ইমাম-মুয়াজ্জিনদের গণভোট বিষয়ক কর্মশালায় বিভাগীয় কমিশনার
আগামীর বাংলাদেশকে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উন্নীত করা বিবেকের দাবি
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৩৯:৩৩ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী বলেছেন, বিগত ষোল বছরে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার যাঁতাকলে যারা পিষ্ট হয়েছেন, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন, জেল-জুলুম নিপীড়ন সহ্য করেছেন, খুন-গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তাদের ত্যাগের বিনিময়ে আগামীর বাংলাদেশকে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উন্নীত করা বিবেকের দাবি।
তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধানে এক ব্যক্তির হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করার সুযোগ রয়েছে। সংবিধানের এই দুর্বলতা দূর করতেই জুলাই সনদ প্রণয়ন এবং গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করে জুলাই সনদ তৈরি করেছে, যেখানে সংবিধানে সুস্পষ্ট কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে যেগুলো বাস্তবায়িত হলে একক ব্যক্তির কর্তৃত্ব থেকে রাষ্ট্র বেরিয়ে আসতে পারবে।
গতকাল সোমবার নগরীর ইসলামিক ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক জেলা পর্যায়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান প্রশিক্ষক ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী আরও বলেন, ইতিহাসে আমরা দেখি চৌদ্দশো বছর আগে একটি আইয়ামে জাহেলিয়াত ছিল। আর চৌদ্দশো বছর পরে কিছুদিন আগেও একটি জাহেলিয়াত ছিল- যার নাম আওয়ামী জাহেলিয়াত। দুই জাহেলিয়াতের মধ্যে একটা মিল ছিল।
তিনি বলেন, ইসলাম এসে আইয়ামে জাহেলিয়াতকে দূর করেছিল। তাই যেখানে মুসলিম থাকবে সেখানে কোনো অন্ধকার থাকতে পারে না, যেখানে ইসলাম আছে সেখানে কোনো ফ্যাসিবাদ থাকতে পারে না। সেজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে যাতে ভবিষ্যতে এই রাষ্ট্রে কোনো নব্য ফ্যাসিজম মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ড. সৈয়দ শাহ এমরানের সভাপতিতে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (সমন্বয় বিভাগ) মো. মহিউদ্দিন, ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি সিলেটের উপপরিচালক মো. আনোয়ারুল কাদির ও জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট জেলার সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ এহসান উদ্দিন।
প্রধান প্রশিক্ষকের বক্তব্যে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি যে গণভোট হবে, সেই গণভোটের বিষয়বস্তু ইতোমধ্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে হ্যাঁ এবং না- দুটি অপশন থাকবে। আমরা ইমাম ও খতিবদের মাধ্যমে জনগণের কাছে এই বার্তা পৌছাতে চাচ্ছি যে, জনগণের বিবেকের কাছে আপনারা এই ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ তুলে ধরুন যে, হ্যাঁ ভোটে সিল মারলে আজকের রাষ্ট্রব্যবস্থায় কী পরিবর্তন আসবে, আর না-তে সিল দিলে কী হবে- এই বিষয়টি জনগণকে বুঝানোর জন্যই এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।
তিনি বলেন, ইমাম ও খতিবরা হলেন সত্যের সাক্ষ্যদাতা। তারা দৃপ্তকন্ঠে সত্যের সাক্ষ্য তুলে ধরবেন। এ ক্ষেত্রে কেউ যদি কোনো প্রকার বাধা প্রদান অথবা হুমকি দেয়- তাহলে সাথে সাথে জেলার পুলিশ সুসারকে জানাবেন। মনে রাখবেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনরা এদেশে ভেসে আসে নাই। এরা এই মাটির সন্তান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মসজিদ ভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক মাওলানা শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলার ইমাম-মুয়াজ্জিনরা অংশ নেন।




