবং ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এর মহিন উদ্দিনের সঞ্চালনায় ও মাওলানা নাদিম উদ্দিনের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যে দিয়ে সূচিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: নূরের জামান চৌধুরী, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম অনীক চৌধুরী, ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনমুন নাহার আশা।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিহাব সারার অভী, ওসমানীনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ সূত্রধর, দক্ষিণ সুরমা প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুসিক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ঢাকার কাঁচপুর থেকে শুরু হওয়া ঢাকা-সিলেট-৬ লেন প্রকল্প সমাপ্ত হবে পারাইরচকের হবিবুর রহমান চত্বরে। মহাসড়কের কাজের ২য় অংশ দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার থেকে সড়কটি হাওরের মধ্যে দিয়ে পারাইরচক পীর হবিবুর রহমান চত্বর পর্যন্ত বাইপাস সড়ক ও ওভারব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ভূমি হস্তান্তরের মাধ্যমে এই কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে। ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড প্রকল্পের এ অংশ বাস্তবায়ন করছে। ১০.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ৪ লেনের এই বাইপাস সড়কে নির্মিত হবে ১৫টি কালভার্ট। এছাড়াও, সিলেট-সুলতানপুর সড়কের ওপর সিলাম অংশে একটি ওভার ব্রিজ এবং পারাইরচকে পীর হবিবুর রহমান চত্বরে নির্মিত হবে দৃষ্টিনন্দন ফ্লাইওভার।
অপরদিকে, এই চত্বর থেকে তামাবিল বাইপাস মহাসড়ক হয়ে খাদিম, জৈন্তাপুর দিয়ে তামাবিল স্থল বন্দরে গিয়ে সমাপ্ত হবে সিলেট-তামাবিল ৪ লেন প্রকল্পের কাজ। এদিকে চেক বিতরণ ও ভূমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ভোট পবিত্র আমানত ও ভোট প্রদান প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব উল্লেখ করে বলেন, ১২ তারিখে দু’টি ভোট হবে, একটি সংসদ নির্বাচন ও দ্বিতীয়টি গণভোট। নির্বাচনে সঠিক ব্যক্তিকে নির্বাচিত করবেন।
অন্যথায় ভোটে না গিয়ে অথবা সঠিক ব্যক্তিকে ভোট না দেয়ার জন্য দায়ী হবেন। অন্যদিকে নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রভাবমুক্ত করতে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জন নির্বাচন, রাতের ভোট ও আমি ডামি নির্বাচন বন্ধ করতে আমাদেরকে গণভোটে অংশগ্রহণ করতে হবে। এজন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, প্রত্যেক ভোটারের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংসদের উচ্চ কক্ষ ব্যবস্থা প্রবর্তনে আমাদের সবাইকে গণভোটে অংশ গ্রহণ করতে হবে। আমরা যদি আগামী দিনে একটি নিরাপদ ও উন্নত দেশ চাই, তবে সকলকে ভোটে অংশগ্রহণ করা উচিত।




