কিবরিয়া হত্যার ২১ বছর, চার্জশীট প্রতারণামূলক বললেন রেজা কিবরিয়া
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০২:৩৮ অপরাহ্ন
হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : আজ ২৭ জানুয়ারী। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যার ২১ বছর পূর্ণ হলো। দফায় দফায় তদন্তের বেড়াজালে আটকে থাকা ভয়ানক এ হত্যাকান্ডের বিচার নিয়ে নানা প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে। সাক্ষি না আসাসহ বিভিন্ন জটিলতায় বিচার কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রিতায় পড়েছে।
এদিকে, উক্ত মামলার চার্জশিটকে প্রতারণামূলক বলে আখ্যা দিলেন শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া। অপরদিকে এবার বিচার নিয়ে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন নিহতদের স্বজনরা।
মামলার চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করে ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, এটি সাজানো। প্রতারণামূলক। এটি আমরা প্রত্যাখ্যান করি। এখানে আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম আসেনি।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কখনও সুযোগ হলে মামলাটি রিওপেনিং করা যায় কিনা তা আমরা ভেবে দেখবো।
আগামী মার্চ/এপ্রিলের মধ্যে বিচার সম্পন্নের আশা করছেন সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে প্রায় ৭০ জন সাক্ষির স্বাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ চলছেন। তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সুস্থ হয়ে ফিরলেই তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। তার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষেই মামলাটির সাক্ষি ক্লোজ করে দেয়ার চিন্তা রয়েছে। ইতিমধ্যে সাক্ষিদের হাজির করতে সব ধরণের আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
নিহত সিদ্দিক আলীর ছেলে মো. মুখলেছুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর হয়েছে এ হত্যাকান্ডের। কিন্তু বিচার হয়নি। এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আশা করি এমন দুর্ধর্ষ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে। এছাড়া যেহেতু শহীদ শাহ এএমএস কিবরিয়া সাহেবের ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া নির্বাচন করছেন তাই আশা করছি তিনি নির্বাচিত হলে এ মামলার বিচার সম্পন্ন করতে ভূমিকা রাখবেন।
নিহত আবুল হোসেনের ছেলে মো. আব্দুল মতিন বলেন, আমার বাবা ঘটনার দিন কিবরিয়া সাহেবের সভায় অংশ নেন। সভা শেষ হওয়ার পর গ্রেনেড হামলায় তিনি মারা যান। আজ পর্যন্তও আমরা সঠিক কোন বিচার পাইনি। আমরা উক্ত হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করছি।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারী হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। সভা শেষে ফেরার সময় দুর্বৃত্তদের গ্রেনেড হামলায় তিনি ও তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুর হুদাসহ মোট ৫ জন নিহত হন। এতে আহত হন প্রায় ৪৫ জন। এ ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। কয়েক দফা তদন্ত শেষে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পৌরসভার তৎকালীন মেয়র আলহাজ¦ জি কে গউছসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তখন থেকেই মামলার চার্জশিট প্রত্যাখ্যান করে আসছে কিবরিয়া পরিবার। তাদের দাবি এটি প্রতারণামূলক চার্জশিট। ড. রেজা কিবরিয়া বার বারই দাবি করছেন লোমহর্ষক এ হত্যাকান্ডের সাথে আওয়ামী লীগ নেতারা জড়িত।




