ঈদের ছুটিতে লাউয়াছড়ায় প্রাণের জোয়ার : ৪৮ ঘণ্টায় রাজস্ব আয় ছাড়ালো সাড়ে ৩ লাখ
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৭:০৫ অপরাহ্ন
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা : পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ যেন এবার মিশে গেছে সবুজে মোড়া লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রতিটি গাছপালা, পাহাড়ি পথের মাঝে। দীর্ঘদিনের নিস্তব্ধতা ভেঙে ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম এই জীববৈচিত্র্যময় বনাঞ্চল।
ঈদের দিন শনিবার থেকেই পর্যটকদের ঢল নামে লাউয়াছড়ায়। তবে ঈদের দ্বিতীয় দিন রোববার সেই ঢল যেন পরিণত হয় জনস্রোতে। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভ্রমণপিপাসু মানুষ ভিড় করেন এই চিরসবুজ বনে। পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে ছুটে আসেন হাজারো মানুষ।
মাত্র দুই দিনে প্রায় ২ হাজার ৯৫২ জন দেশি-বিদেশি পর্যটক প্রবেশ করেছেন উদ্যানে। এর ফলে সরকারের রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা, যা উদ্যান কর্তৃপক্ষের জন্য এক উল্লেখযোগ্য অর্জন।
ঈদের দিন ১ হাজার ৫২ জন পর্যটকের কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় দিনে প্রায় ১ হাজার ৯০০ জন পর্যটকের কাছ থেকে ২ লাখ ৬ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুউচ্চ গাছপালা, বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী আর বিখ্যাত রেললাইনের পাশের পথজুড়ে ছিল পর্যটকদের উচ্ছ¡াস। বনের ভেতরের উঁচু-নিচু টিলা, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর ছায়াঘেরা পরিবেশ যেন শহুরে ক্লান্তি দ‚র করার এক অনন্য আশ্রয় হয়ে উঠেছে। শিশুদের হাসি, তরুণ-তরুণীদের আনন্দ আর পরিবারের মিলনমেলায় উদ্যানজুড়ে তৈরি হয়েছে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ।
তবে পর্যটকের এই অতিরিক্ত ভিড়ে কিছুটা কোলাহল তৈরি হলেও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগে ভাটা পড়েনি। প্রধান ফটক থেকে শুরু করে বনের ভেতর পর্যন্ত ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে দায়িত্বরত কর্মীদের। তবুও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ ছিল সতর্ক অবস্থানে।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের টিকিট কালেক্টর শাহিন মিয়া জানান, “অন্যান্য সময়ের তুলনায় এবারের ঈদে পর্যটকদের উপস্থিতি অনেক বেশি। নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।”
সহ-ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ জনক দেববর্মা বলেন, “ঈদের ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। পর্যটকদের সেবা ও বনের পরিবেশ রক্ষায় বনকর্মী ও সিপিজি সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন।” সব মিলিয়ে, লাউয়াছড়া এবার শুধু একটি ভ্রমণকেন্দ্র নয়, ঈদের আনন্দের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।



