‘মার্চ ফর বিমান’ কর্মসূচিতে বক্তারা
সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চালু না রাখলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:১২:১৮ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু না রাখলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বৃটেনের প্রবাসী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ। গতকাল মঙ্গলবার সিলেটে ‘মার্চ ফর বিমান’ কর্মসূচি পালন শেষে বিমান অফিসের সামনে আয়োজিত সমাবেশে তারা এ হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় তারা বলেন, যদি ফ্লাইট বন্ধ করা হয় তাহলে রেমিটেন্স স্ট্রাইক, বিমান বর্জনের মতো কর্মসূচি দেওয়া হবে। এসময় তারা প্রবাসীদের নিয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করার আহবান জানান তারা।
গতকাল মঙ্গলবার ইউকে এনআরবি সোসাইটি ও ইউকে বাংলাদেশি হেরিটেজ কাউন্সিলর’র ফোরামের উদ্যোগে দুপুর ১২ টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মজুমদারীস্থ বিমান অফিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন বৃটেনের শতাধিক প্রবাসী। প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা পায়ে হেঁটে মার্চ করে বিমান অফিসের সামনে সমাবেশ করেন তারা।
ইউকে এনআরবি সোসাইটির ডিরেক্টর ও বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা মিজানুর রহমান মিজানের উপস্থাপনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন- সিলেট নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।
তিনি বলেন, প্রবাসীরা আমাদের রেমিটেন্স যোদ্ধা। তাদের শ্রম ও ঘাম এই সিলেটসহ বাংলাদেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছে। এতে করে বাংলাদেশের অর্থনীতি দিন দিন উন্নতি করছে। অথচ তাদের সঙ্গে সব সময়ই বিমাতা সুলভ আচরণ করা হয়। এটা কোনোভাবে সহ্য করার মতো নয়। বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রবাসীদের ন্যায্য দাবি পূরণে আমরা সবাই মিলে কাজ করবো। সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং এই রুট বন্ধ করলে বৃটেনের একাংশের মানুষ যাতায়াতে অসুবিধা পড়বেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- ইউকে এনআরবি সোসাইটি’র ডিরেক্টর এম আহমদ জুনেদ, ডিরেক্টর ও ওল্ডহাম বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জামাল উদ্দিন, সোসাইটির ডিরেক্টর ইসমাইল হোসেন ও মোতালিব চৌধুরী, যুক্তরাজ্যের কমিউনিটি নেতা বুলবুল আমিন, বদরুল আলম, দবির মল্লিক, জামান মিয়া, রাসেল চৌধুরী, নুরুল আমিন, মাসুকউদ্দিন, শাহাবউদ্দিন, ড্যানি, আব্দুস শহীদ প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে ইউকে এনআরবি সোসাইটির নেতৃবৃন্দ বিমান সিলেট অফিসের ম্যানেজারের কাছে স্মারকলিপি পেশ করেন। ওই স্মারকলিপিতে তারা বলেন, যে রুটে বিমান কর্তৃপক্ষ ৮৩ পার্সেন্ট ব্যবসা করে সেই রুটটি কীভাবে লোকসান হয়। বেশির ভাগ যাত্রী ৭০০ থেকে ৮০০ পাউন্ডের টিকিট ১২০০ থেকে ১৫০০ পাউন্ডে ক্রয় করেন। বিমানের একটি অসাধু চক্র এই টাকা লোপাট করে প্রতিমূহূর্তেই ফ্লাইটটিকে লোকসান দেখানোর পাঁয়তারা করছে।
তারা বলেন, বিমান সিলেট ম্যানচেস্টার রুটে ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সিলেট থেকে ম্যানচেস্টার প্রায় ২০ হাজার যাত্রী ও ম্যানচেস্টার থেকে সিলেট প্রায় ১৮ হাজার যাত্রী বহন করে। এতে সর্বমোট ৩৮ হাজার যাওয়া-আসা করে। এই সময়ে বিমানের সিট ছিলো ৪৫ হাজার। এই পরিসংখ্যানে বোঝা যাচ্ছে সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট কখনোই অলাভজনক ও যাত্রী সঙ্কটে ছিলো না।
স্মারকলিপিতে তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রাখার দাবি জানান।




