গবেষক কলিমুল্লাহকে দেওয়ান আহবাব স্বর্ণপদকে মনোনীত
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:১৭:৩৭ অপরাহ্ন
দেশের প্রাচীনতম সাহিত্য প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ প্রবর্তিত ‘কেমুসাস দেওয়ান আহবাব স্বর্ণ পদক-২০২৬’-এর জন্য বিশিষ্ট গবেষক মো. কলিমউল্লাহকে মনোনীত করা হয়েছে। ‘কেমুসাস দেওয়ান আহবাব স্বর্ণ পদক ব্যবস্থাপনা কমিটি’র সভাপতি হারুনুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মনোনীত ব্যক্তির নাম ঘোষণা করা হয়।
ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব সেলিম আউয়ালের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, কেমুসাস ভাষাসৈনিক মতিন উদদীনআহমদ জাদুঘরের পরিচালক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধরণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহিন, কেমুসাস-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী, আল ইসলাহ সম্পাদক আহমদ মাহবুব ফেরদৌস।
প্রখ্যাত লেখক, রাজনীতিবিদ, সমাজ সংস্কারক, ভাষাসৈনিক দেওয়ানআহবাব চৌধুরী বিদ্যাবিনোদ (এমএলএ)’র স্মৃতিরক্ষা তথা অগ্রসর সমাজ বিনির্মাণে তার অবদানকে তুলে ধরা ও নতুন প্রজন্মকে তার চেতনায় উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে কেমুসাস এ পুরস্কার প্রবর্তন করেছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাহিত্য আসরকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মো. কলিমউল্লাহকে স্বর্ণপদক প্রদান করা হবে।
মো. কলিমউল্লাহ একজন পরিশ্রমী গবেষক। তিনি ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দের ৫ ফেব্রুয়ারি সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার লাফনাউট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাড়িসংলগ্ন লাফনাউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে গোয়াইনঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পিতার মৃত্যুজনিত কারণে তার শিক্ষাজীবন কিছুটা ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে জৈন্তাপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাশ করে এমসি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন। পরবর্তীতে লাফনাউট দারুল হাদিস মাদরাসা থেকে সরফ, নাহু, আদব ও ফিকাহ অধ্যয়ন করেন। তিনি ১৯৮৯ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে ২০১৭ সালে স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসরগ্রহণ করেন। চাকরিতে প্রবেশ করলেও দৈনন্দিন অফিস ও সংসারের সকল কাজ শেষ করার পর নিয়মিত ইসলামি আইনশাস্ত্র, ইতিহাস, সমাজনীতি, ন্যায়শাস্ত্র, দর্শন ও অন্যান্য বিষয়সমূহের অধ্যয়ন এবং নিয়মিত লেখালেখি করতেন। তার লেখাগ্রন্থগুলো হচ্ছে-ইতিহাস ঐতিহ্যে জৈন্তিয়া (গোয়াইনঘাট খন্ড, ২০১৭), ইতিহাস ঐতিহ্যে জৈন্তিয়া, (জৈন্তাপুর খন্ড, ২০১৮), সিলেটের প্রাচীনইতিহাস এবং মুসলিমউত্থান (২০২২), ইবনে বতুতার শায়খজালাল (রহ.) প্রকাশ ২০২৫ সাল। এছাড়া প্রকাশের পথে- আরব-সিন্ধু-বরাক, সভ্যতা-সমাজ ও সংস্কৃতি এবং সৈয়দ নাসিরউদ্দিন সিপাহসালার (রহ.) ইত্যাদি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৬ পুত্র ও ৩ কন্যা সন্তানের জনক। তারা স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।




