গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশেনের ৪র্থ আন্তর্জাতিক উৎসব
সিলেটের উন্নয়ন-বঞ্চনা ঘুচাতে সকলকে সোচ্চার হতে হবে
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৮:৫১:০৫ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সিলেটিদের সংগঠন গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশনের ৪র্থ আন্তর্জাতিক উৎসব সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশে^র বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রবাসীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর মির্জাজাঙ্গালস্থ একটি অভিজাত হোটেলের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিশ্বর বিভিন্ন প্রান্তে থাকা প্রবাসীদের একত্রিত করাই সংগঠনের মূল লক্ষ্য। প্রবাসীদের বিদেশে অনেক সমস্যা রয়েছে ;আবার দেশেও প্রবাসীদের ও সিলেটের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অনেক দাবি দাওয়ার রয়েছে; সে গুলো তুলে ধরা এবং সমাধানে সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে সিলেট সব সময় বঞ্চিত। সিলেটকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বলা হলেও এর কোন কার্যকারিতাই নেই। শুধু নাম দিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে-যা সিলেটের সাথে প্রতারণার শামিল। এছাড়া, ভঙ্গুর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, ট্রেনের ডাবল লাইন ও দ্রুতগামী ট্রেনের দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় সড়ক ও ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা চরম ভোগান্তিকর হয়ে উঠেছে। এছাড়া বিমানবন্দর ও পাসপোর্টসহ প্রবাসীদের নানা হয়রানির বিষয় তুলে ধরেন তারা। তবে বিদেশ থেকে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে পেরে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রবাসীদের কল্যাণের বিষয়টি বিশেষ ভাবে বিবেচনার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন তারা।
গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ময়নুল হক চৌধুরী হেলালের পরিচালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা নাইম উদ্দিন। পরে জাতীয় সঙ্গীত, ফিতা ও কেক কেটে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন-সংগঠনের সভাপতি মুহিবুর রহমান মুহিব।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ কাপ্তান হোসেন, সিলেট-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান, লিডিং ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. মো: তাজ উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নুর, লেখক ও সাংবাদিক আফতাব চৌধুরী, মতিন উদ্দিন জাদুঘরের পরিচালক ডা. মোস্তফা শাহ জামাল চৌধুরী বাহার, ডা. অরূপ রতন চৌধুরী, সংগঠনের সহসভাপতি আবুল কালাম ছোটন, সহ সভাপতি ও অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রধান সমন্বয়ক ওলি উদ্দন শামীম, সহসভাপতি ফয়জুল হক, প্রধান ট্রেজারার ড. রফিকুল হায়দার, বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বায়েজিত মাহমুদ ফয়সল, ওয়ালি খান এমবিই, গ্রামীণ জনকল্যাণ সংসদের সভাপতি জামিল চৌধুরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সিলেটের পরিচালক ড. এমদাদ হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার মাত্র ৪ বছরের মধ্যে বিশে^ ৩১টি দেশে কমিটি গঠন করেছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য, স্পেন ও ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪র্থ আন্তর্জাতিক উৎসব জন্মভূমি সিলেটে অনুষ্ঠিত হলো।
দানবীর ড. রাগীব আলী ও পাশা খন্দকার পেলেন বিশেষ সম্মাননা :
অনুষ্ঠানে দেশ ও মানুষের কল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য দানবীর ড. রাগীব আলী ও বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের (বিসিএ) সাবেক সভাপতি পাশা খন্দকার এমবিইকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সম্মাননা গ্রহণ শেষে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে দেশবরেণ্য সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী দানবীর ড. রাগীব আলী সংগঠনের সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এ ধরনের সম্মাননা আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম পূর্ববর্তিদের কাজ ও অবদান সম্পর্কে জানবে। নতুনদের ভালো কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রেরণা পাবেন।
অসংখ্য শিক্ষা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, মানবকল্যাণের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দানবীর ড. রাগীব আলী প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রবাসীরা বিদেশ থাকলেও তাদের মন পড়ে থাকে দেশে। প্রবাসীরা দেশ ও বিদেশ নানা চ্যালেঞ্জ ও হয়রানির শিকার হন। এসব মোকাবেলা করতে হলে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবো।
অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রাপ্ত দানবীর ড. রাগীব আলী ও পাশা খন্দকার এমবিই এর জীবনের নানা দিক তুলে ধরে প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রবাসে দানবীর ড. রাগীব আলীর অবদান, প্রবাসী স্টিয়ারিং কমিটি গঠনে সশরীরে উপস্থিত থেকে গঠন, কমিটির অফিসের জন্য নিজে কার্পেট, পর্দাসহ বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয় করে নিজে নিয়ে আসা, স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনে নিজে লিফলেট ছাপিয়ে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বিতরণ করেন। পরে দেশে ব্যবসা বাণিজ্যের বিনিয়োগ এবং মানবকল্যাণে অসামান্য, অনন্য ও উজ্জ্বল অবদান দেশ বিদেশে স্বীকৃত। এরজন্য তিনি সকলের নিকট দানবীর হিসেবে পরিচিত।
সম্মাননা প্রাপ্ত পাশা খন্দকার এমবিই বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশনের (বিসিএ) সাবেক সভাপতি। তিনি প্রভাবশালী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও ব্রিটিশ রাজনীতিতে লেবার পার্টির একজন নেতা। প্রবাসে কমিউনিটির উন্নয়নে তিনি ব্যাপক অবদান রেখেছেন। সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ব্রিটিশ রানীর বিশেষ সম্মাননা এমব্ইি পদকে ভূষিত হয়েছেন। দেশবিদেশ তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। অনুষ্ঠানের পূর্বে বিকেলে প্রবাসীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।




