১৮ ঘণ্টা পর সারাদেশের সঙ্গে সিলেটের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক
সিলেটের ডাক প্রকাশিত হয়েছে : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৪৯:৫৪ অপরাহ্ন
অনলাইন ডেস্ক : ১৮ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার ও রেলপথ সংস্কারের পর রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেলস্টেশনের কাছে সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মনতলা স্টেশনের স্টেশনমাস্টার আতাউর রহমান খাদেম।
জানা যায়, জ্বালানি তেলভর্তি চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী একটি মালবাহী ট্রেন গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মনতলা রেলস্টেশন অতিক্রমকালে পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এর মধ্যে চারটি বগি লাইনের পাশে উল্টে পড়ে যায় এবং একটি বগি পাশের ডোবায় পড়ে। এতে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিষয়টি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে মধ্যরাতে আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।
দুর্ঘটনার পর পড়ে যাওয়া তেল সংগ্রহ করতে স্থানীয়দের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। যে যেভাবে পারে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিজিবি, পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
হবিগঞ্জ-৫৫ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সৈয়দ ইশতিয়াক মোরশেদ জানান, বিজিবির সদস্যরা ড্রাম ও জারিকেন সংগ্রহ করে প্রায় এক হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করে সংরক্ষণ করেছেন। এতে সরকারি সম্পদের অপচয় রোধের পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থলে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার পর দ্রুত রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করেছে। একটি বগি সেতুর নিচে পানিতে পড়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে কিছুটা বিলম্ব হয়। তিনি জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এ বি এম কামরুজ্জামান আরও জানান, লাইনচ্যুত হওয়া বগিগুলোতে ডিজেল ছিল। প্রতিটি বগিতে প্রায় ৩৯ হাজার লিটার করে তেল ছিল। এর মধ্যে দুটি বগি থেকে প্রায় ৩০ শতাংশ এবং অন্য বগিগুলো থেকে ৫-১০ শতাংশ তেল নাই হয়ে গেছে।
এদিকে রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সিলেটগামী যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিভিন্ন স্টেশনে অপেক্ষমাণ অনেক যাত্রীকে টিকিট ফেরত দিতে দেখা গেছে। স্টেশনে স্টেশনে ট্রেন আটকে থাকায় সময়সূচিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়।
নোয়াপাড়া রেলস্টেশনের যাত্রী সালাউদ্দিন বলেন, তিনি ঢাকা যাওয়ার জন্য আগেই টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন।




